হাওড়া কাণ্ডের জেরে আলিপুর আদালতের আইনজীবীদের লাগাতার কর্মবিরতির মোকাবিলার পথে হাঁটতে চলেছেন বিচারকেরা।

মঙ্গলবার আলিপুর দায়রা আদালতেও পুলিশের গাড়ি আটকান আন্দোলনকারী আইনজীবীরা।

ঘটনার পর থেকে আইনজীবীরা আলিপুর ফৌজদারি আদালতে আসামিদের নিয়ে আসা পুলিশের গাড়ি আটকান। আসামিকে আদালতে বিচারকের এজলাসে পেশ করতে বাধা দেন। আন্দোলনকারীরা আলিপুর দায়রা আদালতে আসামি ভর্তি পুলিশের গাড়ি আটকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারক রবীন্দ্রনাথ সামন্ত সব অতিরিক্ত দায়রা বিচারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ দিন পুলিশের গাড়ি বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। জেলা বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মামলার বিচারকদের প্রতিনিধিরা সেই গাড়ি থেকে বিচারাধীন বন্দিদের নথি সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। বিচারক সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে বিচারাধীন বন্দিদের পেশ করার পরবর্তী তারিখ নির্দিষ্ট করে দেন।

আদালত সূত্রের খবর, জেলা বিচারক-সহ অতিরিক্ত দায়রা বিচারক, ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট, সহকারী দায়েরা বিচারক, সিবিআইয়ের বিশেষ বিচারকের আদালতে ৪৫টি এজলাস রয়েছে। ওই সব এজলাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় শতাধিক মামলার শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলে। সে ক্ষেত্রে আসামিদের এজলাসে পেশ করা না হলে জটিল সমস্যা হবে বলে মনে করেন বিচারকেরা।

আলিপুরের বিচারকদের একাংশের কথায়, দায়রা আদালতে প্রতিদিন বহু মামলা শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া হয়। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই আলিপুর আদালতে মামলার খুব চাপ রয়েছে। কর্মবিরতির জেরে বিচার প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ দিন আলিপুর ফৌজদারি আদালতেও কর্মবিরতি পালন করা হয়। এ দিনও আদালতে আসামি ভর্তি পুলিশের গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে আদালত সূত্রে খবর।