ফাইল ছবি

ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ এটি। গত ৬-১৫ জুন প্রথম পর্যায়ের চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।

শনিবার (০৪ জুলাই) ছিলো দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের প্রথম দিন। ডিএনসিসি মেয়র এবার চিরুনি অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরও জোরদারের করেছেন।

নিয়ম না মানার কারণে কোনো ভবনে এডিসের লার্ভা তৈরি হলে এবং তার বিরুদ্ধে যথা সময়ে যদি ভবনের মালিক পদক্ষেপ না নেন তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদলতের অভিযানকালে যদি ভবনের মালিককে পাওয়া না যায় তবে ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম আরও সহজ করতে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে শিগগিরই সমন্বিত মশক নিধন ব্যবস্থাপনা বা আইভিএম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

অন্যদিকে, ৭ জুন থেকে গৃহস্থালি বর্জ্যের সাথে সংক্রামক বর্জ্য পাওয়া গেলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বিবেচনায় সেখানেও জরিমানা করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য পৃথকীকরণের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা সেটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংক্রামক বর্জ্যের ধরণ ও জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনে আজ সকাল ১০টা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ মোট ১২ হাজার ৬১৯ টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৯১ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮ হাজার ৭৬৪ টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এসময়ে ১২ টি মামলায় মোট ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজন স্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এবিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

এবারের অভিযানে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছে প্রতিটি সেক্টরকে। প্রতিদিন প্রত্যেক ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। চিরুনি অভিযানে থাকবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৬জন চিকিৎসক, ৯ জন কীটতত্ববিদ, ডিএনসিসির ৩ জন কীটতত্ববিদ এবং ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে