নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাজধানীর উত্তরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মো. সোহাগকে (২০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ‘দি বস’ নামের এক কিশোর গ্যাং গ্রুপের দুই সদস্যকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দক্ষিণখান থানাধীন মোল্লারটেক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল।

শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, মো. সোহাগকে হত্যার অভিযোগে ‘মাহবুবুল ইসলাম ওরফে রাসেল ওরফে কাটার (২০) ও মো. হৃদয়কে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ’

শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, “গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরখানের খ্রিস্টানপাড়া রোডের ডাক্তার বাড়ির মোড়ে দি বসের হৃদয় ও রাসেলসহ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিল। সে সময় একই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি রিকশার চাকা থেকে কাঁদা ছিটকে ‘দি বস’ নামের এক কিশোর গ্যাং দলের সদস্য হৃদয়ের শরীরে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হৃদয় ওই চালককে মারধর করতে থাকেন। পরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. সোহাগ রিকশাচালককে মারধর থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এবং তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। কিন্তু এই ঘটনা মেনে নিতে না পেরে হৃদয় ও রাসেল নাদিমসহ আরো কয়েকজন সদস্যকে ডেকে নিয়ে সোহাগের ওপর চড়া হয়।’

শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘নাদিমের কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রাসেল সোহাগকে উপর্যুপরি আঘাত করে। পরে গ্রুপের সদস্যরা সবাই চলে যায়। তখন সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিকশাচালক ও স্থানীয়রা তাঁকে পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনার পরের দিন সোহাগের বড় ভাই বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।’

সোহাগের পরিবারের বরাত দিয়ে র‍্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘ঘটনার দিন সোহাগ গরুর খাদ্য কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। সোহাগ পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। এই ঘটনায় সোহাগের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।’

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে শাফী উল্লাহ বুলবুল আরো বলেন, “রাসেল উত্তরা আইডিয়াল কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করেন। এই গ্রুপের সদস্য হৃদয়ের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকে কোনো ঝামেলা হলে সে যে কাউকে পায়ের রগ কাটার হুমকি দিত। এবং সব সময় কাছে ছুরি কিংবা খুর রাখত। জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানিয়েছে, সে ষষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। পরে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করে। হৃদয়ের রাসেল, নাদিম, সানি, মেহেদি, সাদ, সাব্বিরসহ এলাকার উঠতি বয়সী কিশোরদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে সে-ই কিশোর গ্যাং ‘দি বস’ প্রতিষ্ঠা করে এবং সব সময় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এই গ্রুপটি ‘হৃদয় গ্যাং’ নামেও পরিচিত।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four × 3 =