জাহিদ হাসান:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর দুটি স্ট্যাটাস ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আর কোনো পোস্ট/স্ট্যাটাস আমার টাইমলাইনে দেইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পা রাখতে যাচ্ছে, আবেগটা অন্যরকম। তাই একটা পোস্ট। শুরুটা সেই ১৯২১ সালে, এখন আছি ২০২০ এ। আগামীকাল ১ জুলাই ঢাবি শতবর্ষে পদার্পণ করছে, ২০২১ এ শতবর্ষ পূর্ণ হবে।
.
একশ বছর!! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন নতুন করে বলার কিছু নেই। যুগে যুগে এই জাতিকে পথ দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।” কথাটা সর্বাংশে মিথ্যে নয়। অনেকে বলে থাকেন, “ঢাবি তার প্রথম পঞ্চাশ বছরে তার সেরাটা দিয়ে ফেলেছে।” এটিও সর্বাংশে মিথ্যে নয়। ঢাবি তার জৌলুস হারিয়েছে, এটা সাদা চোখেই দেখা যায়। তবে ঢাবি কেনো তার জৌলুস হারিয়েছে বা হারাচ্ছে, সেই আলাপ অন্য আরেকদিন করা যাবে।
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড কিনা জানিনা, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে বাংলাদেশের অক্সফোর্ড এটা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, তবে সমালোচনাই বোধহয় বেশি হয়। কেনো বেশি হয়, কারণটাও জানি। তাই বাংলার বাঘ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি, “শেওড়া গাছে কেউ ঢিল মারে না। সবাই আম গাছেই মারে। আর আম গাছের জাতটা ফজলী হইলে ঢিলটা আরও বেশি মারে।”
.
আমার এলাকার এক কৃষক চাচা দেশের অন্য কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম না জানলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামে দেশের কোথাও একটা কিছু আছে, এটা তিনি জানেন। তাই বলি, “প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিকে বড় করে না। ব্যক্তিই প্রতিষ্ঠানকে বড় করে তোলে।” এইবার আমার চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কিছু বলি। তাহলে বলতে হয়, “চেয়েছিলাম অনেক কিছুই, পাইলাম তো খুব সামান্যই।”
.
দিনশেষে যাই হোক, এই প্রতিষ্ঠানটার প্রতি আমার আবেগ, শ্রদ্ধা এক বিন্দুও কমেনি; বেড়েছে। এখন ক্যাম্পাসে থাকার কথা ছিল, করোনা সব ওলট-পালট করে দিলো। বেঁচে থাকলে ২০২১ তো আছেই, ইনশাআল্লাহ্। শুভেচ্ছা নিও, প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লেখক: শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ (সেশন: ২০১৮-১৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
.

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে