“সুস্থ-রঙিন সকালের অপেক্ষায়”

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০
  • / ১৭৭ Time View
আবু তালহা আকাশ:

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়”(ইবি)। যা বর্তমানে ৩৪ টি বিভাগ নিয়ে তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করে যাচ্ছে। তারই একটি অন্যতম বিভাগ “ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি”।

উক্ত বিভাগে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২৯ তম ব্যাচে( ইবির ৩৩ তম ব্যাচ)  অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। সকল বিভাগের ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে। সকলে মিলে আমাদের ৩৩ ব্যাচের নামও নির্ধারণ করা হলো “সঞ্জীবনী-৩৩”। লেখাপড়া, আড্ডাবাজী সবকিছু মিলিয়ে দেখতে দেখতেই যেন একটি বছর অতিক্রম করে ফেললাম। সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ‘ব্যাচডে’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিলাম আমরা।

ইবির ইতিহাসে আমরাই প্রথম সকল বিভাগ একসাথে দিনটি উদযাপন করেছিলাম। সকলেই “সঞ্জীবনী-৩৩” লোগো যুক্ত সাদা টি-শার্ট পরে ইচ্ছেমতো সবাই সবার টি-শার্টে লেখালেখি পরক্ষনেই রং মাখামাখি। বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন স্যার সহ অন্যান্য  সকল স্যার-ম্যামদের নিয়ে নিজ বিভাগে কেক কাটা। এরপর সকলে মিলে ব্যান্ডের তালে বিশাল এক র্যালী। এসব যেনো ছিলো স্মৃতির পাতায় লেখে রাখার মতো বিষয়।

বেলা ১১.৩০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ আসকারী স্যার সহ প্রোভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও ছাত্র উপদেষ্টা স্যার দের নিয়ে নিয়ে কেক কাটা হয়েছিল। কিছুক্ষণ চললো স্যারদের  জ্ঞানগর্ভ ও দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা। দুপুরের খাবারের পর ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৩৩(এবার ১টি বিভাগ যুক্ত হয়েছে) টি বিভাগের প্রায় ২০০০ ছেলে-মেয়ে একসাথে এমন একটি অনুষ্ঠান সকলের মনেই এক অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করেছিল। খুবই হাসি আনন্দেই কাটছিল সময় গুলো। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রকৃতি যেন একটু নিষ্ঠুরতা দেখাতে শুরু করলো।  করোনা নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের কবলে পড়ে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বন্ধ হয়ে গেল সকল অফিস-আদালত। শুধু আমাদের দেশ নয় পুরো পৃথিবী যেন একেবারে থমকে গেল। ভাইরাসের কঠোরতায় ধীরে ধীরে বাড়ছে ছুটির সময়সীমা। তারই সাথে বাড়ছে সকলের সেশনজটে আটকে পড়ার আশঙ্কা।

এখন বাসায় বসে এসকল সোনালী স্মৃতি গুলো মনে করে যেমন আনন্দ পাচ্ছি তার সাথে থাকছে শঙ্কা। আমরা সবাই কি সুস্থ ভাবে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবো? নাকি হারিয়ে যাব বা হারিয়ে ফেলব কোন এক বন্ধুকে? অবশ্যই আমরা এমনটি চাই না। আমরা স্বপ্ন দেখছি এমন একটি সকালের যেদিন সকাল হলেই যেন চারিদিকে শুনতে পাই কোভিড-১৯ নামক ভাইরাসটি আর নেই। আমরা আবারও ফিরতে পারবো আমাদের রঙিন ক্যাম্পাসে রঙিন রূপে। আবারো সেই রাত জেগে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠা, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্টের প্যারা বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজীতে সময় গুলো যেন রঙিন হয়ে উঠে। আবারো যেন সবাই সুস্থ ভাবে, সুস্থ এক ক্যাম্পাসে ফিরতে পারি এই প্রত্যাশাই করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
          ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
          ই-মেইল: abutalhaakash98@gmail.com

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

“সুস্থ-রঙিন সকালের অপেক্ষায়”

Update Time : ০৮:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০
আবু তালহা আকাশ:

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়”(ইবি)। যা বর্তমানে ৩৪ টি বিভাগ নিয়ে তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করে যাচ্ছে। তারই একটি অন্যতম বিভাগ “ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি”।

উক্ত বিভাগে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২৯ তম ব্যাচে( ইবির ৩৩ তম ব্যাচ)  অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। সকল বিভাগের ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে। সকলে মিলে আমাদের ৩৩ ব্যাচের নামও নির্ধারণ করা হলো “সঞ্জীবনী-৩৩”। লেখাপড়া, আড্ডাবাজী সবকিছু মিলিয়ে দেখতে দেখতেই যেন একটি বছর অতিক্রম করে ফেললাম। সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ‘ব্যাচডে’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিলাম আমরা।

ইবির ইতিহাসে আমরাই প্রথম সকল বিভাগ একসাথে দিনটি উদযাপন করেছিলাম। সকলেই “সঞ্জীবনী-৩৩” লোগো যুক্ত সাদা টি-শার্ট পরে ইচ্ছেমতো সবাই সবার টি-শার্টে লেখালেখি পরক্ষনেই রং মাখামাখি। বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন স্যার সহ অন্যান্য  সকল স্যার-ম্যামদের নিয়ে নিজ বিভাগে কেক কাটা। এরপর সকলে মিলে ব্যান্ডের তালে বিশাল এক র্যালী। এসব যেনো ছিলো স্মৃতির পাতায় লেখে রাখার মতো বিষয়।

বেলা ১১.৩০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ আসকারী স্যার সহ প্রোভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও ছাত্র উপদেষ্টা স্যার দের নিয়ে নিয়ে কেক কাটা হয়েছিল। কিছুক্ষণ চললো স্যারদের  জ্ঞানগর্ভ ও দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা। দুপুরের খাবারের পর ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৩৩(এবার ১টি বিভাগ যুক্ত হয়েছে) টি বিভাগের প্রায় ২০০০ ছেলে-মেয়ে একসাথে এমন একটি অনুষ্ঠান সকলের মনেই এক অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করেছিল। খুবই হাসি আনন্দেই কাটছিল সময় গুলো। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রকৃতি যেন একটু নিষ্ঠুরতা দেখাতে শুরু করলো।  করোনা নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের কবলে পড়ে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বন্ধ হয়ে গেল সকল অফিস-আদালত। শুধু আমাদের দেশ নয় পুরো পৃথিবী যেন একেবারে থমকে গেল। ভাইরাসের কঠোরতায় ধীরে ধীরে বাড়ছে ছুটির সময়সীমা। তারই সাথে বাড়ছে সকলের সেশনজটে আটকে পড়ার আশঙ্কা।

এখন বাসায় বসে এসকল সোনালী স্মৃতি গুলো মনে করে যেমন আনন্দ পাচ্ছি তার সাথে থাকছে শঙ্কা। আমরা সবাই কি সুস্থ ভাবে প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবো? নাকি হারিয়ে যাব বা হারিয়ে ফেলব কোন এক বন্ধুকে? অবশ্যই আমরা এমনটি চাই না। আমরা স্বপ্ন দেখছি এমন একটি সকালের যেদিন সকাল হলেই যেন চারিদিকে শুনতে পাই কোভিড-১৯ নামক ভাইরাসটি আর নেই। আমরা আবারও ফিরতে পারবো আমাদের রঙিন ক্যাম্পাসে রঙিন রূপে। আবারো সেই রাত জেগে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠা, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্টের প্যারা বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজীতে সময় গুলো যেন রঙিন হয়ে উঠে। আবারো যেন সবাই সুস্থ ভাবে, সুস্থ এক ক্যাম্পাসে ফিরতে পারি এই প্রত্যাশাই করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
          ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
          ই-মেইল: abutalhaakash98@gmail.com