মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রমে ছিলেন সেলিম, কিডনি খুলে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৯:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪
  • / ১৬ Time View

সেলিমের পেটের কাটা দাগ দেখে পরিবার সন্দেহ করছে তার কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে

আলোচিত মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন মো. সেলিম মিয়াকে। গত বুধবার (৮ মে) সেলিমকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। উদ্ধারের পর থেকে লাল কাপড় পরিহিত কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠছেন তিনি। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। তার কোমরের দুই পাশে রয়েছে কাটাছেঁড়ার দাগ। পরিবারের অভিযোগ, সেলিমের কিডনি খুলে নিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

সেলিম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাচাশী গ্রামের দরিদ্র হাসিম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার জানায়, ছয় মাস আগে মানসিক ভারসাম্যহীন সেলিম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরই মধ্যে ঢাকার মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে তার (সেলিম) ছবি দেখতে পান। গত মঙ্গলবার মা রাবিয়া খাতুন ও চাচাতো ভাই গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুর রশিদ ঢাকা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে গিয়ে সেলিমক শনাক্ত করেন। গত বুধবার পুলিশের সহায়তায় সেলিমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে বাড়িতে আনেন তারা।

পরিবার জানায়, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না সেলিম। কোমরের দুই পাশে কাটাছেঁড়ার দাগ রয়েছে। এখনো শুকায়নি সেই দাগগুলো। পরিবারের লোকজন বলছেন, মিল্টন সমাদ্দারের কেয়ারে থাকাকালীন সেলিমকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানে হয়তো লাল কাপড় পরিহিত কেউ তাকে প্রচুর মারধর করতো। লাল কাপড় পড়া কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন সেলিম। তাদের অভিযোগ, সেলিমের কিডনি খুলে নিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার। যে কারণে তার শরীরে পানি এসেছে। স্বজনরা ধরে ধরে তাকে চলাফেরা করাচ্ছেন। এমনকি খাবারও মুখে তুলে খাওয়াতে হচ্ছে সেলিমকে।

সেলিমের মা রাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। তার শরীরে কোনো দাগ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতনের পর তার কোমরের দুই পাশ কাটাছেঁড়া করে কিডনি খুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা বিচার চাই।’

সেলিমের বাবা হাসেম উদ্দিন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। এই ছেলেকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। যে বা যারা এই কাজটা করেছে, আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি।’

সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার দুইটা মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ে সোমাইয়া মণি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। সেলিম পাগল হলেও আমার স্বামী। তার যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, আমার মেয়েরা এতিম হবে আর আমি বিধবা হয়ে যাব।’

এদিকে সেলিমের অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১১ মে) বিকেলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞা মিলন বলেন, ‘এমন একটি খবর শুনে অসুস্থ সেলিমকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারকে বলে এসেছি, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর কিডনি খুলে নেওয়ার বিষয়টি জানা যাবে।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, এমন একটি খবর পেয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজনকে তার (সেলিম) চিকিৎসা ও কিছু পরীক্ষা করাতে বলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন আসলে জানা যাবে ঘটনাটা কী। তারপর অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রমে ছিলেন সেলিম, কিডনি খুলে নেওয়ার অভিযোগ

Update Time : ০৯:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

সেলিমের পেটের কাটা দাগ দেখে পরিবার সন্দেহ করছে তার কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে

আলোচিত মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন মো. সেলিম মিয়াকে। গত বুধবার (৮ মে) সেলিমকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। উদ্ধারের পর থেকে লাল কাপড় পরিহিত কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠছেন তিনি। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। তার কোমরের দুই পাশে রয়েছে কাটাছেঁড়ার দাগ। পরিবারের অভিযোগ, সেলিমের কিডনি খুলে নিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

সেলিম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাচাশী গ্রামের দরিদ্র হাসিম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার জানায়, ছয় মাস আগে মানসিক ভারসাম্যহীন সেলিম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরই মধ্যে ঢাকার মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে তার (সেলিম) ছবি দেখতে পান। গত মঙ্গলবার মা রাবিয়া খাতুন ও চাচাতো ভাই গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুর রশিদ ঢাকা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে গিয়ে সেলিমক শনাক্ত করেন। গত বুধবার পুলিশের সহায়তায় সেলিমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে বাড়িতে আনেন তারা।

পরিবার জানায়, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না সেলিম। কোমরের দুই পাশে কাটাছেঁড়ার দাগ রয়েছে। এখনো শুকায়নি সেই দাগগুলো। পরিবারের লোকজন বলছেন, মিল্টন সমাদ্দারের কেয়ারে থাকাকালীন সেলিমকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানে হয়তো লাল কাপড় পরিহিত কেউ তাকে প্রচুর মারধর করতো। লাল কাপড় পড়া কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন সেলিম। তাদের অভিযোগ, সেলিমের কিডনি খুলে নিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার। যে কারণে তার শরীরে পানি এসেছে। স্বজনরা ধরে ধরে তাকে চলাফেরা করাচ্ছেন। এমনকি খাবারও মুখে তুলে খাওয়াতে হচ্ছে সেলিমকে।

সেলিমের মা রাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। তার শরীরে কোনো দাগ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতনের পর তার কোমরের দুই পাশ কাটাছেঁড়া করে কিডনি খুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা বিচার চাই।’

সেলিমের বাবা হাসেম উদ্দিন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। এই ছেলেকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। যে বা যারা এই কাজটা করেছে, আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি।’

সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার দুইটা মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ে সোমাইয়া মণি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। সেলিম পাগল হলেও আমার স্বামী। তার যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, আমার মেয়েরা এতিম হবে আর আমি বিধবা হয়ে যাব।’

এদিকে সেলিমের অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১১ মে) বিকেলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞা মিলন বলেন, ‘এমন একটি খবর শুনে অসুস্থ সেলিমকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারকে বলে এসেছি, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর কিডনি খুলে নেওয়ার বিষয়টি জানা যাবে।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, এমন একটি খবর পেয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজনকে তার (সেলিম) চিকিৎসা ও কিছু পরীক্ষা করাতে বলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন আসলে জানা যাবে ঘটনাটা কী। তারপর অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে