বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন আজ (১৩ নভেম্বর)। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হলো তরুণ লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের প্রথম বই ‘হুমায়ূনকে নিয়ে’। এর প্রচ্ছদ ও ভূমিকা লিখেছেন হুমায়ূন অনুজ, লেখক, কার্টুনিস্ট ও ‘উন্মাদ’ সম্পাদক আহসান হাবীব। বইটির প্রকাশক অভয়া লিমিটেড।

রকমারি ডটকমে ১৪ নভেম্বর থেকে বিক্রি হবে ‘হুমায়ূনকে নিয়ে’। বইঘর, বাংলালিংক বইঘর, রবি বইঘর, এয়ারটেল মাই পকেটবুক অ্যাপ ও গ্রামীণফোন বইমেলা ওয়েবসাইট থেকেও ডাউনলোড করা যাবে ‘হুমায়ূনকে নিয়ে’র ই-বুক ভার্সন।

বাংলা শিল্প-সাহিত্যাঙ্গনে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একাধারে কথাসাহিত্যিক, চিত্রনাট্যকার, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার এবং আঁকিয়ে। কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৩ বছর বয়সে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান।

‘হুমায়ূনকে নিয়ে’ র কৈফিয়ত অংশে লেখক লিখেছেন, আমাদের যাদের আশি ও নব্বইয়ের দশকে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাদের এক কথায় ‘হুমায়ূন প্রজন্ম’ বলা যায়। নানাভাবে আমরা প্রভাবিত হয়েছি এই মায়েস্ত্রো দ্বারা। তার সৃষ্টি হিমু, রূপা, মিসির আলী, শুভ্র, বাকের ভাই, মজনু ব্যাপক মাত্রায় ভর করেছিল আমাদের ওপর। তাই তাকে নিয়ে লেখার একটা দায় নিয়মিতই অনুভব করেছি।

হাসান শাওন লিখেছেন, এ বইয়ে প্রকাশিত কিছু লেখা বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকীতে আগে প্রকাশিত হয়েছে। একে তাই সংকলন গ্রন্থও বলা যায়। তবে সংবাদপত্র কর্তৃক আরোপিত সম্পাদনামুক্ত এ বইয়ের লেখাগুলো। অন্য লেখা থেকে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখাগুলো আলাদা হোক, এমন ইচ্ছা থেকেই এ বই প্রকাশের ভাবনা।

বইয়ের কৈফিয়ত অংশে লেখক হাসান শাওন আরও বলেছেন, একজন জনপ্রিয় লেখক একটি পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে বদলে দেয়ার কাজ করতে পারেন। তিনি নতুন পাঠক তৈরি করেন। সে পাঠক পরে খুঁজে নেন পাঠ ভুবনে নিজের চলাচল। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাভাষী জনপদে এ কাজটি করেছেন। দেশীয় প্রকাশনাশিল্পে নান্দনিকতা ও বইমেলাকেন্দ্রিক বিপুল বাণিজ্য হয়েছে অনেকটা তার একক কৃতিত্বে। যার ঘরে কোনো বই নেই, সে ঘরেও একটি হুমায়ূন আহমেদের বই থাকে। বই কেনার যার অভ্যাস নেই, তিনিও বইমেলা থেকে এ লেখকের একটি বই সংগ্রহ করেন।

নানাভাবে সামাজিক দায়িত্বও পালন করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। ঘরে বসে প্রাণ বাঁচানোর খাওয়ার স্যালাইন তৈরির কায়দা তারই শেখানো। গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন একাধিক টিভি প্রোডাকশন। মানুষ যখন একাত্তরকে ভুলে যাচ্ছিল তখন রাষ্ট্রীয় টিভিতে টিয়া পাখির মুখ দিয়ে ‘তুই রাজাকার’ উচ্চারণের সাহস হুমায়ূনই দেখিয়েছেন, যা স্লোগান হয়ে উজ্জীবিত করেছে শাহবাগের মহত্তম আন্দোলনের শুরুতে। বিনা বিচারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া নিয়ে কটাক্ষও করতে ছাড়েননি হুমায়ূন।

‘হুমায়ূনকে নিয়ে’র প্রচ্ছদকার ও ভূমিকা লেখক হুমায়ূন অনুজ লেখক, কার্টুনিস্ট ও ‘উন্মাদ’ সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, হাসান শাওনের কাজের সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘ সময় ধরে। দাদা ভাইয়ের (হুমায়ূন আহমেদ) প্রতি ওর অনুরাগ নতুন নয়। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসান দাদা ভাইকে একটি চিঠি লিখেছিল। সেটি প্রকাশ হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে বণিক বার্তার প্রথম পাতায়। সেই লেখাটির কথা আমি কখনো ভুলব না।

আহসান হাবীব আরও বলেন, হাসান শাওনের লেখার জেশ্চার অসাধারণ। একই সঙ্গে ও একজন নিষ্ঠাবান সৃষ্টিশীল সাংবাদিক। ব্যক্তিজীবনে সংসারী হওয়া সত্ত্বেও সে বোহেমিয়ান স্বভাবের। ওর কিছু পাগলামী দেখে আমার ওকে হুমায়ূনের বই থেকে উঠে আসা এক চরিত্রই মনেহয়। বইমেলার ডামাডোলের ভেতর না গিয়ে দাদা ভাইয়ের জন্মদিনে নিজের প্রথম বই প্রকাশ করে ও তার প্রিয় লেখকের প্রতি তীব্রতর ভালোবাসাই প্রমাণ করল। ধন্যবাদ জানাতে চাই বইয়ের প্রকাশক অভয়া লিমিটেডকে। ‘হুমায়ূনকে নিয়ে’র সাফল্য কামনা করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

10 − 6 =