জাপানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন: জনতা-ক্ষমতাসীন দল বিভক্ত

  • Update Time : ০৮:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২০
  • / 175
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে জনমত জরিপে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন আরো তিনজন। কে হচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তা জানা যাবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর।

জাপানের সংসদীয় পদ্ধতি অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আগামী বছরের অক্টোবরের আগে জাপানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জনসমর্থন জরিপে ইশিবা পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট। প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইউশিহাইদে সুগা পেয়েছেন ১৪ শতাংশ। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পপুলার ভোট। কেয়দো নিউজের করা এ জরিপে এ তথ্য উঠে আসে।

নিক্কি টিভির জরিপ বলছে, ৬৩ বছর বয়সী ইশিবা পেয়েছেন ২৮ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনো পেয়েছে ১৫ শতাংশ। সুগা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। তিনি পেয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া ১১ শতাংশ মানুষের ভোট।

জনমত জরিপের সঙ্গে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য দলীয় সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইশিবার সঙ্গে দলীয় কিছু লোকের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, সুগা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এটা তার জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। ধারণা করা হচ্ছে এলডিপির মহাসচিব তোশিহিরো নিকাই এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সুগাকে সমর্থন জানাবে।

যদি তা হয় তাহলে ইশিবার জন্য লড়াই কঠিন হয়ে যাবে। হাতে গোনা যে কয়জন অ্যাবের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইশিবা তাদের একজন। ২০১৮ সালে পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়ে অ্যাবের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার বহু অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

আরেকজন সম্ভব্য প্রার্থী এলডিপির পলিসি চিফ ফুমিয়ো কিশিদা। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বলা হচ্ছে অ্যাবে তাকে সমর্থন করতে পারেন। দুটি জরিপেই তিনি সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গেল শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। তার পদত্যাগের ঘোষণায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে সেপ্টেম্বরের ১৩-১৫ তারিখের মধ্যে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার নির্বাচনের তারিখ ঠিক করতে বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জাপানের অন্য গণমাধ্যমগুলো বলছে ১৪ সেপ্টেম্বের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এলডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ইতোমধ্যে দলের প্রেসিডেন্টই যে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত।

তামা ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর রুল মেকিং স্ট্র্যাটেজিকের উপ-পরিচালক ব্রাড গ্লোসেরম্যান বলেন, এলডিপির অভ্যন্তরে সুগার গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনে তিনি কতোটা কারিশমা দেখাতে পারবেন প্রশ্ন থেকে যায়। ২০২১ সালের অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচন।

ব্রাড গ্লোসেরম্যান বলেন, জাপানকে সামনে এগিয়ে নেয়ার মতো দূরদর্শিতা সুগার আছে বলে আমি মনে করি না। পদবি অনুযায়ী তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তা কেবল বসের বক্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি জনসম্মুখে প্রচারে সীমাবদ্ধ ছিল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media


জাপানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন: জনতা-ক্ষমতাসীন দল বিভক্ত

Update Time : ০৮:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে জনমত জরিপে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে আছেন আরো তিনজন। কে হচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তা জানা যাবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর।

জাপানের সংসদীয় পদ্ধতি অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আগামী বছরের অক্টোবরের আগে জাপানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জনসমর্থন জরিপে ইশিবা পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট। প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইউশিহাইদে সুগা পেয়েছেন ১৪ শতাংশ। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পপুলার ভোট। কেয়দো নিউজের করা এ জরিপে এ তথ্য উঠে আসে।

নিক্কি টিভির জরিপ বলছে, ৬৩ বছর বয়সী ইশিবা পেয়েছেন ২৮ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনো পেয়েছে ১৫ শতাংশ। সুগা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। তিনি পেয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া ১১ শতাংশ মানুষের ভোট।

জনমত জরিপের সঙ্গে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য দলীয় সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইশিবার সঙ্গে দলীয় কিছু লোকের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, সুগা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এটা তার জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। ধারণা করা হচ্ছে এলডিপির মহাসচিব তোশিহিরো নিকাই এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সুগাকে সমর্থন জানাবে।

যদি তা হয় তাহলে ইশিবার জন্য লড়াই কঠিন হয়ে যাবে। হাতে গোনা যে কয়জন অ্যাবের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইশিবা তাদের একজন। ২০১৮ সালে পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়ে অ্যাবের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার বহু অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

আরেকজন সম্ভব্য প্রার্থী এলডিপির পলিসি চিফ ফুমিয়ো কিশিদা। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বলা হচ্ছে অ্যাবে তাকে সমর্থন করতে পারেন। দুটি জরিপেই তিনি সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গেল শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। তার পদত্যাগের ঘোষণায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে সেপ্টেম্বরের ১৩-১৫ তারিখের মধ্যে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার নির্বাচনের তারিখ ঠিক করতে বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জাপানের অন্য গণমাধ্যমগুলো বলছে ১৪ সেপ্টেম্বের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এলডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ইতোমধ্যে দলের প্রেসিডেন্টই যে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত।

তামা ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর রুল মেকিং স্ট্র্যাটেজিকের উপ-পরিচালক ব্রাড গ্লোসেরম্যান বলেন, এলডিপির অভ্যন্তরে সুগার গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনে তিনি কতোটা কারিশমা দেখাতে পারবেন প্রশ্ন থেকে যায়। ২০২১ সালের অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচন।

ব্রাড গ্লোসেরম্যান বলেন, জাপানকে সামনে এগিয়ে নেয়ার মতো দূরদর্শিতা সুগার আছে বলে আমি মনে করি না। পদবি অনুযায়ী তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তা কেবল বসের বক্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি জনসম্মুখে প্রচারে সীমাবদ্ধ ছিল।