প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গত ১০ বছরে দেশজুড়ে অনেক উন্নয়ন করেছে সরকার। এছাড়া অনেক উন্নয়নপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরও আমরা অনেক প্রকল্প নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। সরকার বদল হবে, কিন্তু উন্নয়নপ্রকল্প যেন বন্ধ না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে অনেক মেগাপ্রকল্প চলছে। এসব মেগাপ্রকল্পে অনিয়ম হলে আমি কাউকে ছাড়বো না। কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, দুর্নীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে যে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ শতাংশ, তা আমরা ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, এরপর বৈশ্বিক মন্দা ছিল, আমরা সেই প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে দেইনি। আগে অন্যের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো। এখন আর কারও কাছে হাত পাততে হয় না। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখাতে এখন এটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো। ২১০০ সালের জন্য আমরা ডেল্টা প্ল্যান করে বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছি। একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা হাই-ফাই থাকবো, গ্রামের মানুষ থাকবে না, তা হবে না। শহরের মতো গ্রামেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।

 

দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালে মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার এসে তা ৩২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে আমরা সরকার গঠন করে সেই ৩২০০ মেগাওয়াট থেকে ফের যাত্রা শুরু করে এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি।

স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। এদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বঙ্গবন্ধু আজীবন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দেশ স্বাধীনের পরে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পান। এক বিধ্বস্ত অবস্থায় শূন্য হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। শহীদ পরিবার, শিক্ষার্থীদের, সাধারণ নাগরিকদের, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, খাদ্য নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তার এই নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার ফলেই বাংলাদেশ অতি অল্প সময়েই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়েছিল।

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা ভোট দিয়েছে, যারা দেয়নি, তা দেখা যাবে না; একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক উন্নয়ন করতে হবে। জনতার আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাস এখনও আমাদের দেশে আসে নাই। তারপরও এজন্য আমরা আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছি। ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় এখন থেকেই মশা নিধনে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মুজিববর্ষের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৭ মার্চ মুজিববর্ষের ছোট একটা অনুষ্ঠান হবে। উপস্থিত দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের দাওয়াত দিচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের দাওয়াত থাকলো। সবাই ডিসিপ্লিন মেনে আসবেন। বছরব্যাপী অনুষ্ঠান হবে। সবাইকে হয়তো কার্ড পৌঁছানো সম্ভব হবে না। কিন্তু আপনারা আসবেন। সবার জন্য জায়গা থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে