নোটিশ :
সংবাদ কর্মী আবশ‌্যক
সংবাদ শিরোনাম
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করছে: জুনাইদ আহমেদ পলক গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে ভাগবতীয় আলোচনা সভা ও গীতা দান বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ সম্মাননা দেবে ঢাবি সমাজকল্যাণ ক্লাবের আয়োজনে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী সোমবার থেকে চাঁদপুরে চরমোনাইর নমুনায় ৩ দিন ব্যাপী মাহফিল শুরু রাণীশংকৈলে অসুস্থ গৃহবধুর আত্মহত্যা রাজধানীর কাওরানবাজার এবং কুর্মিটোলায় বাসে আগুন আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবেন বিচারকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী লালবাসে চড়ে ক্যাম্পাসে আসা হল না সাদিয়ার!
গাইবান্ধায় রেললাইনের উপর বন্যার পানি উঠায় রংপুর- ঢাকা রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

গাইবান্ধায় রেললাইনের উপর বন্যার পানি উঠায় রংপুর- ঢাকা রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মোঃ মোতাছিম বিল্লাহ্, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি। গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী এলাকায় রেল লাইনে পানি উঠায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। জেলা শহরে পানি ঢোকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে ।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
শহর সংলগ্ন খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকায় সোনাইল বাঁধের প্রায় ৩শ’ ফুট এলাকা ধসে যাওয়ায় গাইবান্ধা জেলা শহরে পানি ঢুকেছে।
এদিকে শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় জেলা প্রশাসক ও জজের বাসভবন, পিকে বিশ্বাস রোড, স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ, সান্তার পট্টি রোড, টেনিস কমপ্লেক্স ডেভিড কোম্পানীপাড়া, ভিএইড রোড, মুন্সিপাড়া, ব্রীজ রোড কালিবাড়িপাড়া, কুটিপাড়া, পূর্বপাড়া, সবুজপাড়া, পুরাতন বাজার, বানিয়ারজান, পুলিশ লাইন, নশরৎপুর, বোয়ালীসহ আশেপাশের এলাকায় প্লাবিত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ত্রিমোহিনী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুরের সাথে ঢাকাগামি রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন জানান, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের জন্য ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, বুধবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪৬ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯০ সে.মি. বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে তিস্তার পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
ঘাঘট নদীর পানির তোড়ে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়কে হাঁটুর উপরে উঠায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে মূল শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
অপরদিকে সাঘাটা উপজেলায় যমুনা নদীর পানির তোড়ে ভরতখালীর ২নং ক্রস বাঁধটি ধসে গিয়ে অনেক এলাকায় পানি উঠেছে।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ২৩০টি গ্রামের ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি। বন্যা কবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ১১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছে ৪২ হাজার ১০২ জন। বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তাঘাট সব ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কাঁচা রাস্তা ৯২ কি.মি., ৬টি কালভার্ট এবং ৪ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১ হাজার ২৪৬ হেক্টর। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হযেছে ৪কি.মি.। ৩৩২টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ওই ৪ উপজেলায় জেলা ত্রাণ ভান্ডার থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার মে. চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং ১০ হাজার কার্টুন শুকনা খাবার। ওইসব সামগ্রী ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের কাজ চলছে। তবে ক্ষতির তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018   bdsomachar24.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET