বালুর মধ্যে ৩৪ ডিম দিলো এক কচ্ছপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ১১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২
  • / ৩৭৩ Time View

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ ৩৪টি ডিম দিয়েছে।

শনিবার রাতে প্রজনন প্রকল্পের পুকুর পাড়ের স্যান্ডবিচে (বালুর মধ্যে) এ ডিম দেয় কচ্ছপটি।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, কচ্ছপের ডিম দেওয়ার পরিবেশ উপযোগী করে আগে থেকেই প্রকল্পের পুকুর পাড়ে বালুর স্যান্ডবিচ তৈরি করে রাখা হয়েছিলো। সেখানে শনিবার রাতে ডিম দেয় প্রকল্পের একটি কচ্ছপ। এরপর রোববার সকালে স্যান্ডবিচ থেকে ডিমগুলো তুলে ইনকিউভেশন (বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ) করা হয়েছে।

বালুর স্যান্ডবিচ থেকে তুলে বাচ্চা ফুটানোর জন্য আবারো বালুর ইনকিউভেশনে রাখা হয়েছে ডিমগুলো। ইনকিউভেশনে সঠিক তাপমাত্রায় (২৭/২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে। ২০২১ সালে এ প্রকল্পের ৪টি কচ্ছপ ৯৬টি ডিম দেয়। তারমধ্যে ৭৯টি বাচ্চা ফোটে।

এছাড়া ২০২০ সালে ২টি কচ্ছপের দেওয়া ৫৬টি ডিমে বাচ্চা হয় ৫২টি। গড় বাচ্চা ফোটার হার ৯০ ভাগ ও তার চেয়েও বেশি। এবারও অন্তত ৯০ ভাগের মতোই বাচ্চা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী বনবিভাগ।

করমজল কচ্ছপ প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, ২০১৪ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয় দেশের বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের প্রজনন প্রকল্প। শুরুতে ৪টি পুরুষ ও ৪টি নারী কচ্ছপ দিয়ে এ প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়।

২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্পে কচ্ছপ ডিম দিতে শুরু করে। বর্তমানে এ প্রজেক্টে ছোট বড় মিলিয়ে ৪৩৬টি কচ্ছপ রয়েছে। মূলত বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের বংশবিস্তার, প্রজনন, খাদ্যাভাস, আচরণ ও বিচরণক্ষেত্রসহ নানা বিষয়ে জানতে গবেষণার জন্যই এ প্রকল্প চালু করে বনবিভাগ।

বনবিভাগের এ প্রকল্পের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রিয়ার জুভিয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

এ প্রকল্পটি সফলতার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কচ্ছপ প্রকল্পের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব।

Please Share This Post in Your Social Media

বালুর মধ্যে ৩৪ ডিম দিলো এক কচ্ছপ

Update Time : ১১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ ৩৪টি ডিম দিয়েছে।

শনিবার রাতে প্রজনন প্রকল্পের পুকুর পাড়ের স্যান্ডবিচে (বালুর মধ্যে) এ ডিম দেয় কচ্ছপটি।

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, কচ্ছপের ডিম দেওয়ার পরিবেশ উপযোগী করে আগে থেকেই প্রকল্পের পুকুর পাড়ে বালুর স্যান্ডবিচ তৈরি করে রাখা হয়েছিলো। সেখানে শনিবার রাতে ডিম দেয় প্রকল্পের একটি কচ্ছপ। এরপর রোববার সকালে স্যান্ডবিচ থেকে ডিমগুলো তুলে ইনকিউভেশন (বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ) করা হয়েছে।

বালুর স্যান্ডবিচ থেকে তুলে বাচ্চা ফুটানোর জন্য আবারো বালুর ইনকিউভেশনে রাখা হয়েছে ডিমগুলো। ইনকিউভেশনে সঠিক তাপমাত্রায় (২৭/২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবে। ২০২১ সালে এ প্রকল্পের ৪টি কচ্ছপ ৯৬টি ডিম দেয়। তারমধ্যে ৭৯টি বাচ্চা ফোটে।

এছাড়া ২০২০ সালে ২টি কচ্ছপের দেওয়া ৫৬টি ডিমে বাচ্চা হয় ৫২টি। গড় বাচ্চা ফোটার হার ৯০ ভাগ ও তার চেয়েও বেশি। এবারও অন্তত ৯০ ভাগের মতোই বাচ্চা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী বনবিভাগ।

করমজল কচ্ছপ প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, ২০১৪ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয় দেশের বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের প্রজনন প্রকল্প। শুরুতে ৪টি পুরুষ ও ৪টি নারী কচ্ছপ দিয়ে এ প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়।

২০১৭ সাল থেকে এ প্রকল্পে কচ্ছপ ডিম দিতে শুরু করে। বর্তমানে এ প্রজেক্টে ছোট বড় মিলিয়ে ৪৩৬টি কচ্ছপ রয়েছে। মূলত বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের বংশবিস্তার, প্রজনন, খাদ্যাভাস, আচরণ ও বিচরণক্ষেত্রসহ নানা বিষয়ে জানতে গবেষণার জন্যই এ প্রকল্প চালু করে বনবিভাগ।

বনবিভাগের এ প্রকল্পের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রিয়ার জুভিয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

এ প্রকল্পটি সফলতার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কচ্ছপ প্রকল্পের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব।