অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নবদিগন্ত হবে চাঁদপুর-শরীয়তপুর মেঘনা সেতু

  • আপডেটের সময়: ১০:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 134

আল-আমিন গাজী:

বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতিতে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মেঘনা সেতুর কানেক্টিভিটি হতে পারে এক দুর্দান্ত গেম চেঞ্জার ফ্যাক্টর। বর্তমানে মেঘনা নদীতে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটিতে বিদ্যমান ফেরিগুলোতে সাধারণ যাত্রীর চেয়ে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যস্ততা অনেক বেশি। যা অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত করে। এই রুটে নির্মিত মেঘনা সেতুটি হবে দেশের বন্দর ও শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে এক কার্যকর, সংক্ষিপ্ত ও সময়সাশ্রয়ী সড়ক ও রেল পরিবহন সংযোগ।

পদ্মা বা যমুনা সেতুর ন্যায় বিপুল পরিমাণ যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এটি চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে পায়রা ও মংলা সমুদ্রবন্দরের কার্যকর ও সংক্ষিপ্ত সংযোগ হবে। যুক্ত হবে আরো অসংখ্য নদীবন্দর ও স্থলবন্দর। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চলগুলোর সাথে অপেক্ষাকৃত কম শিল্পায়িত ও অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চল যুক্ত হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সাথে পূর্বাঞ্চলের সহজ ও সময়সাশ্রয়ী সংযোগ হবে। আখাউড়া ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরের সাথেও দক্ষিণাঞ্চলের সহজ সংযোগ তৈরি হবে। ফলে দ্রুত গতিতে খাদ্য, কৃষি ও শিল্প দ্রব্য দেশের দূরতম প্রাপ্তে পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে। বাড়বে শিল্পায়ন, হবে কর্মসংস্থান, কমবে মুল্যস্ফীতিও। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগে যাতায়াত সহজ হবে; পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাথে কুয়াকাটা ও সুন্দরবন যুক্ত হবে; পর্যটনে সোনালি দিগন্ত উন্মোচন হবে।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে পূর্বাঞ্চলের ১১ টি জেলার সংযোগ মিলে ৩২ টি জেলার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে রাজধানী কেন্দ্রিক যাতায়াত সুবিধা সহজ হয়েছে। কিন্তু মেঘনা সেতু নির্মাণ হলে প্রকৃত অর্থনৈতিক সংযোগ ও কর্মকাণ্ড তরান্বিত হবে। এই প্রকল্পটি এমনকি ব্যয় সাশ্রয়ীও হবে। এই প্রস্তাবিত সেতুর পূর্বপ্রান্তের চাঁদপুর অংশে ইতোমধ্যে সড়ক সংযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়ক হয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম চলে যাওয়া সম্ভব। একই সাথে চাঁদপুর থেকে হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা মহাসড়ক হয়ে দ্রুত সিলেট পৌছে যাওয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদপুর থেকে মতলব হয়ে গজারিয়া-নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে যাতায়াত হবে সহজতর। যেগুলোর সবই আগামীর শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ৫ ঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পৌছে যাওয়া সম্ভব হবে এবং ৬ ঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌছানো যাবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত সেতুর চাঁদপুর প্রান্তের খুব কাছেই রয়েছে রেল সংযোগ। ফলে সেতু হয়ে সহজেই ফরিদপুরের ভাঙায় বিদ্যমান রেল লাইন পর্যন্ত রেল সংযোগ বসিয়ে পূর্বাঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের রেল সংযোগও সহজসাধ্য ব্যাপার। এছাড়াও সেতুর পশ্চিম প্রান্তে শরীয়তপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক প্রস্তুত রয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল একটি সেতুর! প্রস্তাবিত সেতুর স্থানে মেঘনা নদীর প্রশস্ততা মাত্র আড়াই থেকে তিন কি.মি এর মত। সেতুর অবশিষ্ট অংশ পড়বে দুই প্রান্তের চর ভূমিতে। ফলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হবে না।

এই রুটে মেঘনা সেতু নির্মাণে ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই সহ নানা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা সুস্পষ্ট হয়েছে। যার ফলে সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিভিন্ন নির্মাতা সংস্থা। তাই দ্রুতই সেতুটি নির্মাণে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা দেশের অগ্রগতির জন্য এক মাইলফলক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিশ্বাস।

ট্যাগ :

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নবদিগন্ত হবে চাঁদপুর-শরীয়তপুর মেঘনা সেতু

আপডেটের সময়: ১০:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আল-আমিন গাজী:

বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতিতে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মেঘনা সেতুর কানেক্টিভিটি হতে পারে এক দুর্দান্ত গেম চেঞ্জার ফ্যাক্টর। বর্তমানে মেঘনা নদীতে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটিতে বিদ্যমান ফেরিগুলোতে সাধারণ যাত্রীর চেয়ে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যস্ততা অনেক বেশি। যা অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত করে। এই রুটে নির্মিত মেঘনা সেতুটি হবে দেশের বন্দর ও শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে এক কার্যকর, সংক্ষিপ্ত ও সময়সাশ্রয়ী সড়ক ও রেল পরিবহন সংযোগ।

পদ্মা বা যমুনা সেতুর ন্যায় বিপুল পরিমাণ যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এটি চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে পায়রা ও মংলা সমুদ্রবন্দরের কার্যকর ও সংক্ষিপ্ত সংযোগ হবে। যুক্ত হবে আরো অসংখ্য নদীবন্দর ও স্থলবন্দর। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চলগুলোর সাথে অপেক্ষাকৃত কম শিল্পায়িত ও অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চল যুক্ত হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সাথে পূর্বাঞ্চলের সহজ ও সময়সাশ্রয়ী সংযোগ হবে। আখাউড়া ও বিলোনিয়া স্থলবন্দরের সাথেও দক্ষিণাঞ্চলের সহজ সংযোগ তৈরি হবে। ফলে দ্রুত গতিতে খাদ্য, কৃষি ও শিল্প দ্রব্য দেশের দূরতম প্রাপ্তে পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে। বাড়বে শিল্পায়ন, হবে কর্মসংস্থান, কমবে মুল্যস্ফীতিও। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগে যাতায়াত সহজ হবে; পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাথে কুয়াকাটা ও সুন্দরবন যুক্ত হবে; পর্যটনে সোনালি দিগন্ত উন্মোচন হবে।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার সাথে পূর্বাঞ্চলের ১১ টি জেলার সংযোগ মিলে ৩২ টি জেলার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে রাজধানী কেন্দ্রিক যাতায়াত সুবিধা সহজ হয়েছে। কিন্তু মেঘনা সেতু নির্মাণ হলে প্রকৃত অর্থনৈতিক সংযোগ ও কর্মকাণ্ড তরান্বিত হবে। এই প্রকল্পটি এমনকি ব্যয় সাশ্রয়ীও হবে। এই প্রস্তাবিত সেতুর পূর্বপ্রান্তের চাঁদপুর অংশে ইতোমধ্যে সড়ক সংযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়ক হয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম চলে যাওয়া সম্ভব। একই সাথে চাঁদপুর থেকে হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা মহাসড়ক হয়ে দ্রুত সিলেট পৌছে যাওয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদপুর থেকে মতলব হয়ে গজারিয়া-নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে যাতায়াত হবে সহজতর। যেগুলোর সবই আগামীর শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ৫ ঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পৌছে যাওয়া সম্ভব হবে এবং ৬ ঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌছানো যাবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত সেতুর চাঁদপুর প্রান্তের খুব কাছেই রয়েছে রেল সংযোগ। ফলে সেতু হয়ে সহজেই ফরিদপুরের ভাঙায় বিদ্যমান রেল লাইন পর্যন্ত রেল সংযোগ বসিয়ে পূর্বাঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের রেল সংযোগও সহজসাধ্য ব্যাপার। এছাড়াও সেতুর পশ্চিম প্রান্তে শরীয়তপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক প্রস্তুত রয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল একটি সেতুর! প্রস্তাবিত সেতুর স্থানে মেঘনা নদীর প্রশস্ততা মাত্র আড়াই থেকে তিন কি.মি এর মত। সেতুর অবশিষ্ট অংশ পড়বে দুই প্রান্তের চর ভূমিতে। ফলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হবে না।

এই রুটে মেঘনা সেতু নির্মাণে ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই সহ নানা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা সুস্পষ্ট হয়েছে। যার ফলে সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিভিন্ন নির্মাতা সংস্থা। তাই দ্রুতই সেতুটি নির্মাণে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা দেশের অগ্রগতির জন্য এক মাইলফলক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিশ্বাস।