ফিচার ডেস্কঃ দুনিয়ার জীবনে মুমিন মুসলমানের প্রতিটি কাজই এক একটি আমল। দুনিয়ার এসব আমল অনুযায়ীই পরকালীন জীবনের বিচার-ফয়সালা হবে ও প্রতিদান পাবে মানুষ। তাই নেক আমল বা আমল কবুল হওয়ার জন্য ৪টি বিষয় জেনে সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেকের জন্য খুবই জরুরি। যা মানুষের আমলকে পরিপূর্ণ ও অর্থবহ করে দেবে। তাহলো-

– ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা
দুনিয়ার জীবনে যে কোনো কাজ করার আগে সে কাজের ব্যাপারে জেনে নেয়া আবশ্যক। অজানা বিষয়ের উপর কাজ করা যেমন কঠিন। আবার তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই কাজ করার আগে সে কাজের নিয়ম-কানুন জেনে নেয়া আবশ্যক। এ জন্য দুনিয়ার প্রতিটি কাজ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।

পরকালীন জীবনে মানুষকে কবরে ৩টি প্রশ্ন ও হাশরে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে। হাশরের ৫টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া ছাড়া কোনো আদম সন্তানকেই এক কদমও এগুতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তন্মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হবে- দুনিয়ায় যে ইলম অর্জন করেছ, সে অনুযায়ী কী আমল করেছ?

সুতরাং কোনোভাবেই ভুল আমল করা যাবে না। ভুল আমল করা থেকে বেঁচে থাকতে ইলম অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা মানুষের বিশুদ্ধ ও সঠিক আমলকেই কবুল করবেন।

– বিশুদ্ধ নিয়ত করা
নিয়ত ব্যতিত আমল অর্থহীন। আমলের নিয়ত না থাকলে এর প্রতিদান যোগ হয় না। এমন অনেক আমল আছে যা নিয়ত ছাড়া কবুলই হয় না। মানুষের প্রতিটি ভালো কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। এ কারণেই হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
‘নিশ্চয়ই সব কাজই মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে।’ (বুখারি)

– ধৈর্যের সঙ্গে আমল করা
মানুষের আমলকে অর্থবহ করতে ধৈর্যের বিকল্প নেই। তাড়াহুড়ো করে কোনো আমল ইবাদত হয় না। প্রতিটি নেক আমলের জন্য ধৈর্য ও ধীর-স্থিরতা খুবই প্রয়োজন। আমল করার সময় অধৈর্য হলে মনোযোগী হওয়া যায় না।

তাছাড়া যারা ধৈর্যের সঙ্গে আমল করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত নয় বলেও কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘কসম যুগের (সময়ের)। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবর বা ধৈর্যের।’ (সুরা আসর : আয়াত ১-৩)

– আমলের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া
মনোযোগ না থাকলে কোনো আমলই ফলপ্রসু হয় না। তাই নেক আমলের জন্য একনিষ্ঠতা খুবই প্রয়োজন। দুনিয়ার সব পেরশানি থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। হাদিসে পাকে এসেছে-
‘তোমার দ্বীনকে খাঁটি বা একনিষ্ঠ কর, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’ অর্থাৎ নেক আমল অল্প হলেও হবে যদি তা একনিষ্ঠতার সঙ্গে করা হয়।

সুতরাং নেক আমলের জন্য ইলম অর্জন করা, নিয়ত পরিশুদ্ধ করা, ধৈর্যেরে সঙ্গে আমল করা এবং আমলের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া খুবই জরুরি। আর তাতে বান্দার আমল হয় পরিপূর্ণ। দুনিয়া ও পরকালের সব কাজেই বান্দা সফল হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত ৪টি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

3 + 7 =