জুয়েল রানা, জিটিসি প্রতিনিধিঃ
মোঃ ইসমাইল হোসেন সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্য সবার মত স্বাভাবিক নয় তার জীবন। জন্মগতভাবে সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মের পর থেকেই নেই তার শরীরের অর্ধেক অংশ। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। অন্যদিকে তার পরিবারের অবস্থাও খুব বেশি সচ্ছল নয়।
তার এই ক্ষুদ্র অথচ সংগ্রামময় জীবনে রয়েছে অনেক বাঁধা-বিপত্তি আর প্রতিকূলতার গল্পে ভরপুর। জীবনের বাঁকে বাঁকে এমন অনেক সময় এসেছে যে ইসমাইল চাইলেই পারতো অন্য প্রতিবন্ধী মানুষের মত ভিক্ষাবৃত্তি বেঁছে নিতে। কিন্তু যারা ইতিহাস গড়তে আসে তারা গতানুগতিকতাকে উপেক্ষা করে জীবনের উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত বাঁধা উপেক্ষা করে।
ইসমাইল হোসেনও জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়া এক সংগ্রামী। যে স্বপ্ন দেখে নিজেকে প্রমাণ করার, স্বপ্ন দেখে সমাজকে পরিবর্তনের। সে মানুষের করুণা নয় সম্মান চায়। সাহায্য নয় সুযোগ চায় তাকে প্রামাণ করতে দেয়ার। সমাজের একজন আদর্শ ব্যক্তি হয়ে এটাই প্রমান করতে শারীরিক ভাবে কিছুটা ভিন্ন হলেও স্বপ্ন পুরণের সংগ্রামে তিনি অন্যদের মতোই অদম্য বা তারচেয়েও বেশি।
স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য সে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছোটখাটো কিছু কাজের চেষ্টাও করে যাচ্ছে। কিন্তু তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সেভাবে সুযোগ পাচ্ছেনা এই সংগ্রামী। সে কারোর সাহায্য চায়না বরং সে ভালো কিছু করার সুযোগ চায় যেন নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করতে পারে।
এগিয়ে যাক এসব স্বপ্নচারী সংগ্রামীরা। তিতুমীরের গর্ব এসব চির সংগ্রামী, যারা শত বাঁধা-প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিভৃতে নিরন্তর ছুটে চলছে তাদের স্বপ্নের দিকে। তারা করুণা বা সাহায্য নয় সুযোগ এবং সম্মান চায়। শ্রদ্ধা জানাই তাদের এই সংগ্রামকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে