বঙ্গবন্ধু আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার চেয়ে উন্নত হতো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৪:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
  • / 23

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারলে মালয়েশিয়ার চেয়েও দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার (১ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে (টিএসসি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাহাথির মোহাম্মদ যেমন ২২ বছরে মালয়েশিয়াকে পরিবর্তন করেছিলেন যা আমাদের কাছে উদাহরণ। তেমনি বঙ্গবন্ধুও মাত্র সাড়ে ৩ বছর ক্ষমতায় থেকে সে পথেই যাচ্ছিলেন। তিনি আর ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারলে মালয়েশিয়ার চেয়েও দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময়ই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করেছেন। তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণ, হজ যাত্রীদের জন্য সরকারি অনুদান, বিশ্ব ইজতেমার সম্প্রসারণেও তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। বৈদেশিক কূটনীতিক তৎপরতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনন্য।  

কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসার লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর একাডেমিক স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। যার ফলে তিনি আলেম ও হাফেজদের কাছে কওমি জননী উপাধি পেয়েছিলেন। ইসলামেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলা হয়েছে। তাই আমরাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাস্তবায়ন হিসেবে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় রূপ প্রদানের চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত স্মার্ট দেশ গড়তে সাহায্য করবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা সবার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই। আর এই আয়োজন তারই একটি প্রতিফলন। আমরা জানি তাদের বিভিন্ন সময় নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়। আমরা চাই তারা আমাদের মতো মূল ধারায় আসুক। এর জন্যই তাদের সকল সমস্যা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী দাওরাকে মাস্টার্স এর মর্যাদা দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো রয়েছে তা যেন মাদরাসাগুলোতেও থাকে। সকাল বেলায় মদরাসাগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠুক। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির অংশ হোক। এজন্য মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত করতে আমরা ছাত্রলীগের কমিটিতে মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক পদও রেখেছি।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বঙ্গবন্ধু আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার চেয়ে উন্নত হতো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৪:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারলে মালয়েশিয়ার চেয়েও দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার (১ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে (টিএসসি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাহাথির মোহাম্মদ যেমন ২২ বছরে মালয়েশিয়াকে পরিবর্তন করেছিলেন যা আমাদের কাছে উদাহরণ। তেমনি বঙ্গবন্ধুও মাত্র সাড়ে ৩ বছর ক্ষমতায় থেকে সে পথেই যাচ্ছিলেন। তিনি আর ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারলে মালয়েশিয়ার চেয়েও দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময়ই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করেছেন। তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণ, হজ যাত্রীদের জন্য সরকারি অনুদান, বিশ্ব ইজতেমার সম্প্রসারণেও তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। বৈদেশিক কূটনীতিক তৎপরতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনন্য।  

কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসার লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর একাডেমিক স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। যার ফলে তিনি আলেম ও হাফেজদের কাছে কওমি জননী উপাধি পেয়েছিলেন। ইসলামেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলা হয়েছে। তাই আমরাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাস্তবায়ন হিসেবে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় রূপ প্রদানের চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত স্মার্ট দেশ গড়তে সাহায্য করবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা সবার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই। আর এই আয়োজন তারই একটি প্রতিফলন। আমরা জানি তাদের বিভিন্ন সময় নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়। আমরা চাই তারা আমাদের মতো মূল ধারায় আসুক। এর জন্যই তাদের সকল সমস্যা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী দাওরাকে মাস্টার্স এর মর্যাদা দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো রয়েছে তা যেন মাদরাসাগুলোতেও থাকে। সকাল বেলায় মদরাসাগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠুক। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির অংশ হোক। এজন্য মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত করতে আমরা ছাত্রলীগের কমিটিতে মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক পদও রেখেছি।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।