প্রতিবছর শীতের শুরুতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। এ বছরও ক্যাম্পাসের ৪টি লেকে আশ্রয় নিয়েছে এরা। তবে এবার ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির আফ্রিকান কম্বডাকের। ক্যাম্পাসে ১১ বছর পর দেখা মিলল এই পাখির।

২০০০ সালে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা মেলে। এরপর মাঝে মাঝেই এই পাখি দেখা যেত। তবে ২০০৯ সালের পর আর এই পাখির দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে এই পাখির একটি ঝাঁক দেখা যায়। সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এই পাখি এসেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

আফ্রিকান কম্বডাককে নাকতা হাঁস ও বুঁচা হাস নামেও ডাকা হয়। এটি অতি বিপন্ন প্রজাতির বড় হাঁস। এই হাঁসের দেহের উপরিভাগ নীলচে কালো। পিঠের পেছনভাগ ধূসর। মাথা ও ঘাড়ে সাদার ওপর কালো রঙের ফুটকি রয়েছে। ডানার গৌণ পালক ব্রোঞ্জ রঙের। বুকের অর্ধেক জুড়ে একটি কালো রঙের ফালি। স্ত্রী হাঁস অপেক্ষাকৃত মলিন ও ছোট। এরা উড়তে দক্ষ ও ডুবসাঁতারে নিপুণ।

jagonews24

ভারত, নেপাল, সাইবেরিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদের দেখা যায়। শীতে দেশের হাওর অঞ্চলের বড় বড় জলাশয়ে এদের দেখা যায়।

৮ ও ৯ নভেম্বর ক্যাম্পাসে পাখির উপর প্রাথমিকভাবে শুমারি করা হয়। এতে ক্যাম্পাসে ৭ প্রজাতির প্রায় পাঁচ হাজার পাখি এসেছে বলে জানা গেছে। গত বছর পাখির প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৫টি। এবার আফ্রিকান কম্বডাকের সঙ্গে গার্গেনি বা জিরিয়া হাঁস জাতের পাখিও এসেছে।

অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা পাওয়ায় খুশি পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, বিরল প্রজাতির এই পাখি সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় জলাভূমিতেও এদের দেখা মেলে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত ও মানুষের উৎপাত কমানো গেলে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

17 + one =