নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারাদেশে আজ কর্মহীন, ছিন্নমূল মানুষগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষ গুলো দিনের পর দিন না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমতাবস্থায় এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন।

রাজধানীতে এক পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক দৃশ্য চোখে পড়ার মত। রাত তখন ১০.০০ টা একটি ভ্যানে খাবারের প্যাকেট আর সাথে বসা দুজন মানুষ। ভ্যান চালক একটু থামায় আর ঔ মানুষ দুজন কাছে গিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শুয়ে থাকা লোকগুলোকে ডেকে জাগায়,আর বলে কেমন আছেন আপনার জন্য রান্নাকরে খাবার নিয়ে এসেছি, লোকগুলো যেন ক্লান্ত, উঠে বসার শক্তিও হারিয়ে ফেলছেন, খাবার পেয়ে মনে হয় প্যাকেট ছিরে তরিগরি খাওয়ায় ব্যাকুল প্রায়। আর দুহাত তুলে মোনাজাত ধরে বিরবির করে কি যেন বললেন।

এরকম দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর শান্তিনগর, আরামবাগ, মৌচাক মালিবাগে।

যেই পুলিশ কর্মকর্তা এই মানবিক কাজ করেছেন তিনি হলেন এসবির, উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হান্নান।

দেশে করোনার শুরু থেকে আজ ২/৩ মাস পর্যন্ত এ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ দৃশ্যটি দেখে বিডিসমাচার এর প্রতিনিধি তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মুখ খুলতে রাজি হন নাই।পরে তার সাথে থাকা সহকর্মী আঃরহমান ও ভ্যান চালক তার সম্পর্কে বলেন, তিনি করোনা শুরু থেকে নিজের বেতন রেশন দিয়ে খাবার রান্নাকরে প্রায়ই পথ শিশু ও ছিন্নমূল মানুষদের রান্না করে খাবার দেন।

বিশেষ করে রাস্তার পাশে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলোর রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তৈরি খাবার না দিলে তাদের না খেয়ে থাকা লাগে। কারন না আছে তাদের মাথার উপরে চাল, না আছে রান্না করার হাড়ি,পাতিল, চুলা।
এরা বিভিন্ন দোকানে হোটেলের ফালানো খাবার খেয়ে বাঁচাতো তাদের জীবন।
আর করোনার কারনে এখন তো সবই বন্ধ। তাই তিনি এই ধরনের লোকদের চিহ্নিত করে রান্না করেই খাবার দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে এসআই নাজমুল হান্নান বিডিসমাচার এর এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমি একজন বাংলাদেশ পুলিশের সামান্য কর্মচারী বর্তমানে এসবি,ঢাকায় কর্মরত আছি,এই বিষয় আমি মন থেকে ভালোলাগে তাই সামর্থ অনুযায়ী ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে আমার বেতন, রেশন,বোনাস দিয়ে সেবা করার চেষ্টা করছি।
আর আমি মনে করি এটাই হবে আমার পরিবারে ঈদ আনন্দ, এটা একটু কষ্টসাধ্য, কারন রান্না করে খাবারটি দিতে হয়, বাসায় আমার মা এবং স্ত্রী এটা তৈরি করে দেয়, তা না হলে আমি এভাবে দিতে পারতাম না। এটা লোক দেখানোর কোন বিষয় নয়, বিষয়টি মানবতার তাই তিনি কখনো কাহাকেও জানানোর বা দেখানোর পক্ষেও নন।

সাথে থাকা তার সহকর্মী আঃ রহমান বলেন, এসআই নাজমুল হান্নান এবং আমার বাড়ি একই এলাকায় পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তিনি নিজ এলাকায় অসহায়দের জন্যেও নানা উপকারের চেষ্টা করেন,বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসায় নিজে চেষ্টা করে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ এনে দিয়েছেন। ইহা ছাড়া লোহালিয়া গ্রামে তার পারিবারিক মূল্যবান জমি বিনামূল্যে দানকরে দেন সরকারকে, সেখানে বর্তমান সরকার তৈরি করেন একটি কমিউনিটি ক্লিনিক যা দ্বারা এলাকায় এই করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সরকারি ভাবে বিনামূল্যে অনেক ঔষধ ও সেবা পাচ্ছেন এবং অনেক উপকৃত হচ্ছেন।

এসআই নাজমুুল হান্নান বলেন, মানবিক কাজ করতে পেরে আমার ভালো লাগছে। আমার এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে