নিজস্ব প্রতিনিধি:
.
ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে ট্রাভেল লাভারস অফ বাংলাদেশ (TLB ) চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে চমৎকার আনন্দঘন ট্যুরের আয়োজন করেছে।
.
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রিঃ) একদিনের এই ট্যুরে চন্দ্রনাথ পাহাড়, চন্দ্রনাথ মন্দির নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, গুলিয়াখালি সী-বীচ দর্শনের সুযোগ রয়েছে।
.
খাবার, নাস্তা ও যাতায়াত ভাড়াসহ প্যাকেজ মূল্য ছিলো মাত্র ৯৯৯ টাকা। অভাবনীয় ওই সুযোগ লুফে নিলো ৪৫ জন ভ্রমণ পিপাসু।
  .
.
বৃহস্পতিবার(১৫ অক্টোবর) রাত ১২ টায় ঢাকা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্য বাস রওনা হলো।
.
টিএলবি’র গাইড মোস্তাফিজুর রহমান রতন, ইয়াসিন রানা, কায়েস আহমেদ বাস ছাড়া মাত্রই ভ্রমণের সকল কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন এবং কোন কোন স্পটে কত সময় দিতে হবে কোথায় কি করতে হবে সবাইকে সব কিছু বুজিয়ে দিলেন।
.
বাস কিছুদূর যাওয়া মাত্রই আনন্দে মেতে উঠলো সবাই। বিভিন্ন গান আর গল্পে চলতে লাগলো সবাই। আর এই ভ্রমণে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিসমাচার টুয়েন্টিফোর ডটকম( bdsomachar24) এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মহসিন হোসেন এবং সাংবাদিক মোঃ সাইফুদ্দিন, ভুট্রো সরকার, জহির উদ্দিন এর উপস্থিতিতে আরো মেতে উঠেছিল সবাই।
.
.
ভোর ৪.৩০ টার দিকে তখন আকাশ ফর্সা হয়নি বাস থামলো সীতাকুণ্ড বড়দারোগা হাটে। তারপর সবাই একটি গ্রামের রেস্টুরেন্টে নাস্তা খেলাম। আমাদের জন্য পূর্ব থেকেই টিএলবি গাইডরা লেগুনা ভাড়া করে রেখেছিল। নাস্তা খেয়েই লেগুনাতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দিকে রওনা হলাম।
.
ভোর ৬ টার মধ্যেই গন্তব্য স্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কাছে পৌঁছলাম। পাহাড়ের চূড়া প্রায় ১১৫২ ফুট উপরে এখানে উঠতে সহায়ক হিসেবে বাঁশের ৫ ফিটের মতো প্রতি খন্ড ৩০ টাকা করে কিনলাম সবাই। পাহাড়ে উঠতে গেলে বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বাঁশ ছাড়া উঠা ঠিক হবে না।
.
চন্দ্রনাথ পাহাড় জয় করে এসে চাইলে সেই বাঁশ ফেরত দেওয়া যাবে। এতে ২০ টাকা ফেরত দেয় বাঁশ দোকানিরা।
.
.
পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে শুরু করি। এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুটি মন্দির। অনেক দর্শনার্থীরা এখানে উঠে পূজা করেন। কেউ কেউ প্রসাদ নিয়ে আসেন।
.
আমরা কয়েকজন দল বেঁধে আনন্দের সঙ্গে উপরে উঠতেছি। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িগুলো বেশ খাড়া যার কারণে কিছুদূর উঠে আমরা হাঁপিয়ে উঠি। বিশ্রাম নিয়ে ফের ছুটে যাই। অনেকে খুব ক্লান্ত হয়ে সেখানে তাদের যাত্রা স্থগিত করেন। অনেকে পরিবারপরিজন নিয়ে আসেন। মূলত বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট পাহাড়ে বাচ্চা এবং বৃদ্ধদের নিয়ে না যাওয়াই ভালো।
.
পাহাড়ের মধ্যভাগে উঠে আমার প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। সীতাকুণ্ড শহরের কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশ দেখতে পেলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে ঝটপট কয়েক রাউন্ড সেল্ফি তুলে নিলাম। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখার কৌতূহল নিয়ে আরও দ্রুত বেগে ছুটতে লাগলাম পাহাড়ের চূড়ার দিকে। মাত্র একটা সিঁড়ি বাকি আমি খুব ক্লান্ত পা আর সামনের দিকে নিতে পারছি না।বেশ হাঁপিয়ে উঠলাম। মনের জোরে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম।
.
.
পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। পুরো সীতাকুণ্ড শহর দেখা যাচ্ছে। সবাই ভিডিও এবং সেল্ফি নিতে ব্যস্ত। আমরা পাহাড়ে বেশিক্ষণ সময় দিইনি। কারণ আমাদের গুলিয়াখালি সী বীচ এবং নাপিত্তাছড়া ঝরণা দেখতে যেতে হবে। পাহাড়ের উপর উঠতে দেড় ঘণ্টা লাগলেও নামতে লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। পাহাড়ে সবাই গ্রুপ ছবি তুলে আবার নিচে নামলাম।
.
এবার লেগুনায় উঠে গিয়ে গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতের দিকে রওনা হলাম। গুলিয়াখালি সী বীচের কথা আলাদা করে বর্ণনা করার মতো কিছু নেই। এই বীচের সম্মুখে বেশ কাদামাটি রয়েছে। আবার স্পিট বোর্ডের মাধ্যমে (৩০ টাকা ভাড়া) যাওয়া যায়।
.
এটি অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর একদিকে দিগন্ত জোড়া জলরাশি, অন্যদিকে কেওড়া বন দেখা যায়। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল দেখা যায়। এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এর পরিবেশ সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত। সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে করেছে অন্যন্য। এই সবুজের মাঝ দিয়েে এঁকে বেঁকে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে। পাখি, ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অন্যান্য অবস্থান দেখা যায় এই সমুদ্র সৈকতে। প্রকৃতির অপরূপ এই দৃশ্যে দেখে মন জুড়িয়ে গেল। সবাই স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলিল। আবার অনেকেই গোসল করলো।
.
.
মিরসরাই উপজেলার নয়াদুয়ারবাজার থেকে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার কাছে যেতে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। সেখানে রওনা হলাম। তবে খালি পাওয়ে যাওয়া ঠিকনা। পন্স হলেও নেওয়া উচিত। কারন দাঁড়ালে পাথরের উপর দিয়ে যেতে হলে জুতে পরে যেতে হবে। যাওয়ার পর আমরা ঝর্ণার পানিতে শরীর ভিজিয়ে স্বর্গীয় সুখের অনুভূতি পেলাম। অনেক আনন্দ আড্ডার মধ্যে শেষ হলো ঝর্ণার সময়টা।
.
বিকেল ৪ টার দিকে দুপুরের খাবার সেরে বাসের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলাম। রাত ৭টায় বাস ছাড়লো। রাত ৯.৩০ টায় কুমিল্লায় এক রেস্টুরেন্টে (নুরজাহান হোটেল) বিরতি নিলাম। তারপর ফানুস উড়িয়ে আনন্দ করলো টিএলবির ভ্রমণ পিপাসুরা।
.
রাত১২ টার দিকে আমরা ঢাকায় পৌঁছে গেলাম। দেশে অনেক ট্রাভেল গ্রুপ রয়েছে। ফেসবুকে অনেক গ্রুপ দেখেছি। তবে টিএলবির গাইড এবং পর্যটক সবাই ছিল বন্ধুর মতো। এই গ্রুপের সকলের ব্যবহার ভালোবাসা ছিল মনোমুগ্ধকর। আবার দেখা হবে কোন এক ভ্রমণে।
.

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

13 − two =