বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সমাজকল্যাণ বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চুকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মনিটর, টেলিভিশন, টেলিফোনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে সহকর্মীরা মিজানুর রহমান বাচ্চুকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা সবাই মাস্ক পরে ছিলেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মাস্ক পরে বরিশালের বিএম কলেজে হামলা-ভাঙচুর

আহত মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকলেও মার্কশিট দেয়ার জন্য সকল বিভাগের অফিস খোলা রয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমার মুঠোফোনে কলেজছাত্র পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি কল করেন। আমাকে বলেন তার মার্কশিট প্রয়োজন। তখন আমি কলেজের বাইরে ছিলাম। দুপুর ১টার দিকে কলেজে আসি। সমাজ কল্যাণ বিভাগে ঢোকার মুহূর্তে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা ২০-২৫ জন যুবকের একটি দল আমাকে ঘিরে ফেলে।

Barishal-Attack1

তাদের মুখে মাস্ক ছিল। হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হামলা করে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হই। এরপর হামলাকারীরা সমাজ কল্যাণ বিভাগে শিক্ষকদের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তারা সিসি ক্যামেরার মনিটর, টেলিভিশন, টেলিফোন, শিক্ষকদের টেবিলের কাচ ভাঙচুর এবং অন্যান্য আসবাবপত্র তছনছ করে। পরে তারা সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে চলে যায়। অন্য বিভাগের লোকজন খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, খবর পেয়ে কলেজের শিক্ষকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও কী উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করবে পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

nineteen − seventeen =