বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং: গবেষণার দৈন্য ও আমাদের বাস্তবতা
- আপডেটের সময়: ০৬:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / 380
মোঃ মাহমুদুল হাসানঃ
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড- এই আপ্তবাক্যটি আমাদের শৈশব থেকেই মুখস্থ। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে মেরুদণ্ডের সেই জোর মাপার আন্তর্জাতিক মাপকাঠি হলো “বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং”। প্রতি বছর যখন কিউএস (QS) বা টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) তাদের বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করে, তখন আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান দেখে জনমনে এক ধরণের হাহাকার তৈরি হয়। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সূচকগুলোতেও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রথম ৫০০ বা ৭০০ এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যখন দুষ্কর হয়ে পড়ে, তখন প্রশ্ন ওঠে- আমাদের উচ্চশিক্ষা কি তবে কেবল সনদ বিতরণের কারখানায় পরিণত হয়েছে?
*১. র্যাংকিংয়ের গোলকধাঁধা ও বাংলাদেশ*
বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি একটি দেশের মেধা সম্পদ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রতিফলন। ২০২৬ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং- এর দিকে তাকালে দেখা যায়, বরাবরের মতোই আধিপত্য বিস্তার করে আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং চীন। এশিয়ার মধ্যে সিঙ্গাপুর, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সেরা ২০০ থেকে ৫০০-র মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম, যা দেশের সর্বোচ্চ অবস্থান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবস্থান ১০০০- এর আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (৯৫১-১০০০), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (১০০১-১২০০) এবং হাতেগোনা আরমাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।
আঞ্চলিক পর্যায়ে, QS Asia University Rankings ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩২ তম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ১৪৯তম এবং বুয়েট ১৬৫তম। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
এমনকি Times Higher Education র্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ৮০১–১০০০ এর মধ্যে অবস্থান করে। অর্থাৎ, আমরা এখনো বৈশ্বিক একাডেমিক প্রতিযোগিতার মূলধারায় প্রবেশ করতে পারিনি।
কেন আমরা পারছি না? উত্তরটা সহজ কিন্তু রূঢ়- আমরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়কে স্কুল-কলেজের বর্ধিত রূপ হিসেবে দেখছি। আমরা ভুলে গেছি যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক কাজ জ্ঞান বিতরণ নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি করা। আর সেই জ্ঞান সৃষ্টির একমাত্র পথ হলো গবেষণা।
*২. বাজেটের কঙ্কালসার চিত্র: গবেষণায় অনীহা*
গবেষণার জন্য প্রয়োজন পরিবেশ এবং অর্থ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন। যেখানে ভারত ৪.৫০% ও ভিয়েতনাম ৪.১০%। ইউনেস্কোর মানদণ্ড অনুযায়ী এটি হওয়া উচিত ছিল কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বাজেটের সিংহভাগ (প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ) ব্যয় হয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন, ভাতা ও প্রশাসনিক কাজে। ২০২৬ সালের তথ্যমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ৩৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা যা মোট বাজেটের মাত্র ২.০৮ শতাংশ। যখন একটি বিভাগ বা ইনস্টিটিউট বছরে মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা গবেষণার জন্য পায়, তখন সেখান থেকে বিশ্বমানের কোনো ল্যাবরেটরি স্থাপন বা মৌলিক আবিষ্কার আশা করা আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।
*৩. গবেষণার মান ও চৌর্যবৃত্তি*
সংখ্যা বাড়লেই মান বাড়ে না- এই ধ্রুব সত্যটি আমাদের উচ্চশিক্ষায় চরমভাবে উপেক্ষিত। গত কয়েক বছরে গবেষণা ও পিএইচডি ডিগ্রির সংখ্যা বাড়লেও তার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১০,০০০+ স্কোপাস (Scopus) ইনডেক্সড পেপার প্রকাশিত হলেও এর Field-Weighted Citation Impact (FWCI) মাত্র ০.৮৫ (বৈশ্বিক গড় ১.০০)। অর্থাৎ, আমাদের গবেষণাগুলো আন্তর্জাতিক গবেষকরা খুব একটা সাইট করছেন না। ২০২৬ সালের কিউএস এশিয়া র্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশের শীর্ষ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত গবেষণা সাইটেশন ভারতের একটি মাত্র আইআইটি (IIT)-র অর্ধেক। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশের চেয়ে নামসর্বস্ব প্রিডেটরি জার্নালে টাকা দিয়ে গবেষণাপত্র ছাপানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পদোন্নতির একমাত্র শর্ত হিসেবে গবেষণাপত্র প্রকাশ থাকায় শিক্ষকরা মানসম্মত কাজের চেয়ে সংখ্যার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজারিজম আমাদের উচ্চশিক্ষার গায়ে এক বড় কলঙ্ক। সফটওয়্যার বা এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে এখন লেখা চুরি ধরা সহজ হলেও, কঠোর শাস্তির অভাব এবং রাজনৈতিক মদদে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি মৌলিক গবেষণার পথকে প্রতিহত বা রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
*৪. অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিকায়নের অভাব*
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ভালো করার অন্যতম প্রধান সূচক হলো ইন্টারন্যাশনাল আউটলুক বা আন্তর্জাতিকীকরণ। অর্থাৎ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কত শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছে এবং কতজন বিদেশি শিক্ষক সেখানে পাঠদান করছেন। ২০২৬ সালেও আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ শতাংশেরও নিচে। বিপরীতে, মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এটি ১৫-২০%। পাশাপাশি বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী গড় অনুপাত ১:৩০ (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়), যেখানে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই অনুপাত ১:১২ বা ১:১৫ রাখা হয়। আবাসন সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিদেশি গবেষকরা এখানে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
অন্যদিকে, গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরিগুলোর অবস্থা তথৈবচ বা একই। নামমাত্র কিছু ল্যাব থাকলেও তাতে কমপক্ষে ২০-৩০ বছর আগের পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। উচ্চমূল্যের বৈজ্ঞানিক কেমিক্যাল বা সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক জটিলতা গবেষণার গতিকে আরো ধীর করে দিচ্ছে।
*৫. পিএইচডি ও ফেলোশিপ*
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাত্র ৩৫-৪০% শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। অনেক বিভাগে এই হার আরও কম। কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরোও কম শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। পাশাপাশি ইউজিসি ফেলোশিপের আওতায় একজন গবেষককে মাসে যে টাকা দেওয়া হয়, তা ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য (গড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা), যা মেধাবীদের গবেষণায় আগ্রহী করছে না।
*৬. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা*
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে। কিন্তু হাতেগোনা ৫-৬টি প্রতিষ্ঠান (যেমন ব্র্যাক, নর্থ সাউথ বা ইউআইইউ) ছাড়া বাকিদের গবেষণায় কোনো বিনিয়োগই নেই। তবে এদের মধ্যে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ গবেষণায় তাদের বাজেট বরাদ্দ বড়িয়েছে। ইউজিসি-র নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আয়ের নির্দিষ্ট অংশ গবেষণায় ব্যয় করছে না। অথচ ২০২৬ সালের র্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের কারণে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে সীমিত সম্পদেও ভালো ফল সম্ভব।
*৭. ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন: অনুপস্থিত যোগসূত্র*
উন্নত বিশ্বে গবেষণার বড় অংশ অর্থায়ন করে বেসরকারি শিল্পখাত। বাংলাদেশে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী রয়েছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের সাথে তাদের কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই। ইন্ডাস্ট্রি কন্ট্রিবিউশন হিসেব করলে দেখাযায় যে, বাংলাদেশের মোট গবেষণার মাত্র ৫% আসে বেসরকারি শিল্প খাত থেকে। উন্নত বিশ্বে (যেমন দক্ষিণ কোরিয়া বা জার্মানি) গবেষণার প্রায় ৭০-৮০% অর্থায়ন করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। আমাদের কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের জন্য বিদেশের পরামর্শক খোঁজে, অথচ দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেই সুযোগ দেয় না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিকুলাম সাজাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই দূরত্ব না ঘুচলে কেবল সরকারি বাজেটের দিকে তাকিয়ে গবেষণা সফল করা সম্ভব নয়।
*৮. র্যাংকিং কি সবকিছু?*
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- র্যাংকিং কি আসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণ করে?
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে ভালো করার জন্য “মেট্রিকস গেমিং” বা কৃত্রিমভাবে প্রকাশনা বাড়ানোর কৌশল নেয়। অর্থাৎ, র্যাংকিং কখনো কখনো বাস্তব জ্ঞান উৎপাদনের পরিবর্তে সংখ্যার খেলা হয়ে দাঁড়ায়।
তাই র্যাংকিংকে পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও, এটিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
*৯. ব্রেন ড্রেইন একটি বড় সংকট*
বাংলাদেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষক বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সফল হলেও দেশে ফিরে আসেন না। কারণ হিসেবে গবেষণার সুযোগের অভাব, পর্যাপ্ত ফান্ডিং নেই, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা অন্যতম। ফলে দেশের গবেষণা ইকোসিস্টেম দুর্বলই থেকে যাচ্ছে।
*১০. আমাদের বাস্তবতা ও উত্তরণের পথ*
সত্যি বলতে র্যাংকিং নিয়ে বিলাপ করে লাভ নেই যদি আমরা আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক না করি। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমাদের কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে:-
*১. গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি:* প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে গবেষণায় বরাদ্দ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন শ্রীলঙ্কায় ৩৫%) গবেষণা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ করা। এবং পেপার প্রকাশের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
*২. পারফরম্যান্স বেসড ফান্ডিং:* যে শিক্ষক বা বিভাগ মানসম্মত গবেষণা করবে, তাদের জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ বা বড় অংকের গ্রান্টের ব্যবস্থা করতে হবে।
*৩. শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা:* রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং গবেষণার রেকর্ড এবং মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
*৪. বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাকেন্দ্রিক করতে হবে:* শিক্ষকদের Teaching load কমিয়ে গবেষণায় সময় বাড়াতে হবে এবং প্রকাশণা, PhD ও Postdoc Culture শক্তিশালী করা
*৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি:* যৌথ গবেষণা প্রকল্প, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে MoU, Co-Authorship বাড়ানো ।
*৬. সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাব:* প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ল্যাব না করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে বিভাগভিত্তিক সেন্ট্রাল রিসার্চ ফেসিলিটি গড়ে তোলা যেতে পারে।
*৭. গবেষণার মান নিশ্চিত করা:* Indexed Journal- এ প্রকাশনা উৎসাহিত করা। একইসাথে Predatory Journal বন্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করা।
*৮. ব্রেন গেইন নীতি গ্রহণ:* ব্রেন ড্রেইন এর বিপরীতে ব্রেন গেইন নীতি গ্রহণ করা। বিদেশফেরত গবেষকদের জন্য incentives, গবেষণায় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
*৯. ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন:* স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করা, যাতে গবেষণার অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকেও আসে।
*১০. পিএইচডি ফেলোশিপ:* দেশে ভালো মানের পিএইচডি করার জন্য মেধাবী ছাত্রদের আকর্ষণীয় ফেলোশিপ দিতে হবে, যাতে তারা বিদেশে চলে না গিয়ে দেশেই গবেষণা সম্পন্ন করতে পারে।
*শেষ কথা*
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল গ্র্যাজুয়েট তৈরির জায়গা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের বৈশ্বিক মর্যাদার প্রতীক। আজ চীন বা দক্ষিণ কোরিয়া যদি অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়ে থাকে, তবে তার মূলে ছিল তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলো। আমরা যদি ২০২৬ সালের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ করতে না পারি, তবে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের তলানিতে আমাদের অবস্থান চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষক সমাজ- সবাইকে একযোগে অনুধাবন করতে হবে যে, দালানকোঠা বানানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়; উন্নয়ন হলো মেধা ও মননের উৎকর্ষ সাধনে।
*“গবেষণার দৈন্য কাটিয়ে উঠতে না পারলে, র্যাংকিং নয়- জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনের স্বপ্নই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।”*
লেখকঃ প্রভাষক, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ,এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ই-মেইল: mahmud@aub.ac.bd




















