Friday, September 24, 2021
Homeজেলালামায় জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা

লামায় জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা

বিপ্লব দাশ,লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকরা জৈব ও কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহী উঠেছে।অনেক প্রান্তিক কৃষক কেঁচো উৎপাদন করে জীবন জীবিকা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নিয়েছেন।এ সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে পাশাপাশি প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধির করে বেশী ফলন পেয়ে থাকেন।যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। বর্তমানে লামা উপজেলায় এ সার উৎপাদনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের মাঝে প্রতিযোগিতামুলক উৎপাদন করার জন্য ব্যস্ত সময় কাটচ্ছেন অনেক কৃষকরা।

কৃষি অফিসের সুত্রে জানা গেছে, জৈব ও কেঁচোর সারে জমির উর্ভরকতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ যেহেতু কৃষি নির্ভরশীল কৃষি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে অর্থনীতির উন্নতি সাধন করবে দেশ।কেঁচো পার্বত্য এলাকার জমির উর্বরতায় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন প্রান্তিক কৃষকগন।

এ সারের ব্যবহারে ফলন উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে,তেমনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে।এতে করে মাটির গুনগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খরচ কম হচ্ছে। এ সার উৎপাদনে অল্প খরচ লাগে।কেঁচো সার ব্যবহারের ফলে কৃষকের মাঝে দিনদিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। শাক-সবজী ফলমুল তরীতরকারী রং অটল থাকে উৎপাদন তুলনামুলক বেশী হয়ে থাকে।যার ফলে স্বাদেও ভরপুর থাকে বলে জানা গেছে।

লামা উপজেলার ইয়াংছা শাসুকছড়ার পোয়াংপাড়া বাসিন্দা সাইরা খাতুন, আবদুল আজিজ ,সাহাবুউদ্দীন জানান,এক সময় তাদের অভাব অনটন নিত্য সঙ্গী ছিল। কারিতাস থেকে কেঁচো সার উৎপাদন প্রশিক্ষন নিয়ে তারা এখন নিজেরা সার উৎপাদন করে সারাদেশ ব্যাপি বিক্রয় করে থাকে এবং নিজের চাহিদা পুরণ করে সংসারের যাবতীয় খচর করে প্রতিমাসে ত্রিশ হাজার আয় করে থাকে। প্রতি কেজি কেঁচো সার ১৫ টাকা ধরে বাজার জাত করে থাকে। প্রতি কেজি কেঁচো ৭শ টাকা করে বিক্রয় করে থাকে।তাদের থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ কেঁচো সার উৎপাদন করছে বলে কৃষকরা জানান।

লামা কারিতাস বাংলাদেশ লামা উপজেলা শাখার ম্যানেজার মো: মানুন সিকদার বলেন, পাহাড়ী জনপদে কারিতাস ২০১৫ সালে পরীক্ষামুলক লামা উপজেলায় ৪০টি পরিবারকে হাতে কলমে প্রশিক্ষন প্রদান করে তুলেছেন। এতে লামা উপজেলার কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগীতা করেছেন। বাঙ্গালী ও পাহাড়ী পল্লী গ্রাম গুলোতে নারীরা এ সার উৎপাদনে এগিয়ে এসেছে।

তারা নিজেরা শিখে উৎপাদন করেছেন সার এবং বিক্রয় করছে। পাশাপাশি এখন অন্যদেকে প্রশিক্ষন দিচ্ছেন এবং বানিজ্যিকভাবে গ্রহন করে বাজার জাত করেছেন ।এভাবে এ কার্যক্রম চলতে থাকলে, রাসায়নিক সার ব্যবহার দিনদিন কমে যাবে বলে তিনি দাবী করেন।

লামা কৃষি অফিসার সানজিদা বিনতে সালাম জানান,লামা উপজেলা প্রায় দুই শতাধিক প্রান্তিক কৃষক এ সার উৎপাদন করছেন। প্রথম অবস্থায় কৃষক তাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা কৃষক খামারীদের মাঝে ব্যাপক হারে সাড়া পেয়েছে। খামারীদের গোবর এখন নষ্ট না করে নিজেরা সার উৎপাদন করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular