ফ্লাইট স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেধে দিলেন সৌদি প্রবাসীরা, সমাধানের আশ্বাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
.

ফ্লাইটের সমস্যা সমাধানে শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন দেশে থাকা সৌদি প্রবাসীরা। ৭ দফা দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে এ আলটিমেটাম ঘোষণা করেন তারা। এর আগে সৌদি এয়ারলাইন্সের বুকিং কার্যালয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রবাসীদের দাবি, সময়মতো সৌদি ফেরত না গেলে চাকরি হারাবেন তারা।

টিকিটের দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সৌদি এয়ারলাইন্সের বুকিং কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেন দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা। কোনো ধরনের আশ্বাস না পেয়ে সার্ক ফোয়ারার সামনে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, আমরা মার্চে দেশে ফিরে লকডাউনে পড়েছি। দেশে ফেরার সময় আমরা সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলাম। তবে যেতে পারিনি। আমাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। কয়েক দিন ধরে এখানেই আছি। দীর্ঘদিন দেশে থাকতে থাকতে সবারই বাড়িতে অনেক ধার-দেনা হয়ে গেছে। আমাদের যেতেই হবে। প্লিজ আমাদের সৌদি ফেরানোর ব্যবস্থা করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সময়মতো ফিরতে না পারলে বেকার হয়ে পড়বেন তারা।

তীব্র যানজট দেখা দিলে তাদের আশ্বস্ত করে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি এয়ারলাইন্সের বুকিং কার্যালয়ে যায়। সেখানে কোন সুরাহা না হওয়ায় ৭ দফা দাবি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও করে আবারো বিক্ষোভ করেন তারা।

পরে সমস্যা সমাধানের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেধে দেন তারা।

তবে টিকিটের সমাধান এখনই হচ্ছেনা জানিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্স বলছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে তারা। আর আকামার জন্য নতুন করে আবেদন করা হবে।

সৌদি এয়ারলাইন্স ম্যানেজার জাহিদুল আবেদিন বলেন, পৃথিবীর কোন দেশ থেকেই সৌদি আরবে যাওয়া শুরু হয়নি। আর করোনার পর এখনও যেহেতু আমাদের সার্ভিস পুরোপুরিভাবে শুরু হয়নি, তাই আমরা আশা করছি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আবারো জানিয়েছে, ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় এখনই ফ্লাইট ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোকাব্বির হোসেন বলেন,  ফ্লাইট ওপেন করার আগে ল্যান্ডিং পারমিশন নেয়া আবশ্যক। আমরা ল্যান্ডিং পারমিশন এর জন্য অপেক্ষা করছি। আমি যাত্রীদের অনুরোধ করবো যাদের কাছে বিমান বাংলাদেশের টিকেট আছে তাদের উদগ্রিব হওয়ার কারণ নাই। আমরা পহেলা অক্টোবর থেকেই আমরা সপ্তাহে আটটি করে ফ্লাইট চালাবো। যাদের কাছে আগেই আমাদের টিকেট করা আছে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা আসন বন্টন করবো,তাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন টিকেট বিক্রি করবো না।

আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানকে অনুমতি দিলেই সৌদি এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হবে।

এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ মোহাম্মদ খন্দকার জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের কাছে প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে।

টিকিটের জন্য কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করছেন হাজারো সৌদি প্রবাসী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

twelve − eleven =