নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাস বিপর্যয়ে বাংলাদেশ অনেকটাই অঘোষিত লকডাউন অবস্থায় আছে। বন্ধ হয়ে গেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও। যেই ঢাবি ক্যাম্পাস ২৪ ঘন্টা গমগম করতো ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে সেই ক্যাম্পাসে এখন রাজ্যের শূণ্যতা বিরাজ করছে। এই শূণ্যতার মাঝে বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান।
শহরের দোকানপাটেও শক্ত তালা আঁটা। খুলছে না কিছু। কিছু ওষুধ আর খাবারের দোকান ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের দোকানেরও একই অবস্থা খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া বারণ। কিন্তু এই শহরে মানুষ ছাড়াও তো অনেক প্রাণির বাস। কুকুর, বিড়াল, কাকসহ নানান পাখি। এদের কথা কি কারো মনে আছে? আমাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে যাদের জীবন বাঁচে, তারা এখন কী খাচ্ছে? কেউ না কেউ তো ভাবছেনই অনাহারি এসব প্রাণিদের নিয়ে। পথের এসব কুকুরের ক্ষুধা নিবারণে কাজ করছে কিছু তরুণ। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে খাবার কিনছে। বিলিয়ে দিচ্ছে প্রাণিগুলোর মুখে।
Image may contain: one or more people, dog and outdoor
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তেমন এক পশুপ্রেমী। গত কয়েকদিন ধরে খুঁজে খুঁজে অনাহারী কুকুরগুলোর মুখে তুলে দিচ্ছেন খাবার। তার সঙ্গে আছেন আরও আছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আল আমীন।তাছাড়াও তাদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উদ্যমী সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
মাহমুদুল হাসান আওয়ার ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সারাদিন না খেতে পারা জন্তুগুলোর মুখগুলো দেখে খুব কষ্ট হয়। সবচেয়ে কষ্ট হয় পানির জন্য তাদের তৃষ্ণা দেখে। পানির কল বন্ধ থাকায় ওই এরিয়ায় পানি পান করার কোনো উপায়ই নেই।
মাহমুদুল হাসান জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাকিম চত্বর, টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন এলাকা, সমাজবিজ্ঞান চত্বর, কলাভবন এলাকা, শ্যাডো ক্যাফেটেরিয়ার সামনে, মল চত্বর, সূর্যসেন, মহসিন, এফআর, জহুরুল হক হলের কুকুরগুলোকে খাবার দিচ্ছেন তারা। এছাড়া তারা কিছু বাছাইকৃত দিনমজুরদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমাজে যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন মাহমুদুল হাসান।
Image may contain: 1 person, standing, dog and outdoor
বলেছেন, ‘ছিন্নমূল মানুষের মতো এদেরও প্রাণ। এই দুর্যোগের সময় তাদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব আছে। সমাজের বিত্তবান, স্বচ্ছল ব্যক্তিরা যদি এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমাদের কাজটি আরও সহজ হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে