“গুনী জ্ঞানী ভরপুর, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর”
আসলেই আমাদের চাঁদপুরের জন্ম হয়েছে অনেক গুনী জ্ঞানীজনের।তেমনই একজন গুনী হলেন আশেক আলী খান। যিনি ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালায় হতে চাঁদপুর জেলার প্রথম মুসলিম হিসেবে ইংরেজি বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট (বি,এ) পাস করেন (বাংলা একাডেমি, চরিতাভিধান, পৃঃসংখ্যা-৭৬)।
যখন তার বি,এ পাস করার রেজাল্ট পত্র-প্রত্রিকায় প্রকাশ হয়। তখন ৫০ টি খাম,পোস্ট কার্ডে লিখিত চিঠি পত্র পেয়েছেন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ, দেরাগাজীখান, পাঞ্চাব, চন্দনপুর, আসাম, পাবনা ইত্যাদি অধ্যুষিত এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের কাছ থেকে।
যখন তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসলেন, তখন তাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো। এমনকি হাজিগন্জ বড় মসজিদে জুম্মর নামজ শেষ ঐ মসজিদের মিম্বরে দাড়ঁ করিয়ে তাকে দেখানো হতো।
আশেক আলী খান জন্ম হয় ১৮৯১ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে। তার পিতার নাম; আইনউদ্দিন খান এবং মাতার নাম আলেক জান বিবি ওরফে টুনি বিবি।
১৯১১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চাঁদপুর বাবুহাট হাই স্কুল থেকে ম্যাটিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেন। ঐ ইস্কুলে তিনি পড়ার সময় তিনিই একমাত্র মুসলিম ছাত্র ছিলেন এবং তিনি সবার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
১৯১৩ সালে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯১৮ সালে তিনি বি,এ পাস করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে।
তিনি বি,এ পাস করে ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের এর চাকরি পাওয়া লোভন হওয়া সত্বেও তিনি বেঁচে নিয়েছেন মহান পেশা শিক্ষকতাকেই। তিনি প্রথমে চাঁদপুর গনি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন।এই ইস্কুলকে তিনিই সরকারি মঞ্জুরী করিয়েছেন তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মঞ্জুরী কমিশনের সভাপতি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর মাধ্যমে। তারপর তিনি সাব ইন্সপেক্টর অব স্কুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি১৯৪৬ সালে অবসর গ্রহন করেন।
এরপর তিনি নিজ গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রথমে প্রাইমারী স্কুল, পর আশেক আলী খান হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৫ সালে স্কুল টি সরকারি অনুমোদন পায়।এই ভাবে তিনি জ্বলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার আলো।
তার ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। বড় ছেলে মেসবাহ উদ্দিন খান,সাবেক সরকারি কমকর্তা ও সাবেক এমপি। ২য় সন্তান ড.বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর,সাবেক অধ্যাপক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।৩য় ছেলে ড.মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী ও লেখক। ৪র্থ ছেলে ড.হেলাল উদ্দিন খান সামসুল আরোফীন,অধ্যাপক নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি ১৯৭৪ সালে ২রা আগষ্ট মৃত্যুবরন করেন।

লেখকঃ রিয়াজ শাওন
বিতর্কীক, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে