আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন মিয়ানমার যথাযথভাবে এসব আদেশ মেনে চলবে।

এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যা রোধে মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্র্বর্তী আদেশকে যুক্তরাজ্য ও সুইডেনও স্বাগত জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য বলেছে, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে হবে। আর সুইজারল্যান্ডের প্রত্যাশা, আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশ মিয়ানমার খুব দ্রুতই বাস্তবায়ন করবে। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, আদালতের বিধান অনুসারে, আদালতের আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাবেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক ব্রিটিশমন্ত্রী হিদার হুইলার বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা মেনে নিতে এবং কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে তারা উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে।

এগুলো মেনে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আদালত এটা স্পষ্ট করেও দিয়েছেন। আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশকে স্বাগত জানিয়ে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি মিয়ানমার অবশ্যই এ আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

শুক্রবার এক টুইটে তিনি বলেন, আইসিজের আদেশ মিয়ানমারের বিচার ও জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর পুনরায় অত্যাচার নির্যাতন বন্ধে এটি একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মিয়ানমারের করা আপত্তি খারিজ করে দিয়ে আইসিজে চার দফা আদেশ দেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-আইসিজে) অন্তর্বর্তী আদেশে বলা হয়, রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার চলবে।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেন কোনো গণহত্যায় না জড়ায়, উসকানি না দেয়, কিংবা নির্যাতনের চেষ্টা না করে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য মিয়ানমারের গৃহীত ব্যবস্থাগুলো আগামী চার মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাস পরপর আদালতকে জানাতে হবে।

রাখাইনে এখনও ছয় লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের সুরক্ষা দিতে আদেশে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুল কোয়াই আহমেদ ইউসুফ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এ আদেশ পড়ে শোনান। এ সময় অপর ১৪ জন স্থায়ী বিচারপতি এবং দু’জন অ্যাডহক বিচারপতি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এ নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি হয়।

১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দল আদালতে গণহত্যার বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে মামলার প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আবু বাকার তাম্বাদু।

১১ ডিসেম্বর মিয়ানমারের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সরকারপ্রধান অং সান সু চি। সেখানে তিনি তার দেশের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে