শাওন পাটওয়ারী, চাঁদপুর :
চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার হরিসভা মোলহেডে মেঘনার ভাঙ্গনে এক রাতের মধ্যেই ৮টি বসতভীটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজেষ্টেট উজ্জল হোসাইনের তত্বাবধায়নে মজুদকৃত ৩ হাজার বস্তা জিও টেক্সটাইলে বালু ভর্তি বস্তা ডাম্পিং চলছে। হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বাধ সহ ৯টি বাড়ি ও বসতভিটা।
গত ১৪ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই আকস্মিক পুরানবাজার হরিসভা এলাকার শহর রক্ষা বাধে (মোলহেডে) সিসি ব্লক দেবে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেবে যেতে থাকে একের পর এক সিসি ব্লক।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তাৎক্ষনিক আগের মজুদকৃত ৩ হাজার বস্তা জিও টেক্সটাইলে বালু ভর্তি বস্তা ডাম্পিং করা শুরু করে। ততক্ষনে এক রাতে ৮টি বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গন থেকে বাঁচতে তাৎক্ষনিক শ্যামল রায়, দুখু ঘোষ, ভুলু ঋিসি,সুভাষ ঋসি, নারায়ন ঘোষের বসত ঘর ও সাহাদাত পাটওয়ারীর টং দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দিন রাত সমান তালে বালু ভর্তি বস্তা ফেলানোর কাজ চলেছে।
এদিকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কাজ দেখতে মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে যান জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি ডাম্পিং এর খোজ খবর নেন।
এদিকে ঘটনার দিন খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান (পিপিএম বার), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারন সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্টেট মোঃ জামাল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারন সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি।
গত দুই মাস পূর্বে আচমকা একই সময়ে হরিসভা মন্দিরের সামনে দিয়ে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়। ওই ভাঙ্গনে হরিসভা মন্দির ও কমপ্লেক্স, লোকনাথ মন্দির, জগন্নাথ মন্দির সহ পুরো এলাকাটি হুমকির মুখে পড়ে। তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসন, পানি সম্পদ মন্ত্রী সহ উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই স্থানটিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বিধিবাম সোমবার সন্ধ্যার পূর্ব থেকেই হরিসভা মন্দিরের উত্তর ও পশ্চিমাংশে মেঘনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধে বসানো সিসি ব্লকগুলো নদীতে দেবে যেতে শুরু করে। আর এতে করে শ্যামল রায়, দুখু ঘোষ, ভুলু ঋষী, সুভাষ ঋষী, নারায়ন ঘোষের বসত ঘর সহ ৮টি বসত ভিটা নদীতে তলিয়ে যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে