বিআইডব্লিউটিসি’র ইলেকট্রিশিয়ান কোটিপতি রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ১১:১৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 47

এবার বিআইডব্লিউটিসি’র এক কোটিপতি ইলেকটিশিয়ানের সন্ধান পাওয়া গেছে। আলোচিত এই ইলেকট্রিশিয়ান এখন কোটি কোটি টাকার রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ে যুক্ত। সম্প্রতি দূর্নীতিদমন কমিশনে (দুদক) প্রেরিত এক অভিযোগ থেকে এই তথ্য জানা যায়। আলোচিত এই ইলেকট্রিশিয়ানের নাম শীতল বিশ্বাস, সে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসি’র নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।

অভিয়োগে জানা যায়, টাংগাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার বাসিন্দা শীতল বিশ্বাস এখন মানিকগঞ্জের উথলীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। স্থানীয় লোক এবং পাটুলিয়া ঘাটে কর্মরত থাকার সুযোগে সে ফেরি ও জাহাজের তেলচুরিসহ নানা অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে একাধিকবার তাকে নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হলেও তার এক প্রভাবশালী মামার তৎপরতায় সে আবার একই অফিসে চলে আসে। এমনকি সে দিনের বেলায় অফিসও করে না।তার সব কর্মকান্ড চলে রাতের বেলা। আর প্রভাবশালী ওই মামার কারণে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না।

প্রায় চার মাস আগে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সে একটি মারামারির সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মামলা হলে পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় বেশ কয়েকদিন সে জেলও খাটে, এমনকি অফিস তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে।
কিন্তু ওই প্রভাবশারী মামার তৎপরতায় তার জামিন হয় এবং আবার সে কাজে যোগদান করে। এবার পাটুরিয়া অফিসে একিভূত করা হলেও মাসে অন্তত দুইদিন তাকে হেড অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আর এই সুযোগে সে মাসে দুইদিন হেড অফিসে হাজিরা দিলেও পাটুরিয়া অফিসে মোটেই যায় না।
অভিযোগে আরও জানা যায়, অবৈধ নানা কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থেকে শীতল বিশ্বাস প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছে। সে এখন রীতিমত একজন রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ি। ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি মৌজা, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি মৌজা, উথলী এবং পাটুরিয়া ঘাটের আশেপাশে রয়েছে তার বেশ কয়েকটি রিয়াল এস্টেট প্লট। আরিচা ঘাট এবং পাটুরিয়ায় ফেরীঘাট থাকার কারণে এই এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সে কম দামে জমি কিনে সামান্য ভরাট করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। এখানেও সে গড়ে তুলেছে প্রতারণা বাণিজ্য। বহু লোকের কাছ থেকে সে বাকিতে জমির পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে চারগুন দামে বিক্রি করেও জমিওয়ালার টাকা পরিশোধ করছে না। টাকা চাইলে অনেককে মামলায় জড়ানো এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়ে থাকে।

একটি সরকারি অফিসের অত্যন্ত নিম্নপদস্থ এই কর্মচারি নানাবিধ প্রতারনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ায় সে এখন ধরাকে সড়া জ্ঞান করছে।

প্রতি রাতে সে এখন অরিচা ঘাট, পাটুরিয়া ঘাট অথবা উথলীতে মদ জুয়া ও নাচ গানের আসর বসায়। ফেরিঘাট কেন্দ্রিক জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী বিক্রিরও সে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে শীতল বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলে, আমি কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত নই। দুদকে প্রদত্ত অভিয়োগের ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না।

সূত্রঃ এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডি ডটকম

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিআইডব্লিউটিসি’র ইলেকট্রিশিয়ান কোটিপতি রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ি

Update Time : ১১:১৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

এবার বিআইডব্লিউটিসি’র এক কোটিপতি ইলেকটিশিয়ানের সন্ধান পাওয়া গেছে। আলোচিত এই ইলেকট্রিশিয়ান এখন কোটি কোটি টাকার রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ে যুক্ত। সম্প্রতি দূর্নীতিদমন কমিশনে (দুদক) প্রেরিত এক অভিযোগ থেকে এই তথ্য জানা যায়। আলোচিত এই ইলেকট্রিশিয়ানের নাম শীতল বিশ্বাস, সে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসি’র নিবার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।

অভিয়োগে জানা যায়, টাংগাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার বাসিন্দা শীতল বিশ্বাস এখন মানিকগঞ্জের উথলীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। স্থানীয় লোক এবং পাটুলিয়া ঘাটে কর্মরত থাকার সুযোগে সে ফেরি ও জাহাজের তেলচুরিসহ নানা অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে একাধিকবার তাকে নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হলেও তার এক প্রভাবশালী মামার তৎপরতায় সে আবার একই অফিসে চলে আসে। এমনকি সে দিনের বেলায় অফিসও করে না।তার সব কর্মকান্ড চলে রাতের বেলা। আর প্রভাবশালী ওই মামার কারণে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না।

প্রায় চার মাস আগে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সে একটি মারামারির সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মামলা হলে পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় বেশ কয়েকদিন সে জেলও খাটে, এমনকি অফিস তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে।
কিন্তু ওই প্রভাবশারী মামার তৎপরতায় তার জামিন হয় এবং আবার সে কাজে যোগদান করে। এবার পাটুরিয়া অফিসে একিভূত করা হলেও মাসে অন্তত দুইদিন তাকে হেড অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আর এই সুযোগে সে মাসে দুইদিন হেড অফিসে হাজিরা দিলেও পাটুরিয়া অফিসে মোটেই যায় না।
অভিযোগে আরও জানা যায়, অবৈধ নানা কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থেকে শীতল বিশ্বাস প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছে। সে এখন রীতিমত একজন রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ি। ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি মৌজা, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি মৌজা, উথলী এবং পাটুরিয়া ঘাটের আশেপাশে রয়েছে তার বেশ কয়েকটি রিয়াল এস্টেট প্লট। আরিচা ঘাট এবং পাটুরিয়ায় ফেরীঘাট থাকার কারণে এই এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সে কম দামে জমি কিনে সামান্য ভরাট করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। এখানেও সে গড়ে তুলেছে প্রতারণা বাণিজ্য। বহু লোকের কাছ থেকে সে বাকিতে জমির পাওয়ার অব এটর্নি নিয়ে চারগুন দামে বিক্রি করেও জমিওয়ালার টাকা পরিশোধ করছে না। টাকা চাইলে অনেককে মামলায় জড়ানো এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়ে থাকে।

একটি সরকারি অফিসের অত্যন্ত নিম্নপদস্থ এই কর্মচারি নানাবিধ প্রতারনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ায় সে এখন ধরাকে সড়া জ্ঞান করছে।

প্রতি রাতে সে এখন অরিচা ঘাট, পাটুরিয়া ঘাট অথবা উথলীতে মদ জুয়া ও নাচ গানের আসর বসায়। ফেরিঘাট কেন্দ্রিক জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী বিক্রিরও সে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে শীতল বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলে, আমি কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত নই। দুদকে প্রদত্ত অভিয়োগের ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না।

সূত্রঃ এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডি ডটকম