নোটিশ :
সংবাদ কর্মী আবশ‌্যক
সংবাদ শিরোনাম
চাঁদপুর জেলার ইতিহাস অন্যতম স্থান রূপসা জমিদার বাড়ি

চাঁদপুর জেলার ইতিহাস অন্যতম স্থান রূপসা জমিদার বাড়ি

এ.কে. ফারাবী, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) থেকে :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা(উঃ)ইউনিয়নের রূপসা বাজার সংলগ্ন রূপসা জমিদার বাড়ী অবস্থিত। ফরিদগঞ্জ উপজেলার দৃষ্টিনন্দন স্থান গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।এটি ফরিদগঞ্জ সদর থেকে ৪.৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।রূপসা জমিদার বাড়ীর আরেক নাম মিয়া বাড়ী। এটি চাঁদপুরের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য জমিদার বাড়ী।


আহম্মেদ রাজার মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ গাজী। তারপর মোহাম্মদ গাজীর মৃত্যুর পর এই জমিদার বাড়ির জমিদারিত্ব পান তার সন্তান আহমেদ গাজী। এই জমিদাররা খাজনার জন্য প্রজাদের উপর কখনো অত্যাচার জুলুম করতেন না। উল্টো প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশার সময় তাদেরকে সাহায্য করতেন। তাই তাদেরকে প্রজারা অনেক শ্রদ্ধা করত, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।
এই রূপসা জমিদার পরিবারের একজন হলেন খান বাহাদুর আবিদুর রেজা চৌধুরী । তিনি ব্রিটিশ শাসনামলে নামকরা রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী ছিলেন। এই জমিদার বাড়ীর বংশধররা এখনো এই বাড়িটিতে বসবাস করতেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব বাংলার বেশিরভাগ জমিদাররাই পাকিস্তানী মেলেটারি বাহিনীকে অর্থ এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে। কিন্তু এই রূপসা জমিদাররা পাকিস্তানি মেলেটারিকে সাহায্য করেননি। তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। জমিদার বাড়ীর সামনে বিশাল মাঠ । জমিদার বাড়ীতে ইট দিয়ে তৈরি করা মোট তিনটি ভবন আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মূল ভবন, আর একটি আছে মূল ভবনের বাম পাশে এবং আরেকটি আছে মূল ভবনের পিছনে।
এছাড়াও জমিদারদের তৈরি করা তিনটি টিনের ঘর। জমিদার বাড়িতে ঢুকার পথে ডানপাশে আছে জমিদার বাড়ির সুসজ্জিত মসজিদ এবং জমিদার বাড়ীর কবরস্থান । আর ঘাটবাঁধানো একটি বিশাল পুকুর ও জমিদার বাড়ির
প্রবেশদ্বার ।
জানা যায় পুকুর ঘাটে বিচারকার্য করা হত। রূপসা বাজার থেকে পশ্চিম দিকে একটি সরু পথ দিয়ে গেইট অতিক্রম করে গেলেই বাড়ীটি নজরে পড়ে। দ্বিতল বিশিষ্ট ভবনের নিচে এক রুমে ভূমি অফিস। নিচের বাকী রূম গুলো সহ উপরের রূমগুলোতে জমিদারের বংশধররা থাকেন।প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থীরা বাড়ীটি দেখার জন্য ছুটে আসে। বর্তমানে জমিদারদের বংশধর দের মধ্যে ২জন এই বাড়িতে বসাবাস করে। চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৬০ টাকা সিএনজি ভাড়া কিংবা ৩০/৩৫ টাকা বাস ভাড়া দিয়ে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আসতে হয়।তারপর রিক্সা,অটো কিংবা সিএনজি করে রূপসা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যায়। এদিকে লক্ষিপুর জেলার রায়পুর এবং রামগঞ্জ উপজেলা হয়ে রূপসা জমিদার বাড়িতে আসতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018   bdsomachar24.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Desing & Developed BY DHAKATECH.NET