ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সহ জিনিসপত্র ময়লার গাড়িতে তুলে দিলেন বাড়িওয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০১:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০
  • / ১৭১ Time View
মুজাহিদ,ঢাকা কলেজ প্রতিনিধিঃ
“একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের অর্জন তার সার্টিফিকেট, সেই সার্টিফিকেট, মূল্যবান জিনিসপত্র সহ সবকিছু সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছে ঐ বাড়িওয়ালা৷ যখন জানতে পারলাম সাথে সাথেই ঢাকা চলে আসি৷ এসে দেখি জিনিসপত্র কিছুই নেই বাড়িওয়ালা সব ফেলে দিয়েছে ” নিজের এত বছরের অর্জিত সব সার্টিফিকেট তার সাথে মূল্যবান সব জিনিসপত্র হারিয়ে এভাবেই অস্রুসিক্ত নয়নে তাঁর বর্ননা দিচ্ছিলেন ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সজীব৷
.
দীর্ঘ চার বছর ধরে থাকতেন রাজধানীর কলাবাগান এলাকার ৪/এ, ওয়েস্ট এন্ড স্ট্রিট এর রুবী ভবনের নীচতলায়৷ শুধু সজীব ই নয় মেসে থাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র,ল্যাপটপ সহ শিক্ষাজীবনে অর্জিত মূল্যবান সব সার্টিফিকেট হারিয়েছেন একই ফ্লাটে থাকা আর আট শিক্ষার্থী ৷
.
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোন ধরনের নোটিস না দিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর জিনিসপত্র সহ ফ্লাটে ব্যবহৃত সবকিছু বাসা থেকে বের করে তুলে দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে৷আর কাজটি করেছেন বাড়িওয়ালা মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চ ৷
.
খবর পেয়ে ঐসব শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে ফ্ল্যাটে আসলেও ঢুকতে পারেননি তারা আর পাননি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও৷ ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থী সজীব জাগো নিউজকে আরও বলেন, মার্চের ৫ তারিখ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করে আমরা বাড়ি চলে যাই৷
.
এরপর বাড়িওয়ালা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিল বাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা মোবাইলে পাঠায়৷ বাকি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ঢাকায় এসে পরিশোধ করার কথা ছিল৷ টাকা পাঠানোর পরেই বাড়িওয়ালা আর ফোন রিসিভ করে না , পরে জানতে পারি আমাদের মালামাল সব ফেলে দেওয়া হয়েছে৷ ঢাকায় ফিরে কিছুই আর অবশিষ্ট পায়নি৷
.
আমরা আমাদের সার্টিফিকেট সহ জিনিসপত্র গুলো ফেরত চাই, আমরা এর বিচার চাই ” বাড়িওয়ালার এমন অমানবিক আচরনে ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছে চার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও৷প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে এই শিক্ষার্থীদের খোয়া গেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড৷ এখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এসব শিক্ষার্থী৷ বিষয়টি জানতে বাড়ির মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চনকে একাধিকবার ফোন করলেও তার মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়৷
.
এই ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে৷ আমরা অভিযুক্ত বাড়ির মালিককে ধরতে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়েছি, আসামিকে পাওয়া যায় নাই৷ চেষ্টা চলছে আমরা আসামিকে ধরে ফেলবো”
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট সহ জিনিসপত্র ময়লার গাড়িতে তুলে দিলেন বাড়িওয়ালা

Update Time : ০১:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০
মুজাহিদ,ঢাকা কলেজ প্রতিনিধিঃ
“একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের অর্জন তার সার্টিফিকেট, সেই সার্টিফিকেট, মূল্যবান জিনিসপত্র সহ সবকিছু সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছে ঐ বাড়িওয়ালা৷ যখন জানতে পারলাম সাথে সাথেই ঢাকা চলে আসি৷ এসে দেখি জিনিসপত্র কিছুই নেই বাড়িওয়ালা সব ফেলে দিয়েছে ” নিজের এত বছরের অর্জিত সব সার্টিফিকেট তার সাথে মূল্যবান সব জিনিসপত্র হারিয়ে এভাবেই অস্রুসিক্ত নয়নে তাঁর বর্ননা দিচ্ছিলেন ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সজীব৷
.
দীর্ঘ চার বছর ধরে থাকতেন রাজধানীর কলাবাগান এলাকার ৪/এ, ওয়েস্ট এন্ড স্ট্রিট এর রুবী ভবনের নীচতলায়৷ শুধু সজীব ই নয় মেসে থাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র,ল্যাপটপ সহ শিক্ষাজীবনে অর্জিত মূল্যবান সব সার্টিফিকেট হারিয়েছেন একই ফ্লাটে থাকা আর আট শিক্ষার্থী ৷
.
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোন ধরনের নোটিস না দিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর জিনিসপত্র সহ ফ্লাটে ব্যবহৃত সবকিছু বাসা থেকে বের করে তুলে দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে৷আর কাজটি করেছেন বাড়িওয়ালা মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চ ৷
.
খবর পেয়ে ঐসব শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে ফ্ল্যাটে আসলেও ঢুকতে পারেননি তারা আর পাননি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও৷ ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থী সজীব জাগো নিউজকে আরও বলেন, মার্চের ৫ তারিখ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করে আমরা বাড়ি চলে যাই৷
.
এরপর বাড়িওয়ালা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিল বাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা মোবাইলে পাঠায়৷ বাকি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ঢাকায় এসে পরিশোধ করার কথা ছিল৷ টাকা পাঠানোর পরেই বাড়িওয়ালা আর ফোন রিসিভ করে না , পরে জানতে পারি আমাদের মালামাল সব ফেলে দেওয়া হয়েছে৷ ঢাকায় ফিরে কিছুই আর অবশিষ্ট পায়নি৷
.
আমরা আমাদের সার্টিফিকেট সহ জিনিসপত্র গুলো ফেরত চাই, আমরা এর বিচার চাই ” বাড়িওয়ালার এমন অমানবিক আচরনে ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছে চার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও৷প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে এই শিক্ষার্থীদের খোয়া গেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড৷ এখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এসব শিক্ষার্থী৷ বিষয়টি জানতে বাড়ির মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চনকে একাধিকবার ফোন করলেও তার মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়৷
.
এই ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে৷ আমরা অভিযুক্ত বাড়ির মালিককে ধরতে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়েছি, আসামিকে পাওয়া যায় নাই৷ চেষ্টা চলছে আমরা আসামিকে ধরে ফেলবো”