বেনজীর আহমেদকে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:২২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
  • / 23

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে আগামী ৬ জুন তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ কার্যকর করা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিল দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এরিমধ্যে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি যাতে হস্তান্তর না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর আদালতের জব্দের আদেশ পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংক হিসাবের অর্থ যাতে হস্তান্তর বা রূপান্তর না হয়, সে জন্য আদালতের আদেশ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেও। দুদকের পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, আদালতের আদেশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির স্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের টাকা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার যদি সম্পদ হস্তান্তরে করেন, তিনি আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। ব্যাংক হিসাব কিংবা কোম্পানির শেয়ারও হস্তান্তর করা যাবে না।

এর আগে বেনজীর আহমেদের জব্দ ও অবরুদ্ধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আদালতের আদেশের কপি ও চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ অনুসন্ধান টিম আদেশের কপি পাঠায়।

সূত্র জানায়, বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের জব্দ জমি বিক্রি, হস্তান্তর বন্ধে আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জমি অন্য কারোর নামে যাতে নামজারি না করা হয় সেজন্য আদালতের রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়।

কোম্পানির শেয়ার স্থানান্তর বন্ধে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিতে আদালতের রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে। কোম্পানির মালিকানা হস্তান্তর বন্ধে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে আদালতের ওই আদেশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকে জমা থাকা টাকা উত্তোলন বন্ধে অবরুদ্ধের আদেশ সোনালী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পত্তির ১১৫টি জমির দলিল, ঢাকার চারটি ফ্ল্যাট, চারটি শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি, ১৫টি আংশিক মালিকানার কোম্পানি ও তিনটি বিও অ্যাকাউন্ট জব্দের জন্য দুদকের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনটি মঞ্জুর করে এসব আদেশ দেন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলেভুক্ত সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে তার আরও সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেসব সম্পদ ক্রোকের আদেশ চেয়ে দুদক আদালতে আবেদন করে।

আদেশে বেনজীরের স্ত্রী জিশান মীর্জার নামে থাকা গুলশারের চারটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট, মাদারীপুরে রাজৈরের সাতপাড় ডুমুরিয়া মৌজায় ১১৩টি দলিলে ৯০ দশমিক ০৮৫৬ একর জমি, শিবচরে একটি দলিলে ৫ কাঠা জমি এবং ঢাকার সাভারের মৈস্তাপাড়া মৌজায় ৩ কাঠা জমি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, শান্তা সিকিউরিটিজে জিশান মীর্জার নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, একই প্রতিষ্ঠানে মেয়ে তাহসীন রাইসা বীনতে বেনজীরের নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, লংকা সিকিউরিটিজে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, সাভানা ন্যাচারাল পার্কের মালিকানা শেয়ার, সাভানা এগ্রো লিমিটেডের শেয়ার, সাভানা ইকো রিসোর্টের মালিকানা শেয়ার, একটি শিশির বিন্দু লিমিটেডের পূর্ণ মালিকানা শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া নর্থ চিকস রংপুর লি., নর্দান বিজনেস অ্যাসোসিয়েটস, সেন্ট পিটার্স স্কুল অব লন্ডন, স্টেইলথ ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলা টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেলটা আর্টিসান্স, ইস্ট ভ্যালি ডেইরি, গ্রিন মাল্টিমিডিয়া, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লি., সেন্ট্রার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ল’ অ্যানফোর্সমেন্ট রিসার্স ফাউন্ডেশন, পুলিশ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্ট, পুলিশ ট্রাস্ট সার্ভিস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, পুলিশ ট্রাস্ট কন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং মেসার্স সাউদার্ন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ এর আংশিক মালিকানা শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ১১৪ একর জমি জব্দ (ক্রোক) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত।

এই জব্দের আদেশের বিষয়ে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। গত রোববার সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। খুরশীদ বলেন, সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধের আদেশের অনুলিপি দুদকের হাতে এসেছে। পর্যায়ক্রমে আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কার্যালয় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাব এবং র‌্যাবে সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

রাজধানীর গুলশানের র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে, যেখানে বেনজীর পরিবারের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও বেনজীর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী সবুজ মিয়া বলেন, বেনজীর আহমেদ পরিবার নিয়ে ওই ভবনে থাকেন। তবে গত এক মাসে তিনি তাঁদের দেখেননি। ভবনটিতে তাঁরা আছেন কি না, তা তিনি জানেন না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বেনজীর আহমেদকে দুদকে তলব

Update Time : ০৮:২২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে আগামী ৬ জুন তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ কার্যকর করা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিল দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এরিমধ্যে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি যাতে হস্তান্তর না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর আদালতের জব্দের আদেশ পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংক হিসাবের অর্থ যাতে হস্তান্তর বা রূপান্তর না হয়, সে জন্য আদালতের আদেশ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেও। দুদকের পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, আদালতের আদেশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির স্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের টাকা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার যদি সম্পদ হস্তান্তরে করেন, তিনি আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। ব্যাংক হিসাব কিংবা কোম্পানির শেয়ারও হস্তান্তর করা যাবে না।

এর আগে বেনজীর আহমেদের জব্দ ও অবরুদ্ধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আদালতের আদেশের কপি ও চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ অনুসন্ধান টিম আদেশের কপি পাঠায়।

সূত্র জানায়, বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের জব্দ জমি বিক্রি, হস্তান্তর বন্ধে আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জমি অন্য কারোর নামে যাতে নামজারি না করা হয় সেজন্য আদালতের রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়।

কোম্পানির শেয়ার স্থানান্তর বন্ধে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিতে আদালতের রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে। কোম্পানির মালিকানা হস্তান্তর বন্ধে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে আদালতের ওই আদেশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকে জমা থাকা টাকা উত্তোলন বন্ধে অবরুদ্ধের আদেশ সোনালী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পত্তির ১১৫টি জমির দলিল, ঢাকার চারটি ফ্ল্যাট, চারটি শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি, ১৫টি আংশিক মালিকানার কোম্পানি ও তিনটি বিও অ্যাকাউন্ট জব্দের জন্য দুদকের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনটি মঞ্জুর করে এসব আদেশ দেন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলেভুক্ত সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে তার আরও সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেসব সম্পদ ক্রোকের আদেশ চেয়ে দুদক আদালতে আবেদন করে।

আদেশে বেনজীরের স্ত্রী জিশান মীর্জার নামে থাকা গুলশারের চারটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট, মাদারীপুরে রাজৈরের সাতপাড় ডুমুরিয়া মৌজায় ১১৩টি দলিলে ৯০ দশমিক ০৮৫৬ একর জমি, শিবচরে একটি দলিলে ৫ কাঠা জমি এবং ঢাকার সাভারের মৈস্তাপাড়া মৌজায় ৩ কাঠা জমি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, শান্তা সিকিউরিটিজে জিশান মীর্জার নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, একই প্রতিষ্ঠানে মেয়ে তাহসীন রাইসা বীনতে বেনজীরের নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, লংকা সিকিউরিটিজে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা বিও অ্যাকাউন্ট, সাভানা ন্যাচারাল পার্কের মালিকানা শেয়ার, সাভানা এগ্রো লিমিটেডের শেয়ার, সাভানা ইকো রিসোর্টের মালিকানা শেয়ার, একটি শিশির বিন্দু লিমিটেডের পূর্ণ মালিকানা শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া নর্থ চিকস রংপুর লি., নর্দান বিজনেস অ্যাসোসিয়েটস, সেন্ট পিটার্স স্কুল অব লন্ডন, স্টেইলথ ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলা টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেলটা আর্টিসান্স, ইস্ট ভ্যালি ডেইরি, গ্রিন মাল্টিমিডিয়া, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লি., সেন্ট্রার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ল’ অ্যানফোর্সমেন্ট রিসার্স ফাউন্ডেশন, পুলিশ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্ট, পুলিশ ট্রাস্ট সার্ভিস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, পুলিশ ট্রাস্ট কন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং মেসার্স সাউদার্ন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ এর আংশিক মালিকানা শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ১১৪ একর জমি জব্দ (ক্রোক) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত।

এই জব্দের আদেশের বিষয়ে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। গত রোববার সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। খুরশীদ বলেন, সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধের আদেশের অনুলিপি দুদকের হাতে এসেছে। পর্যায়ক্রমে আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কার্যালয় ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাব এবং র‌্যাবে সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

রাজধানীর গুলশানের র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে, যেখানে বেনজীর পরিবারের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও বেনজীর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী সবুজ মিয়া বলেন, বেনজীর আহমেদ পরিবার নিয়ে ওই ভবনে থাকেন। তবে গত এক মাসে তিনি তাঁদের দেখেননি। ভবনটিতে তাঁরা আছেন কি না, তা তিনি জানেন না।