Friday, September 24, 2021
Homeশিক্ষা১ কোটি ৮৮ লাখ বই কেনা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য

১ কোটি ৮৮ লাখ বই কেনা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২০২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে সঠিক সময়ে বিনামূল্যে বই তুলে দিতে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই কেনার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩১তম সভা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ৩টি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবে অর্থে পরিমাণ ৩৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা। এতে সম্পূর্ণ অর্থই জিওবি থেকে ব্যয় হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের (১ম ও ২য় শ্রেণি) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৭২টি লটে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সব শিক্ষার্থীর কাছে তাদের কাঙ্খিত পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের (১ম ও ২য় শ্রেণি) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৯৮টি লটের মধ্যে অবশিষ্ট ৭২টি লটে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে ৩০২টি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে ২৮৭টি দরপত্র রেসপনসিভ হয়। টিইসি কর্তৃক ৭২টি লটে সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন ২৫টি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা। প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের গড় দাম ১৭.৯৯ টাকা।

এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সভায় মোট তিনটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টার’-এ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পূর্ত কাজ ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

কোভিড-১৯ মহামারিতে আক্রান্ত রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট’ কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রথম পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল’ স্থাপনের পূর্ত কাজ এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) এবং পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক পূর্ত কাজ সম্পাদন এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃক চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে। পূর্ত কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ১০ কোটি ২৮ লাখ ২২ হাজার ৮১২ টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এটা আর বাড়ুক তা কারো কাম্য নয়। তবু যদি প্রয়োজন হয় তা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার সব সময় প্রস্তুত। কারণ জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।

পুঁজিবাজার নিয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন যে তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সে প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসইসি যে সিদ্ধান্ত নেয় তা সরকারের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে বাজেটে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক বসে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রেভাইডার/অপারেটর নিয়োগ এবং হাতিরঝিল-রামপুরা সেতু-বনশ্রী-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগাং রোড মোড় এবং তারাবো লিংক মহাসড়কসহ) পিপিপি ভিত্তিতে ৪-লেনে উন্নীতকরনের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দুইটি প্রস্তাবের বিষয়ে আরো কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যগুলো সহ পরবর্তী উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular