ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০২:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
  • / 23

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ মে) সকালে গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আব্দুল মজিদ সরদার ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের সমর্থদের মাঝে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে এ সংঘর্ষের ঘটরা ঘটে।

ভোট শুরুর আধা ঘণ্টার পর মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আহতরা হলেন- ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক গোপালপুর গ্রামের মো. আমজাদ হোসেন (৪৬), মো. আছের প্রামানিক (৪০), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৬), মো. মিঠুন আলী (২৬) এবং মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকরা হলেন সান্টু (২৫), নান্টু (৩৫), রাজ্জাক (৫০), আব্দুল হাকিম। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের কিছু সমর্থকের মাঝে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, সকালে গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উল্লেখ্য, ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে দুর্গাপুরে চেয়ারম্যান পদে (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান শরিফ।

ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের (টিউবওয়েল), শ্রমিক লীগ নেতা শামিম ফিরোজ (তালা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এছাড়াও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগম (ফুটবল) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য কোহিনুর বেগম (কলস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৫১। আর নারী ভোটার ৭৯ হাজার ৮৮১ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার রয়েছে একজন।

আজ দেশের ১৬১ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবং দুই উপজেলায় তিন পদে বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এই দফায় ভোট হচ্ছে ১৫৬ উপজেলায়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নয় জেলার ২৪ উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। বাকি ১৩২ উপজেলায় ভোট হচ্ছে ব্যালটে।

তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ হাজার ১৬টি কেন্দ্রের ৯১ হাজার ৫৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। মোট ভোটার ৩ কোটি ৫২ লাখ ৪ হাজার ৭৪৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৪৬৪ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন আর হিজড়া ভোটার ২৩৭ জন।

নির্বাচনে সাধারণ কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কাজ করছেন ১৮ জন। পার্বত্য এলাকায় এই সংখ্যা ১৯ জন, গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকায় ২০ জন।

মোট ৪৫৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে। পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স মিলিয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৬০৩ জন। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৬৯৩ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আছেন ৫২৮ জন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

Update Time : ০২:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ মে) সকালে গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আব্দুল মজিদ সরদার ও মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের সমর্থদের মাঝে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে এ সংঘর্ষের ঘটরা ঘটে।

ভোট শুরুর আধা ঘণ্টার পর মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আহতরা হলেন- ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক গোপালপুর গ্রামের মো. আমজাদ হোসেন (৪৬), মো. আছের প্রামানিক (৪০), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৬), মো. মিঠুন আলী (২৬) এবং মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকরা হলেন সান্টু (২৫), নান্টু (৩৫), রাজ্জাক (৫০), আব্দুল হাকিম। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের কিছু সমর্থকের মাঝে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, সকালে গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উল্লেখ্য, ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে দুর্গাপুরে চেয়ারম্যান পদে (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুজ্জামান শরিফ।

ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের (টিউবওয়েল), শ্রমিক লীগ নেতা শামিম ফিরোজ (তালা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এছাড়াও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগম (ফুটবল) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য কোহিনুর বেগম (কলস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৫১। আর নারী ভোটার ৭৯ হাজার ৮৮১ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার রয়েছে একজন।

আজ দেশের ১৬১ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবং দুই উপজেলায় তিন পদে বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এই দফায় ভোট হচ্ছে ১৫৬ উপজেলায়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নয় জেলার ২৪ উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। বাকি ১৩২ উপজেলায় ভোট হচ্ছে ব্যালটে।

তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ হাজার ১৬টি কেন্দ্রের ৯১ হাজার ৫৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। মোট ভোটার ৩ কোটি ৫২ লাখ ৪ হাজার ৭৪৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৪৬৪ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন আর হিজড়া ভোটার ২৩৭ জন।

নির্বাচনে সাধারণ কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কাজ করছেন ১৮ জন। পার্বত্য এলাকায় এই সংখ্যা ১৯ জন, গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকায় ২০ জন।

মোট ৪৫৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে। পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স মিলিয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৬০৩ জন। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৬৯৩ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আছেন ৫২৮ জন।