সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে খুলনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ১৯৫ Time View

খুলনা প্রতিনিধি:

হঠাৎ করে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে খুলনা। উত্তর-পশ্চিমা কনকনে হিমশীতল হাওয়া ও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কনকনে হিম বয়ে আনা বাতাসে হাড় কাঁপুনি শীত।

খুলনা বিভাগ দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিভাগের যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত দুদিন কিছু জায়গায় সূর্যের দেখা মেলেনি। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শীতের হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঘন কুয়াচ্ছন্ন থাকলেও বেলা বাড়তেই উঁকি দিয়েছে সূর্য। সূর্যের দেখা মিললেও কমেনি ঠান্ডার প্রকোপ। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত শীত জেঁকে বসছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসার ইনচার্জ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনা অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই অঞ্চলেই। খুলনা বিভাগের মধ্য যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ১১.২ ডিগ্রি, খুলনায় ১৩ ডিগ্রি বাগেরহাটের মোংলায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

খুলনার নওরোজ এহসান বলেন, গত তিন দিন ধরে খুব বেশি ঠান্ডা পড়েছে। সকালে কুয়াশায় সামান্য দূরে কিছু দেখা যায় না। ঠান্ডার কারণে কাজে যেতেও মন চায় না। আজ দুপুরে রোদ উঠেছে, কিন্তু ঠান্ডা কমেনি।

যশোর জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যশোরে জেঁকে বসেছে শীত। বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কাদামাটি ও পানিতে কাজ করা কৃষকদের কাজ।

যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১২টার পর সূর্যের দেখা মিলেছে জেলায়। এর আগে গত দুদিন এ জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি।

যশোরের চূড়ামনকাঠি এলাকার কৃষক আফজাউল হক বলেন, জমিতে চাষ দিতে হবে। গত দুদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এতো ঠান্ডায় জমিতে কাজ করার লোকও পাওয়া যায় না। শীতের কারণে জমিতে চাষ দিতে দেরি হচ্ছে। তবে আজ একটু রোদের দেখা মিলেছে। আশা করি আগামীকাল পূর্ণ রোদ বের হলে চাষ দিতে পারব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি জানান, কনকনে শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা। টানা দুদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরেছে কুয়াশা। হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে যানবাহন। হিম বাতাসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ আর ছিন্নমূল মানুষ। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

অব্যাহত রয়েছে শৈত্যপ্রবাহ, মৃদু বাতাস বইছে। তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। দুপুরে সূর্য উঁকি দিয়েছে, কিন্তু ঠান্ডা প্রচণ্ড।

দামুড়হুদা উপজেলার নতুন হাউলী গ্রামের পাখিভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, গত দুদিনে মাত্র ২৫০ টাকার ভাড়া হয়েছে। এর আগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ভাড়া হতো। এভাবে চলতে থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র শীতে রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশিরভাগই শিশু রোগী। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপাতালের আউটডোরে তিন থেকে চার শতাধিক বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৪০০ শিশু আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে। শীতজনিত কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে যা শনিবার (৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে পাওয়া ২০ হাজার ১০০ কম্বল শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে আরও ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই ওগুলো পাওয়া গেলে বিতরণ করা হবে। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেও সাড়া মিলবে আশা করি।

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। গত কয়েকদিনের টানা তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল ও সন্ধ্যার পর খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। সবচয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপে হতদরিদ্র মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে।

এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে হাসপাতালে। ছিন্নমূল মানুষরা সকাল-সন্ধ্যা খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শহরেও মানুষের আনাগোনা কম।

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জানান, কনকনে শীত পড়ছে, সঙ্গে বাতাস আরও শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কাজ। কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে মানুষকে।

সাতক্ষীরা সদরের ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, শীতের তীব্রতার কারণে ভ্যান চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এতে আয়-রোজগার হচ্ছে না। পরিবারের সকল সদস্যদের নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। চাউল থেকে শুরু করে সন কিছু কিনতে হয় আয়রোজগার না করতে পারলে কীভাবে বাঁচতে হবে। তাছাড়া এমন আবহাওয়ায় লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না।

ফল বিক্রেতা শওকত হোসেন বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের আলোর দেখা নেই। সকালে আর সন্ধ্যায় মাঝে-মধ্যে কুয়াশায় বৃষ্টির মতো ফোঁটাও পড়ছে। ফলে লোকজন অতি জরুরি কাজ ছাড়া বের হচ্ছে না। বেচা-বিক্রিও অন্য সময়ের তুলনায় একদম কমে গেছে।

এছাড়া বাগেরহাটেও গত দুদিন ধরে হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিম বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। পরে কিছু সময়ের জন্য রোদের দেখা মিললেও কমেনি শীতের প্রকোপ। একই অবস্থা মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল ও ঝিনাইদহেও।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে খুলনা

Update Time : ০৪:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৩

খুলনা প্রতিনিধি:

হঠাৎ করে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে খুলনা। উত্তর-পশ্চিমা কনকনে হিমশীতল হাওয়া ও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কনকনে হিম বয়ে আনা বাতাসে হাড় কাঁপুনি শীত।

খুলনা বিভাগ দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিভাগের যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত দুদিন কিছু জায়গায় সূর্যের দেখা মেলেনি। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শীতের হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ঘন কুয়াচ্ছন্ন থাকলেও বেলা বাড়তেই উঁকি দিয়েছে সূর্য। সূর্যের দেখা মিললেও কমেনি ঠান্ডার প্রকোপ। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত শীত জেঁকে বসছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসার ইনচার্জ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনা অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই অঞ্চলেই। খুলনা বিভাগের মধ্য যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ১১.২ ডিগ্রি, খুলনায় ১৩ ডিগ্রি বাগেরহাটের মোংলায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

খুলনার নওরোজ এহসান বলেন, গত তিন দিন ধরে খুব বেশি ঠান্ডা পড়েছে। সকালে কুয়াশায় সামান্য দূরে কিছু দেখা যায় না। ঠান্ডার কারণে কাজে যেতেও মন চায় না। আজ দুপুরে রোদ উঠেছে, কিন্তু ঠান্ডা কমেনি।

যশোর জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যশোরে জেঁকে বসেছে শীত। বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কাদামাটি ও পানিতে কাজ করা কৃষকদের কাজ।

যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১২টার পর সূর্যের দেখা মিলেছে জেলায়। এর আগে গত দুদিন এ জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি।

যশোরের চূড়ামনকাঠি এলাকার কৃষক আফজাউল হক বলেন, জমিতে চাষ দিতে হবে। গত দুদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এতো ঠান্ডায় জমিতে কাজ করার লোকও পাওয়া যায় না। শীতের কারণে জমিতে চাষ দিতে দেরি হচ্ছে। তবে আজ একটু রোদের দেখা মিলেছে। আশা করি আগামীকাল পূর্ণ রোদ বের হলে চাষ দিতে পারব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি জানান, কনকনে শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা। টানা দুদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরেছে কুয়াশা। হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে যানবাহন। হিম বাতাসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ আর ছিন্নমূল মানুষ। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

অব্যাহত রয়েছে শৈত্যপ্রবাহ, মৃদু বাতাস বইছে। তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। দুপুরে সূর্য উঁকি দিয়েছে, কিন্তু ঠান্ডা প্রচণ্ড।

দামুড়হুদা উপজেলার নতুন হাউলী গ্রামের পাখিভ্যান চালক আব্দুর রশিদ বলেন, গত দুদিনে মাত্র ২৫০ টাকার ভাড়া হয়েছে। এর আগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ভাড়া হতো। এভাবে চলতে থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আতাউর রহমান বলেন, তীব্র শীতে রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশিরভাগই শিশু রোগী। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপাতালের আউটডোরে তিন থেকে চার শতাধিক বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৪০০ শিশু আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে। শীতজনিত কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে যা শনিবার (৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে পাওয়া ২০ হাজার ১০০ কম্বল শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে আরও ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই ওগুলো পাওয়া গেলে বিতরণ করা হবে। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেও সাড়া মিলবে আশা করি।

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। গত কয়েকদিনের টানা তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল ও সন্ধ্যার পর খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। সবচয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপে হতদরিদ্র মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে।

এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে হাসপাতালে। ছিন্নমূল মানুষরা সকাল-সন্ধ্যা খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শহরেও মানুষের আনাগোনা কম।

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জানান, কনকনে শীত পড়ছে, সঙ্গে বাতাস আরও শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কাজ। কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে মানুষকে।

সাতক্ষীরা সদরের ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, শীতের তীব্রতার কারণে ভ্যান চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এতে আয়-রোজগার হচ্ছে না। পরিবারের সকল সদস্যদের নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। চাউল থেকে শুরু করে সন কিছু কিনতে হয় আয়রোজগার না করতে পারলে কীভাবে বাঁচতে হবে। তাছাড়া এমন আবহাওয়ায় লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না।

ফল বিক্রেতা শওকত হোসেন বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের আলোর দেখা নেই। সকালে আর সন্ধ্যায় মাঝে-মধ্যে কুয়াশায় বৃষ্টির মতো ফোঁটাও পড়ছে। ফলে লোকজন অতি জরুরি কাজ ছাড়া বের হচ্ছে না। বেচা-বিক্রিও অন্য সময়ের তুলনায় একদম কমে গেছে।

এছাড়া বাগেরহাটেও গত দুদিন ধরে হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিম বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। পরে কিছু সময়ের জন্য রোদের দেখা মিললেও কমেনি শীতের প্রকোপ। একই অবস্থা মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল ও ঝিনাইদহেও।