অলিউর রহমান মেরাজ,নবাবগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক। দেশের অন্যতম একটি তৈল জাতীয় খাদ্যের নাম সরিষা।
চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলায় উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে উঠা গাছ আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার কৃষকরা। মাঠে মাঠে বির্স্তীন এলাকায় দৃষ্টি জুড়ে শুধুই হলুদের সমারোহ। ফুলে ফুলে ভরে গেছে সরিষা ক্ষেত। সরিষার মাঠে ইতোমধ্যে দেখা মিলছে মৌমাছির মধু আহরণের দৃশ্য। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষী অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলার হেয়াতপুর গ্রামের সরিষা চাষী আঃ সালাম জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। সরিষার গাছ ভাল হয়েছে। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। আমি কয়েক বছর থেকে সরিষা চাষ করছি , সরিষার জমিতে ধানের আবাদও ভাল হয় এবং বোরো চাষে খরচ কম হয়।
দাউদপুর গ্রামের মোঃ ইউনুছ আলী জানান, এই বছর প্রথম সরিষা চাষ শুরু করেছি । এবার আমি ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি আশা করছি ভালো ফলন হবে । নবাবগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান নবাবগঞ্জ উপজেলা সরিষা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৯’শ ৮৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সরিষা চাষের জন্য এ মৌসুমে ৪‘শ ৫০ জন কৃষক কে সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরিষার ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে