নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও ৪২তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী- আগামী ১৯ মার্চ (শুক্রবার) আটটি বিভাগে একযোগে ৪১তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের ‘এমসিকিউ টাইপ’ লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১৯ মার্চ (শুক্রবার) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলবে। এ পরীক্ষা দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রবিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়ননসিংহ ৮টি বিভাগে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হল, আসনব্যবস্থা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি যথাসময়ে সংবাদমাধ্যম ও কমিশনের ওয়েবসইটে প্রকাশ করা হবে।

এদিন পিএসসি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচিও জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪২তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘এমসিকিউ টাইপে’ এই পরীক্ষা শুধু ঢাকা শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি যথাসময়ে সংবাদ মাধ্যম ও কমিশনের ওয়েবসাইট প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, ৪২তম বিশেষ বিসিএসে সহকারী সার্জন হিসেবে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। গত ২৭ ডিসেম্বর বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া কার্যক্রম শেষ হয়। এতে সাড়ে ৩২ হাজার চিকিৎসক আবেদন করেন।

অপরদিকে ৪১তম বিসিএসে এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন। এই বিসিএসে আবেদনের শেষ সময় ছিল গত বছরের ৪ জানুয়ারি। এতে মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার প্রার্থীর আবেদনপত্র জমা পড়ে। এর আগে ৪০তম বিসিএসে রেকর্ডসংখ্যক ৪ লাখ ১২ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

পিএসসি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে ৪০তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। ওই বছর ৪ লাখ ১২ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। সেটাই ছিল বিসিএস পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আবেদনের রেকর্ড। তবে ৪১তম বিসিএসে ওই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়।

২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে বিভিন্ন পদে ২ হাজার ১৩৫ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবার সবচেয়ে বেশি নেয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষায় প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেয়া হবে।

শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জন নেয়া হবে।

পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক হিসেবে ৮ জনকে নেয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হিসেবে ৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে ১৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eighteen − 14 =