নারায়ণগঞ্জে কারাগারে রহমত উল্লাহ (২২) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। সে রূপগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায়ী রাজু মিয়া হত্যা মামলার আসামি।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, কারাগারে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে হাজতি রহমত উল্লাহকে সদরের ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, গত ১ জুলাই কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কোর্টপাড়া এলাকার একটি বিল থেকে রাজু মিয়া (২১) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাজু উপজেলার ইছাখালী এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে।

তিনি আরও জানান, রাজুর লাশ উদ্ধারের পরদিন ২ জুলাই স্থানীয়রা রহমত উল্লাহকে গণপিটুনি দিয়ে আহত অবস্থায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে ওইদিনই আদালতের মাধ্যমে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় রহমত উল্লাহকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে রাজু হত্যাকাণ্ডের দোষ স্বীকার করে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে স্বেচ্ছায় রাজি হয়।

ওসি আরও বলেন, রিমান্ড শেষে ৫ জুলাই রহমত উল্লাহকে আদালতে পাঠানো হলে; সে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাসহ দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে ওইদিনই তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাঠানোর সময় গণপিটুনিতে আহত হওয়ার মেডিকেল সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়।

তিনি দাবি করেন, রহমত উল্লাহর মৃত্যু হার্ট এ্যাটাকে অথবা গণপিটুনিতে অসুস্থতার কারণে হতে পারে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ এ ব্যাপারে বলেন, গত ৫ জুলাই মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ ওই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করি। বৃহস্পতিবার সকালে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে আমরা তার পরিবারকে বিষয়টি জানাই এখন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে