নয়ন হালদার, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলা একাডেমি অমর একুশের গ্রন্থমেলায় জমজমাট হয়েছে এবার পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একইদিনে,সপ্তাহ ছুটির দিন পড়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে উৎসর্গ করে বড় পরিসরে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ আয়োজন করা হয়েছে।শিশু -কিশোর চত্বরে প্রচন্ড ভির রয়েছে,ও চিত্রাঙ্কন বির বইয়ে স্টলে অনেক বির পড়েছে, মানুষের ঢল পঠেছে,হলুদ শাড়ী, পাঞ্চাবি পড়ে বেশ খুশি প্রকাশক করেছে। বাংলা একাডেমি থেকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২০’ শুরু হয়েছে। মেলা চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। ছুটির দিন মেলা খোলা থাকবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে সেমিনার হবে। মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাতির পিতাকে নিয়ে ২৫টি বই প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। নতুন এসব বই নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এবারের মেলায় নতুন ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল দেওয়া হয়েছে। বেড়েছে প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১২টি। গতবার ছিল ১১টি।
এবার এ প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ২৩টি। এবার পহেলা ফাল্গুন- বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণে এখন থেকে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস একইদিনে পালন করা হবে।এতোদিন ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন পালিত হতো, আর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় ভালোবাসা দিবস। তবে এখন থেকে দুটি দিবসই বাংলাদেশে একই দিনে পড়েছে। গত বছর ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে ২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকার অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটির তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ঐতিহাসিক দিবসগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধন আনা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীও বিবেচনায় আনা হয়েছে জানান তিনি। সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বাংলা বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে। সে হিসেবে পহেলা বৈশাখ আগের মতোই ১৪ এপ্রিল থাকবে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের মোট ৬টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। গ্রন্থমেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীবৃন্দ।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে ৩ শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধুলিনাশক পানি ছিটানো এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা করেন।
গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ২৫টি নতুন বই নিয়ে আলোচনা করা হবে। একুশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী একুশে বক্তৃতা। এছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিদিনই রয়েছে কবিকন্ঠে কবিতাপাঠ এবং আবৃত্তি। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে