জি এম শরীফ মাছুম বিল্লাহ:
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে আগামীকাল ১৩ জানুয়ারী হাইমচর উপজেলায় এই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে তিন জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, আট জন ভাইস-চেয়ারম্যান ও দুই জন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৮০ হাজার ২৩৪জন। পুরুষ ভোটার ৪১ হাজার ৪১৭ এবং নারী ভোটার ৩৮ হাজার ৮১৭জন। ৩১টি ভোট কেন্দ্রের ২শ’ কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে এসব উপজেলায় আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। আজ নির্বাচনী উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পাঠানো হবে। যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় এলাকাগুলোতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দিতে শুরু করেছেন। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ভোট গ্রহনের দিন ৩ প্লাটুন বিজিবি, ২ প্লাটুন কোষ্টগার্ড, পর্যাপ্ত র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে নিরাপত্তায়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। সরেজমিনে গিয়ে এলাকার বিভিন্ন বয়সি ভোটারদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। যেভাবেই হোক ভোটারাধীকার প্রয়োগের অধিকার যেহেতু পেয়েছি এর প্রয়োগ ভেবে চিন্তেই করবো। এ সময় ভোটাররা এক জানান, দেশে অধিকাংশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পেশি শক্তির ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভোটারাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমরা হাইমচরবাসী কোন পেশি শক্তি ব্যবহারকারীদের সমর্থন করবো না। আমরা পেশি শক্তি নয় চাই ভোট যুদ্ধের নিরব বিপ্লব।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন- বিগত দিনে উপজেলা পরিষদের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। হাইমচরকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, প্রাতিষ্ঠানিক ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র, চরাঞ্চলে গুচ্ছগ্রাম সহ নানা ধরনের সংস্কার ও উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন- চাঁদপুর ৩ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব ডাঃ দিপু মনির সার্বিক সহযোগিতায় অসহায়, গরীব, দুঃখী মেহনতী মানুষ, যাদের ভিটে-মাটি আছে কিন্তু ঘর নেই তাদেরকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া সহ হাইমচরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার নিমিত্তে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন পাবো।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসহাক খোকন বলেন, জনমত জরিপে দেখা গেছে হাইমচরে সিংহভাগ ভোটার ধানের শীষের পক্ষে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে সর্বস্তরে ধানের শীষের প্রচারনা অব্যাহত রেখেছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আমি সন্তোষজনক ফলাফল পাবো বলে আশাবাদী। কারণ এই উপজেলায় বিএনপির অনেক ভোটার রয়েছেন। আনারস প্রতিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মোতালেব জমাদার বলেন- হাইমচরে আমার রাজনীতির বয়স ৪৬ বছর। দলের সুসময় ও দুঃসময়েও আমি দলকে আঁকড়ে রেখেছি। সর্বদাই জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সর্বস্তরের জনগণ ও নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আমার গণসংযোগ ও প্রচারনায় নির্বাচনে ভালো একটি ফলাফল পাবো বলে আমি আশাবাদী।
এমতাবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সাংসদ, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২০ রিটার্নিং অফিসার এবং গনতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি। হাইমচর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রিপন হোসেন বলেন, ইভিএম পদ্ধতি ভোটারদের কাছে নতুন হওয়ার কারণে আমরা মাসের শুরু থেকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং হিসেবে দায়িত্বপালনকারী সকলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ১১ জানুয়ারি একযোগে উপজেলার ৩১ কেন্দ্রে মক ভোটিং হবে। এর জন্য উপজেলায় প্রচার প্রচারণা ও মাইকিং করা হয়েছে। যে কোন ভোটার এইদিন এসে ইভিএম এ ভোট প্রদান পদ্ধতি শিখতে পারবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাইক প্রতিকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী, তালা প্রতীকে মোঃ কামরুল হাসান বেপারী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাঁস প্রতীকে শাহনাজ বেগম, ধানের শীষ প্রতীকে ফাতেমা বেগম অংশগ্রহণ করছেন।
নৌকা, ধানের শীষ ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীগন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকের-ই ধারনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নৌকা, ধানের শীষ ও আনারস প্রতীক খুব কাছাকাছিতে অবস্থান করবে। কেউ কেউ বলেছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী প্রবীন রাজনীতিবিদ মোতালেব জমাদারও খুব বেশি ভোটের ব্যবধানে থাকবেন না। তবে হাইমচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, সকলের অতীত, বর্তমান হাইমচরবাসীর কাছে স্পষ্ট। তাই সকল ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিয়মান হয়, যার মাধ্যমে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সেবা পাবে, ঝড়-বৃষ্টি-শীত-বন্যা উপেক্ষা করে যিনি জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে এবং যার মাধ্যমে জনগণ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে আগামী ১৩ জানুয়ারি তাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে