বিপর্যস্ত বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৫:১৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
  • / ২২ Time View

সাম্প্রতিককালে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের হাহাকারের সীমা-পরিসীমা নেই। ধারাবাহিক পতনের ঝাপটায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছে। যতই দিন যাছিল, অন্যদেরও ততই রক্তরক্ষণ বাড়ছিল। এরই মধ্যে আজ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) উভয় শেয়ারবাজার নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের কিঞ্চিত আলোর হাতছানি দেখিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধন সূচক ছিল ৬ হাজার ৪৪৭ পয়েন্ট। তারপর ধারাবাহিক পতনের পর গতকাল বুধবারথিতু হয় ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে। এই সময়ে ডিএসইর সূচক কমেযায় ৬৮৫ পয়েন্ট। এর বিপরীতে আজ বৃহস্পতিবার সূচক উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ১৫ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন যাবত একটি চক্র অস্বাভাবিক সেল প্রেসার দিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্থির করে তুলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের দুটি পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। যাদের মধ্যে বিপক্ষ দলের লোকজনদের শক্তিমত্তা অনেক বেশি। তাদের উপর্যুপরি সেল প্রেসারের চাপে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতনের বৃত্তে আটকে যায়।

অন্যদিকে, যারা কর্তাব্যক্তিদের চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বাজার ধরে রাখাার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই। তারা এতোদিন কেবল সুবিধাই নিয়েছেন, বড় বড় বুলি আওড়িয়েছেন, কিন্তুসার্পোট করার দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। যে কারণে বাজার ঠেকানোরও কেউ নেই। এতে জোরদার হয়েছে ফোর্স সেল। মিছিল বেড়েছে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের। দেশের শেয়ারবাজার রীতিমতো বিপর্যস্ত। আজ সেই অবস্থা থেকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজার এখান থেকেই হয়তো সাপোর্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবারের বাজার পর্যালোচনা

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫.৬৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৭৮ পয়েন্টে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরীয়াহ সূচক ২.১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ০.৯৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৪১১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ১৮৭ কোটি টাকার বেশি।

আজ ডিএসইতে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২২১টির, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১২ কোটি ৪৫ লাখ ১৩ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮১ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

আজ সিএসইতে ১৯৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ৮৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের।

আগের দিন সিএসইতে ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার মধ্যে দর বেড়েছিল ৪০টির, কমেছিল ১৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি প্রতিষ্ঠানের।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিপর্যস্ত বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে আজ

Update Time : ০৫:১৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

সাম্প্রতিককালে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের হাহাকারের সীমা-পরিসীমা নেই। ধারাবাহিক পতনের ঝাপটায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছে। যতই দিন যাছিল, অন্যদেরও ততই রক্তরক্ষণ বাড়ছিল। এরই মধ্যে আজ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) উভয় শেয়ারবাজার নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের কিঞ্চিত আলোর হাতছানি দেখিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধন সূচক ছিল ৬ হাজার ৪৪৭ পয়েন্ট। তারপর ধারাবাহিক পতনের পর গতকাল বুধবারথিতু হয় ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে। এই সময়ে ডিএসইর সূচক কমেযায় ৬৮৫ পয়েন্ট। এর বিপরীতে আজ বৃহস্পতিবার সূচক উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ১৫ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন যাবত একটি চক্র অস্বাভাবিক সেল প্রেসার দিয়ে শেয়ারবাজারকে অস্থির করে তুলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের দুটি পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। যাদের মধ্যে বিপক্ষ দলের লোকজনদের শক্তিমত্তা অনেক বেশি। তাদের উপর্যুপরি সেল প্রেসারের চাপে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতনের বৃত্তে আটকে যায়।

অন্যদিকে, যারা কর্তাব্যক্তিদের চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বাজার ধরে রাখাার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই। তারা এতোদিন কেবল সুবিধাই নিয়েছেন, বড় বড় বুলি আওড়িয়েছেন, কিন্তুসার্পোট করার দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। যে কারণে বাজার ঠেকানোরও কেউ নেই। এতে জোরদার হয়েছে ফোর্স সেল। মিছিল বেড়েছে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের। দেশের শেয়ারবাজার রীতিমতো বিপর্যস্ত। আজ সেই অবস্থা থেকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজার এখান থেকেই হয়তো সাপোর্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবারের বাজার পর্যালোচনা

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫.৬৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৭৮ পয়েন্টে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরীয়াহ সূচক ২.১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ০.৯৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৪১১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ১৮৭ কোটি টাকার বেশি।

আজ ডিএসইতে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২২১টির, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১২ কোটি ৪৫ লাখ ১৩ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮১ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

আজ সিএসইতে ১৯৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ৮৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের।

আগের দিন সিএসইতে ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যার মধ্যে দর বেড়েছিল ৪০টির, কমেছিল ১৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি প্রতিষ্ঠানের।