বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সবোর্চ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেন এ কথা জানান ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এ সময় শের-ই-বাংলা হল প্রশাসনের গাফিলতির তদন্তের দাবি জানান জয়।
এর আগে সকাল থেকে এ হত্যার প্রতিবাদে বুয়েটে বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তড়িৎ প্রকৌশল পরিবারের ব্যানারে মৌন মিছিল করেন বুয়েটের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আবরার হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, আমাদের পূর্বোক্ত আটটি দাবির সঙ্গে আরও দু’টি দাবি যুক্ত করা হয়েছে। ১০ দফা দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’ স্লোগানে শহীদ মিনার চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সোমবার বিকেল থেকেই উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস। আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা মামলার অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান বুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। ঢাবি ও বুয়েট ক্যাম্পাসে পূজার ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেন।
বুয়েট শের- ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সোমবার (৭ অক্টোবর) ভোরে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম  প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি শের-ই-বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে পরে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে নটরডেম কলেজে পড়েন। গত সোমবার ভোরে প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় আবরারকে পাওয়া যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে