নিজস্ব প্রতিনিধি:
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছর আগে দেশ যেখানে ছিল, সেখানে আজ নেই।
.
১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে। ছয় কোটি মানুষ আজ ফেসবুক ব্যবহার করছে। সরকারের যত কার্যক্রম তা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে করা হচ্ছে। এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ ই-মেইলের মাধ্যমে হচ্ছে। এমনকি এবার করোনা ভাইরাসের সময় প্রধানমন্ত্রী যে বিশাল অঙ্কের টাকার প্রণোদনা হিসেবে জনগণের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন, সেটাও কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং এর সাহায্যে দেওয়া হয়েছে।
.
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগীতা ২০২০ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
.
প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ১০ বছর আগে স্বপ্নেও ভাবিনি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত মহাকাশে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট পাঠাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমরা মহাকাশে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে আজ আমাদের যে তথ্য পাঠানো হচ্ছে, তা দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ করছে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজ করছে। আর এ সবকিছুসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। তার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় রাত-দিন এটার পেছনে কাজ করেছেন। আর কয়েক মাস পরে আমরা মোবাইল ফোনে ফাইভ জি ব্যবহার করবো।তিনি বলেন, তথ্য ও বিজ্ঞানে যদি আমরা অগ্রসর না হতে পারি, পরিপূর্ণতা লাভ করতে না পারি, তাহলে আমাদের সরকারের যে স্বপ্ন সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না।
.
তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের যারা তরুণ, তোমাদের বয়স কম, তবে মেধা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছাতে হলে তোমাদের ওপর সরকার নির্ভরশীল। তোমরা তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে যত ঘাটাঘাটি করবে তত জানতে পারবে। বাংলাদেশের মজবুত অর্থনৈতিক ভিত স্থাপিত করতে হলে তোমাদের প্রয়োজন হবে, কারণ ২০৪১ সালে হয়তো আমরা থাকবো না, তোমরাই সেই প্রজন্মে বিভিন্ন ক্ষেত্রে থাকবে। তোমাদের ওপর নির্ভর করবে এ দেশের উন্নতি, আবার তোমাদের দেখেই পরবর্তী প্রজন্ম জ্ঞান অর্জন করবে, লাভবান হবে।

তিনটা জিনিসের প্রতি তোমরা খেয়াল রাখবে, প্রথম: তথ্যপ্রযুক্তিতে তোমাকে সততা অবলম্বন করতে হবে, তথ্যপ্রযুক্তিতে তোমাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দ্বিতীয়: তথ্যপ্রযুক্তিতে তোমাদের আরও জ্ঞান অর্জন করতে হবে, এখানে জ্ঞান অর্জন করা খুবই সহজ। কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এমন কোনো জিনিস নেই যে জানতে পারবে না। তৃতীয়: তোমাদের মন-মানসিকতা এবং শারীরিক যোগ্যতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সারাক্ষণ যদি তোমরা মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করো তাহলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি অনেকে এগুলো (তথ্য ও প্রযক্তি) ভালো দিকে ব্যবহার না করে খারাপ দিকে ব্যবহার করছে। যাদের মন-মানসিকতা সুস্থ না তারাই এটাকে খারাপ দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে। এজন্য অনেক সময় একজনের জন্য গোটা পরিবার সমস্যায় পড়ছে এবং সমাজে তাদের সম্মানহানি হয়। তোমরা যারা তরুণ তারা তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে সততা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে, তাহলে তোমরা সাফল্যের সহিত অগ্রসর হতে পারবে। নিজেকে প্রস্তুত করো ভবিষ্যতের জন্য, তাহলেই তোমরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসেন ফয়সাল, বরিশাল সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুর রহমান মধু।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

12 + 19 =