Monday, October 25, 2021
Homeফিচারবিশ্ব শিক্ষক দিবস ও বাংলাদেশ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও বাংলাদেশ

এম আব্দুল আজিজ শিশির:

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য সেই ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ইউসেস্কোর মতে শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি সরূপ পালন করা হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

বিশ্বের প্রায় ১০০টির ও বেশি দেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ও তার সদস্য সংগঠনগুলো প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনে অগ্রনীভূমিকা পালন করে থাকে এবং প্রতিবছর জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকতা পেশার অবদানকে স্মরনীয় করে রাখতে একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারন করে থাকে।২০১৮ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতে চাই শিক্ষকের অধিকার”।

২০১৯ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ” শিক্ষকতায় তারুন্য ভবিষ্যত পেশার করনীয়”।বিশ্বব্যাপী শিক্ষকের উদ্যাম ও সংগঠিত উদ্যোগে কিভাবে অগ্রনী বা নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে এবং ভবিষ্যত ইতিবাচক সম্ভাবনার রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন তাকে উপজীব্য করে ২০২০ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল” সংকটে নেতৃত্বদাতা, ভবিষ্যতের রূপদর্শী শিক্ষক”। আর এ বছর করোনার মত মহামারীর সময়ে সংকটময় অবস্থা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের দৃঢ় ও পরিশ্রমী চেষ্টার অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিপাদ্য নির্ধারন করেছে ” Teachers’ at the heart of education recovery” অর্থাৎ” শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্র বিন্দুতে শিক্ষক।”

শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখতে ও তা আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল এর ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ব শিক্ষকদিবস পালিত হয়ে থাকে।যে মর্যাদা আর অধিকার এর অধিকার এর কথা বলে এ দিনটি পালন করা হয়, আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত নাজুক।

আমরা বাল্যকালে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে কবি কাজী কাদের নেওয়াজ এর সেই বিখ্যাত শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা পড়েছিলাম এখন তা অমাবস্যার চাঁদ।দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় শিক্ষকদের উপর নানারকম শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন এর খবর।এমনকি বাংলা সিনেমাতেও শিক্ষকদেরকে গরীব ও অল্প বেতনের মাস্টর বলে হেয় করে উপস্খাপন করা হয়।বঞ্চনা আর অপ্রাপ্তি র আরেক নাম যেন শিক্ষক।আর তাই এখন আর কেউ ‘আমার জীবনের লক্ষ্য ‘ রচনা লিখতে গিয়ে লিখেনা যে সে শিক্ষক হতে চায়। আর কেউ শিক্ষক হয়ে গেলেও মনে করে জীবনের কোন অভিশাপ।

একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, বাবা মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের মতো।আর শিক্ষকরা সমাজও রাষ্ট্রের আলোক বর্তিকার মতো কাজ করেন।তাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে কলুষিত করে এমন কোন কাজ শিক্ষকরা করবেন না বা করতে অনুপ্রানিত করবেন না।বর্তমানে দেশে সবার আগে প্রয়োজন মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা।মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছেন। নতুন ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রনয়নের কার্যক্রম শুরু করেছেন।আর তাই মানসম্মত, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্খা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন পর্যাপ্ত যোগ্য,দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা,ভৌত অবকাঠামো, যথাযথ শিক্ষন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিক্ষকদের যথাযথ ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও তত্বাবধান, গবেষণা ও সন্মানজনক বেতন।শিক্ষকদের সামাজিক স্বীকৃতি, চমৎকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিক্ষাকে জাতীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় সম্মান দান করে জাতি গড়ার এ মহান কারিগরদেরকে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান সম্ভব।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক ( ইংরেজি)
চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,চাঁদপুর।
সহ-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) কেন্দ্রীয় কমিটি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular