৭ তলা থেকে লাফিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান জুবায়ের ও কামরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪
  • / 50

সাত তলা থেকে লাফিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান মুজাহিদুল ইসলাম জুবায়ের ও কামরুল। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ বাঁচাতে তারা নীচে লাফিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহত হয়েছেন তারা। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসি) ১০২ নাম্বার ওয়ার্ডে। সেখানে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। তাদের মুখেই জানা গেলো ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত।

জুবায়ের জানান, ঘটনার সময় যুবায়ের শেক বানাচ্ছিল। পরে ক্যাশিয়ার বলে নিচে আগুন লাগছে। সবাই উপরে আসেন। এসময় অ্যাপ্রোন খুলে নিচের দিকে যেতে চাইলে তখন দেখি নিচে অনেক বেশি ধোঁয়া। নামার পরিস্থিতি নেই। এরপর দ্রুত ছাদে উঠে যাই। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ছাদে। সেখানে মানুষজন আতঙ্কে চিৎকার করছিল, কান্নাকাটি করছিল। কয়েকজন ছাদ থেকে লাফ দেয়। একটু পর আমিও লাফ দেই। এরপর কী হয়েছে তা আমার মাথায় নেই।

তিনি আরও বলেন, খানাস ফাস্ট ফুড হওয়ায় অনেক ক্রেতা আসে। তবে গতকাল অন্যদিনের চেয়ে একটু কম ছিল। ভবনে ১২টার বেশি রেস্টুরেন্ট ছিল। এছাড়া ভবনে ওঠানামার জন্য ছোট একটি সিঁড়ি আর লিফট ছিল। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে নামার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

জুবায়েরের মা বলেন, পুলিশ রাত ১১টার দিকে আমাদের কল দেয়। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। এমন সময় পুলিশ কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে আপনাদের কেউ কি ঢাকায় থাকে? এরপর জুবায়ের থাকে বললে তারা জানায়, জুবায়ের অ্যাক্সিডেন্ট করেছে আপনারা দ্রুত চলে আসেন। এরপর আমরা গাড়ি খবর দিয়ে হাসপাতালে চলে আসি। কাল আমার পরিবারের ওপর খুবই কঠিন দিন নেমে এসেছে। আমার বড় ছেলে দুবাই থাকে। সেখানেও রাজমিস্ত্রির কাজ করে। সেও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছে কাজ করতে গিয়ে। আমার হার্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। ঢাকায় আসার প্রস্তুতির সময় তার বাবা রাস্তার পাশে পড়ে গেলে তাকেও নিয়ে আসিনি। নিজে চলে এসেছি।

এদিকে নিচতলায় মেজবানি খানা নামে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন কামরুল। ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। আগুনের খবরে সেখান থেকে পঞ্চম তলায় উঠে যান।

কামরুল বলেন, পাশের দোকান থেকে হঠাৎ করে আগুনের কথা শুনতে পাই। আর সাথে সাথে দেখি সব অন্ধকার হয়ে পড়েছে। আমরা ছোটাছুটি শুরু করি। কোনো দিকে যেতে পারছিলাম না। পরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলাম। আর সেখানে অনেক লোক থাকায় উপরেও উঠতে পারছিলাম না, আটকে পড়েছি। একটা কিচেনে ঢুকে সেখানের গ্রিল দিয়ে নামতে যাই। এমন সময় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। পরে সেখান থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যাই। এরপর আর হুঁশ ছিল না। সে সময় চারদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া ছিল। সেখানকার মানুষজন শ্বাস নিতে পারছিলেন না। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চারদিক বদ্ধ অবস্থা ছিল সেখানে। আর সেখানে আরো আগুনের তীব্রতা বাড়ায় অনেকে হয়তো মারা গেছেন।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে পৌঁছেছে। হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৭ তলা থেকে লাফিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান জুবায়ের ও কামরুল

Update Time : ০৮:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪

সাত তলা থেকে লাফিয়ে নিজেদের প্রাণ বাঁচান মুজাহিদুল ইসলাম জুবায়ের ও কামরুল। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ বাঁচাতে তারা নীচে লাফিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহত হয়েছেন তারা। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসি) ১০২ নাম্বার ওয়ার্ডে। সেখানে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। তাদের মুখেই জানা গেলো ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত।

জুবায়ের জানান, ঘটনার সময় যুবায়ের শেক বানাচ্ছিল। পরে ক্যাশিয়ার বলে নিচে আগুন লাগছে। সবাই উপরে আসেন। এসময় অ্যাপ্রোন খুলে নিচের দিকে যেতে চাইলে তখন দেখি নিচে অনেক বেশি ধোঁয়া। নামার পরিস্থিতি নেই। এরপর দ্রুত ছাদে উঠে যাই। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ছাদে। সেখানে মানুষজন আতঙ্কে চিৎকার করছিল, কান্নাকাটি করছিল। কয়েকজন ছাদ থেকে লাফ দেয়। একটু পর আমিও লাফ দেই। এরপর কী হয়েছে তা আমার মাথায় নেই।

তিনি আরও বলেন, খানাস ফাস্ট ফুড হওয়ায় অনেক ক্রেতা আসে। তবে গতকাল অন্যদিনের চেয়ে একটু কম ছিল। ভবনে ১২টার বেশি রেস্টুরেন্ট ছিল। এছাড়া ভবনে ওঠানামার জন্য ছোট একটি সিঁড়ি আর লিফট ছিল। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে নামার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

জুবায়েরের মা বলেন, পুলিশ রাত ১১টার দিকে আমাদের কল দেয়। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। এমন সময় পুলিশ কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে আপনাদের কেউ কি ঢাকায় থাকে? এরপর জুবায়ের থাকে বললে তারা জানায়, জুবায়ের অ্যাক্সিডেন্ট করেছে আপনারা দ্রুত চলে আসেন। এরপর আমরা গাড়ি খবর দিয়ে হাসপাতালে চলে আসি। কাল আমার পরিবারের ওপর খুবই কঠিন দিন নেমে এসেছে। আমার বড় ছেলে দুবাই থাকে। সেখানেও রাজমিস্ত্রির কাজ করে। সেও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছে কাজ করতে গিয়ে। আমার হার্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। ঢাকায় আসার প্রস্তুতির সময় তার বাবা রাস্তার পাশে পড়ে গেলে তাকেও নিয়ে আসিনি। নিজে চলে এসেছি।

এদিকে নিচতলায় মেজবানি খানা নামে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন কামরুল। ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। আগুনের খবরে সেখান থেকে পঞ্চম তলায় উঠে যান।

কামরুল বলেন, পাশের দোকান থেকে হঠাৎ করে আগুনের কথা শুনতে পাই। আর সাথে সাথে দেখি সব অন্ধকার হয়ে পড়েছে। আমরা ছোটাছুটি শুরু করি। কোনো দিকে যেতে পারছিলাম না। পরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলাম। আর সেখানে অনেক লোক থাকায় উপরেও উঠতে পারছিলাম না, আটকে পড়েছি। একটা কিচেনে ঢুকে সেখানের গ্রিল দিয়ে নামতে যাই। এমন সময় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। পরে সেখান থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যাই। এরপর আর হুঁশ ছিল না। সে সময় চারদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া ছিল। সেখানকার মানুষজন শ্বাস নিতে পারছিলেন না। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল। চারদিক বদ্ধ অবস্থা ছিল সেখানে। আর সেখানে আরো আগুনের তীব্রতা বাড়ায় অনেকে হয়তো মারা গেছেন।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে পৌঁছেছে। হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।