নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এনামুল হক মিঠু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

৩০তম বিসিএস ক্যাডারের এই পুলিশ কর্মকর্তা করোনার শুরু থেকেই অসহায় মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও নিজ বিভাগের আক্রান্ত সদস্যদের কাছে ফলমূল পৌঁছে দিচ্ছিলেন। নিজে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।

আজ সোমবার এনামুল হক মিঠু করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হন। যদিও গত শুক্রবার থেকেই তিনি আইসোলেশনে আছেন।

বিকেলে এনামুল হক মিঠু জানান, ‘মতিঝিল, খিলগাঁও, কমলাপুর স্টেডিয়ামসহ নানাস্থানে ছিন্নমূল এবং হতদরিদ্ররা কিন্তু একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁরা না পারছেন বলতে, না পারছেন সইতে। সেজন্য আমি নিজ অর্থায়নে যতটুকু পেরেছি ওইসব মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বাইরে থেকে তাঁরা খাবার নিতে পারবেন না ভেবে ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছি। মানুষের কাছাকাছি যেতে গিয়ে শেষে নিজেই আক্রান্ত হলাম।’

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিঠু বলছিলেন, ‘যদিও আমার একার পক্ষে বেশিক্ষণ এভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

অনেক সময় বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়েছি। এ ছাড়া আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ২০০৫-০৬ সেশনের বন্ধুরা মিলেও নিয়মিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আজ আমার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা পজিটিভি এসেছে। যদিও শুক্রবার পর থেকে আমি হোম আইসোলেশনে আছি। কিন্তু ঈদের আগে আরো দুটো দিন সময় পেলে অন্তত কিছু দরিদ্র মানুষকে ঈদ উপহার দেওয়া যেত। ইচ্ছে ছিল কিন্তু পারলাম না।’

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে বাংলাদেশ পুলিশের আরো ১৮৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট তিন হাজার ৯১৮ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ভেতরে শুধু ডিএমপিতেই আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৯৪ সদস্য। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার আটজন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই হাজার ৫২৪ জন। এ ছাড়া করোনা প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে এখনো পর্যন্ত ১৪ জন পুলিশ জীবন দিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে মানুষের সেবা করতে গিয়ে একক কোনো বাহিনী হিসেবে পুলিশে করোনায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। তবুও আমাদের এখন থেমে থাকার সময় নয়। সব বাধাকে উতরে আমাদের এভাবেই কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু যাতে আক্রান্তের হার কমে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে