প্রবলেম কি সত্যি প্রবলেমেটিক?
- আপডেটের সময়: ০৭:২১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 174
প্রবলেম কি সত্যি প্রবলেমেটিক?
প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন
প্রবলেম কি সত্যি প্রবলেমেটিক?
না রে ভাই,
প্রবলেম আমার দুধেল গাই।
আমি দুধ দোহাই,
ঘি বেচি,
আর খড়ের বিল
গরুর ঘাড়েই চাপাই।
প্রবলেমই আমার মূলধন—
যত বাড়ে সমস্যা,
তত বাড়ে আমার দর,
আমার ভাষণ,
আমার গাম্ভীর্য,
আমার পরিচয়।
আমি সমাধান বিক্রি করি না,
সমাধানের প্রতিশ্রুতি বিক্রি করি।
আমি আগুন নেভাই না,
আগুনের চারপাশে
পানির বক্তৃতা দিই।
আমি তালা বানাই,
তারপর চাবির সংকটে
মহাসভা ডাকি।
আমি দেয়াল তুলি,
তারপর জানালার স্বপ্ন বেচি।
সমাধান এলে
আমার দোকানে ধুলো জমে।
তাই সমস্যাকে শেষ করি না—
লালন করি।
পানি দিই,
ছায়া দিই,
প্রয়োজনে সারও দিই।
কারণ প্রবলেম বেঁচে থাকলেই
আমার ব্যবসা বেঁচে থাকে।
আমার বাজারে
ভয় খুচরা,
গুজব পাইকারি,
আশ্বাস কিস্তিতে,
আর সমাধান—
“শিগগিরই আসিতেছে।”
মানুষ ভাবে,
আমি তাদের ভাগ্যবিধাতা।
আমি শুধু ভয়কে
আশ্বাসের পোশাক পরাই—
তারা সেটাকেই আশা বলে।
যারা প্রশ্ন নিয়ে আসে,
তাদের দরজা আধখোলা;
যারা করতালি নিয়ে আসে,
তাদের জন্য সদর দরজা।
কারণ প্রশ্ন মানুষকে জাগায়,
করতালি ঘুম পাড়ায়।
আমি নিজের চেয়ে
জ্ঞানী মানুষের পাশে
বেশিক্ষণ দাঁড়াই না—
তাদের চোখ
মুখোশের ভেতরের মুখও
চিনে ফেলে।
একদিন প্রবলেম জিজ্ঞেস করল—
“আমার এত কদর কেন?”
আমি হেসে বললাম—
“তোকে ছাড়া
আমার বক্তৃতা খোঁড়া,
আমার মিছিল অনাথ,
আমার করতালি নিঃস্ব।
তুই-ই আমার
সবচেয়ে লাভজনক অংশীদার।”
প্রবলেম বলল—
“তাহলে আমাকে শেষ করিস না কেন?”
আমি বললাম—
“পাগল নাকি!
বীজ পুড়িয়ে
কোন কৃষক ফসল ফলায়?”
আয়নাটা সেদিনও
চুপচাপ তাকিয়ে ছিল।
আমি চোখ নামিয়ে নিলাম।
কারণ আয়নার বদঅভ্যাস—
সে করতালি দেয় না,
শুধু মুখ চিনে রাখে।
তাই আবার প্রশ্ন করি—
প্রবলেম কি সত্যি প্রবলেমেটিক?
শেষ পর্যন্ত বুঝলাম—
প্রবলেম কখনোই
প্রবলেমেটিক ছিল না।
প্রবলেমেটিক ছিলাম
আমি নিজেই।

























