আশিক বিন রহিম:
ভুল এবং অন্যায় দুটি কিন্তু দুই জিনিস। আমরা জেদের বসে অনেক সময় দুটোকে এক করে ফেলি। অথচ ভুল আর অপরাধ জমজ ভাইতো নয়-ই বড়জোড় দু’টো দুই পাড়ার পড়শি ভাই হতে পারে।
ভুলের পরিপার্শ্বিক শব্দ হলো: ভ্রান্তি, ভ্রম, গলতি, মতিভ্রংশ। ভুল মানুষ ভুল করেই করে, জানা বা অজান্তে। আর অন্যায়ের পরিপার্শ্বিক শব্দ হলো: অবিচার, অবিচারপূর্ণ, দুর্বিত্তিপূর্ণ, শয়তান বা চূড়ান্ত অবিচারপূর্ণ। অন্যায় মানুষ জেনেশুনেই সজ্ঞানে করে।
ভুলের শাস্তি আর অন্যায়ের শাস্তি কখোনই এক বা সমান হতে পারে না। ভুল মানুষ না জেনে বা মনের অজান্তে করে থাকে কিন্তু অন্যায় হলো সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফসল। ভুল হলো ক্ষমা যোগ্য আর অন্যায় শাস্তি যোগ্য। ভুল হলো না বুঝে করা কোন কাজ যা নিজ কিংবা সবার জন্যই খারাপ। ভুল মানেই কিন্তু অন্যায় না, কিন্তু অন্যায় মানে হচ্ছে জেনেশুনে সজ্ঞানে ভুল কিছু করা।
এখন দেখার বিষয় ভুল বা অন্যায় কে করেছে কিংবা ব্যক্তিটা কে?। ভুল করা ব্যক্তিটা যদি খুব আপনজন হয় তবে প্রথম কাজ হলো তাকে ভুল দেখিয়ে দেয়া। ভুলের জন্যে খুব আপনজনকে ছাড় দিতে হয়। আপন মানুষ ভুল করলে তা তাকে জানিয়ে দিন। একটু ছাড় দিন না তাকে! দেখবেন অবশ্যই সে ভুলের জন্যে অনুতপ্ত হবেই। এরপর যেটা পাবের সেটা ভালোবাসার দ্বিগুণ।
আর অন্যায়কারী খুব আপনজন হলেও তাকে শাস্তি বা শাসন দিতে হয়। সেটি না করলেও অন্যায়ের জন্যে তাকে ঘৃণা করতে হয়। তা না করলে অন্যায়কারী এরচেয়ে বড় অন্যায় কর বসবে হয়তো।
অথচ আমরা জেদের বসে ভুল আর অন্যায়কে এক করে ফেলছি। খুব আপন মানুষ হবার পরেও তার সামান্য ভুলকে পুঁজি করে তাকে অনেক বড় শাস্তি দিচ্ছি। এতে করে তার আর ভুল শুধরানোর সুযোগ থাকছে না। ফলে উল্টো সে-ই আপনাকে ঘৃণা করছে। যে কোনো সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে হলে একে অপরের ছোটখাট ভুল, দোষ-ক্রটি ক্ষমা করতে হয়। অথচ অনেক সময়ই আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা, কোনটা ভুল আর কোনটা অন্যায়।
আসুন আমরা আপন মানুষকে ছাড় দিতে শিখি। আর অন্যায়কে ঘৃণা করি।
সংবাদ ও সাহিত্যকর্মী
সাধারণ সম্পাদক: সাহিত্য মঞ্চ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে