সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন তিনটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ: শেখ জয়নাল আবেদীন

  • আপডেটের সময়: ০১:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 342

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, গণহত্যাকারীদের বিচার,সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাচন সবগুলো বিষয়ে আমাদের কাছে সমান। ৫ ই আগস্ট যেনতেনো একটি নির্বাচনের জন্য তৈরি হয়নি। বরং ৫৩ বছরের অপশাসন অপরাজনীতি দুর্নীতি দুঃশাসন জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক নতুন বন্দোবস্ত তৈরির জন্যই ছাত্রজনতা নির্দ্বিধায় জীবন দিয়েছিল। এবং একটি সফল বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

জয়নাল আবেদীন বলেন, জুলাই -আগস্ট এর করুন চিত্র আমরা ভুলে যাইনি এখনো মুগ্ধের পানি লাগবে পানি লাগবে সেই শব্দ আমাদের কানে বাসছে। এখনো আবুছাইদ কে গুলি করার দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে আছে। এখনো আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ১৮ জুলাই’র সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য, “এই নরপিশাচ তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি মারলি” “৪ আগষ্ট শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গে দাঁড়িয়ে শায়খে চরমোনাই’র ঐতিহাসিক ঘোষণা আগামীকাল আমরা গণভবন ঘেরাও করব জনগণের গণভবন জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবো এই জালিম হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না” এই শব্দগুলো আমরা ভুলে যাইনি। দুই হাজার শহীদ ৩০ হাজারের উপরে পঙ্গুত্বের জীবন বরণকারীদের বিচারের পূর্বে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়, এটা তো শহীদদের রক্তের সাথে,শহীদ পরিবারের সাথে বেইমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা কারা এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম আবার ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করব যেখানে থাকবে না কোন অবিচার জুলুম নির্যাতন,থাকবে না কোন হানাহানি মারামারি চাঁদাবাজি দখলদারি। এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আসুন ক্ষমতার নেশা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশকে শান্তি ও নিরাপদ অভয় আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলি। যেখানে মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা পাবে, যেখানে মানুষ তার নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে।তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান।

জেলা সেক্রেটারি কে এম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা তোফায়েল আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদ চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক কাজী রাসেল, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা।

এছাড়াও অপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান,খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, প্রেস ক্লাব সেক্রেটারি কাদের পলাশ, চাঁদপুর খবরের সম্পাদক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর দর্পণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল রুবেল।

সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাতে বলেন, ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে ফ্যসিবাদের পুনরুত্থান সহ্য করা হবে না।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন তিনটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ: শেখ জয়নাল আবেদীন

আপডেটের সময়: ০১:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, গণহত্যাকারীদের বিচার,সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাচন সবগুলো বিষয়ে আমাদের কাছে সমান। ৫ ই আগস্ট যেনতেনো একটি নির্বাচনের জন্য তৈরি হয়নি। বরং ৫৩ বছরের অপশাসন অপরাজনীতি দুর্নীতি দুঃশাসন জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক নতুন বন্দোবস্ত তৈরির জন্যই ছাত্রজনতা নির্দ্বিধায় জীবন দিয়েছিল। এবং একটি সফল বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

জয়নাল আবেদীন বলেন, জুলাই -আগস্ট এর করুন চিত্র আমরা ভুলে যাইনি এখনো মুগ্ধের পানি লাগবে পানি লাগবে সেই শব্দ আমাদের কানে বাসছে। এখনো আবুছাইদ কে গুলি করার দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে আছে। এখনো আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ১৮ জুলাই’র সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য, “এই নরপিশাচ তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি মারলি” “৪ আগষ্ট শাহবাগে ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গে দাঁড়িয়ে শায়খে চরমোনাই’র ঐতিহাসিক ঘোষণা আগামীকাল আমরা গণভবন ঘেরাও করব জনগণের গণভবন জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবো এই জালিম হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না” এই শব্দগুলো আমরা ভুলে যাইনি। দুই হাজার শহীদ ৩০ হাজারের উপরে পঙ্গুত্বের জীবন বরণকারীদের বিচারের পূর্বে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়, এটা তো শহীদদের রক্তের সাথে,শহীদ পরিবারের সাথে বেইমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা কারা এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম আবার ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করব যেখানে থাকবে না কোন অবিচার জুলুম নির্যাতন,থাকবে না কোন হানাহানি মারামারি চাঁদাবাজি দখলদারি। এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আসুন ক্ষমতার নেশা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশকে শান্তি ও নিরাপদ অভয় আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলি। যেখানে মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা পাবে, যেখানে মানুষ তার নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে।তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান।

জেলা সেক্রেটারি কে এম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা তোফায়েল আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদ চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক কাজী রাসেল, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা।

এছাড়াও অপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান,খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, প্রেস ক্লাব সেক্রেটারি কাদের পলাশ, চাঁদপুর খবরের সম্পাদক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর দর্পণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল রুবেল।

সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাতে বলেন, ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে ফ্যসিবাদের পুনরুত্থান সহ্য করা হবে না।