বন্যার আভাস আগস্টেও

  • Update Time : ০৬:০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪
  • / 18

বর্তমানে বন্যায় দেশের ১৫ জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও মেঘনার উজানে বন্যা দীর্ঘ হতে পারে জুলাই-আগস্টেও। বন্যা ব্যবস্থাপনা গবেষকরা বলছেন, ১০ বছরে এই দুই অববাহিকায় বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। এ বছরও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার ভোগান্তি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রও। জুলাইয়ের শেষে তিস্তার তীরেও হতে পারে বন্যা।

বন্যাকবলিত এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ডুবে যাওয়ায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী মাসে (আগস্ট) আরেকটি মৌসুমি বন্যার ঝুঁকি আছে। তবে, এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ভারতে বৃষ্টি হচ্ছে, সেহেতু ব্রহ্মপুত্রে বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। ব্রহ্মপুত্রে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া একটি বা দুটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এ অবস্থায় মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতে ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সরদার উদয় রায়হান। তিনি বলেন, বর্ষা মাত্র শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যা চলমান। তারমধ্যে লা নিনা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগস্টে আরেকটি বন্যার ঝুঁকি আছে।

‘লা নিনা’ হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা ও অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। মূলত লা নিনা চলাকালীন সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে ঠাণ্ডা জল সমুদ্রের উপরিভাগে উঠে যায়। যার ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। শুরু হয় প্রবল বর্ষণ।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ এসএম কামরুল হাসান জানান, আবহাওয়া মডেল অনুসারে লা নিনা বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থায় আছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এটি সক্রিয় হতে শুরু করবে এবং আগামী বছরের শুরুর দিকেও সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বন্যার আভাস আগস্টেও

Update Time : ০৬:০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

বর্তমানে বন্যায় দেশের ১৫ জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও মেঘনার উজানে বন্যা দীর্ঘ হতে পারে জুলাই-আগস্টেও। বন্যা ব্যবস্থাপনা গবেষকরা বলছেন, ১০ বছরে এই দুই অববাহিকায় বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। এ বছরও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার ভোগান্তি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রও। জুলাইয়ের শেষে তিস্তার তীরেও হতে পারে বন্যা।

বন্যাকবলিত এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ডুবে যাওয়ায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী মাসে (আগস্ট) আরেকটি মৌসুমি বন্যার ঝুঁকি আছে। তবে, এখনই পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ভারতে বৃষ্টি হচ্ছে, সেহেতু ব্রহ্মপুত্রে বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। ব্রহ্মপুত্রে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া একটি বা দুটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এ অবস্থায় মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতে ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সরদার উদয় রায়হান। তিনি বলেন, বর্ষা মাত্র শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যা চলমান। তারমধ্যে লা নিনা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগস্টে আরেকটি বন্যার ঝুঁকি আছে।

‘লা নিনা’ হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা ও অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। মূলত লা নিনা চলাকালীন সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে ঠাণ্ডা জল সমুদ্রের উপরিভাগে উঠে যায়। যার ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। শুরু হয় প্রবল বর্ষণ।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ এসএম কামরুল হাসান জানান, আবহাওয়া মডেল অনুসারে লা নিনা বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থায় আছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এটি সক্রিয় হতে শুরু করবে এবং আগামী বছরের শুরুর দিকেও সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।