মোঃ অাবু রায়হান, পীরগঞ্জ উপজেলা (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে অসহায়- এতিমের মত করতোয়া নদীর বোল্ডার নির্মান কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের কেউই তদারকিকে না থাকায় কাজে দুর্নীতি ও ঘাপলার অভিযোগ উঠেছে। সোয়া ৪ কোটি টাকার কাজটিতে মিস্ত্রিরাই সবেধন নীলমনি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজটি পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে না পেয়ে এবং কাজের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বড়বদনারপাড়া (টোংরারদহ) নামকস্থানে করতোয়া নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে বোল্ডার নির্মান চলছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর সীমানা দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীটি প্রতিবছরই পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গন ঠেকাতে ওই নদীপাড়ে বোল্ডার নির্মান করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে প্যাকেজ করে ঠিকাদারদেরকে কাজ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১৩ নং প্যাকেজটির প্রাক্কলন মুল্য ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকায় রংপুরের মেসার্স খায়রুল কবির রানা ঠিকাদারী পায়। কাজটির চুক্তি মুল্য ৪ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা। গত ২০ মার্চ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পেয়ে করতোয়া নদীর টোংরারদহ নামকস্থানে বোল্ডার নির্মানের কাজ করছে। শেষ হবে আগামী ২০২০ সালের ৩১ মে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বোল্ডার নির্মান কাজের স্থান থেকে প্রায় দেড় কিমি দুরে বড় বদনারপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পাথর রাখা হয়েছে। বোল্ডার তৈরীর কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা পাথরের ময়লা না ধুয়েই বালি-সিমেন্টে মিশ্রন করছে। মিশ্রনে ১টি বালি, ৩টি সিমেন্ট এবং ৬টি পাথর দেয়ার কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানায়, বালি, সিমেন্ট, পাথরের মিশ্রনের অনুপাতে একটু কমবেশী করা হচ্ছে। তদারকি না থাকায় মিস্ত্রিরাই সবেধন নীলমনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা বলেন, চ্যালেঞ্জ করলাম কাজে কোন রকম ঘাপলা নেই। কারণ বুয়েট-ল্যাবরেটরিতে টেষ্টে রেজাল্ট না এলে কর্তৃপক্ষ বিল দেবে না।
উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুক শিকদার বলেন, ৩৫ সিএম বাই ৩৫ সিএম বাই ৩৫ সিএম ১৮ হাজার ৬৫৯টি, ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম ১৮ হাজার ৭৫০টি এবং ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম বাই ২০ সিএম আকারের ২৭ হাজার ৮৬৩টি মোট ৬৫ হাজার ২৭২ টি বোল্ডার তৈরী করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি কাজের সাইড চলায় এক সপ্তাহেও অনেক সময় কাজ দেখতে যেতে পারি না। তবে দুর্নীতি-ঘাপলা হচ্ছে না।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জোর গলায় বলেন, সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। কারণ ঢাকা থেকে টাক্স ফোর্স এসে তদন্ত করে দুর্নীতি পেলে ব্যবস্থা নিবেন। এ ভয়ে ঠিকাদাররাই ভাল কাজ করেন।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন জানান, কাজের গুণগতমান কেমন হয়েছে সে বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার সাহেবেরা ভালো বলতে পারবে তবে আমি পরিদর্শন করেছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে