ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাসের শেষ বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
  • / ২৭ Time View

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ,কুমিল্লা

ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাসের শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় কুমিল্লা টাউনহল প্রাঙ্গনে শিব নারায়ণ দাসের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ও কুমিল্লার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

আওয়ামী লীগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। পরে, একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোবার স্কাউট, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, উদিচি কুমিল্লা, কুমিল্লা সরকারী মহিলা কলেজ, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি, কুমিল্লা মহানগর কৃষকলীগ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা, পূর্বাশা-মধুমিতা ও কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর কুমিল্লা, যুব ইউনিয়ন, কুমিল্লা ক্লাব, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন ন্যাপ-গ্যারিলা পার্টি, জাকের হোসেন ফাউন্ডেশন, মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, বন্ধু ফোরাম কুমিল্লা, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, উনি মহান মুক্তিযোদ্ধার সংগঠন ও আমার নেতা। এই জাতি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারিয়েছি। শিবুদার মাঝে রাজনীতি নিয়ে কোনো ক্লান্তি ছিলেন না। উনি আমাদেরকে হাতে পোস্টার বানিয়ে দিতেন। আমরা পুরো শহর সেই পোস্টার বিলিয়ে দিতাম। এমন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে কুমিল্লার মানুষ হারিয়েছে। যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাস থাকবে, ততদিন এই জাতি উনাকে স্মরণ করবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় শিবুদার সহযোগী ছিলাম। আমরা গর্বিত যে, শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।

সাহিত্যিক ও গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, তিনি একজন সৎ ও মিশুক মানুষ ছিলেন। এমন মানুষ বিরল। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে উনাকে বিদায় জানিয়েছি। এই জাতি উনাকে আজীবন স্মরণ রাখবে।

আবৃত্তিজোট কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, শিব নারায়ণ দাসের নকশা করা পতাকা বাংলার আকাশে প্রথম উড়েছিলো। সেই শিব নারায়ণ দাস কুমিল্লার সন্তান। এটা আমাদের কুমিল্লাবাসীর জন্য গৌরবের ও অহংকার। তার শেষ বিদায়ে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় সহিত তাকে বিদায় জানিয়েছি।

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উনি একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। উনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পতাকা শিব নারায়ণ দাসের হাতেই হয়েছিলো। উনি কখনো নিজের জন্য ভাবে নি। উনিই প্রথম কুমিল্লার টাউনহল মাঠে পাকিস্তানের পতাকা পুড়েছিলো। আমরা সবার পক্ষ দাবি জানাই, শিব নারায়ণ দাসকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হোক।

পরে, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিব নারায়ণ দাসের সহধর্মিনী বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতশ্রী চৌধুরী বলেন, আমি ৫৫ বছর ধরে তার সঙ্গে ছিলাম। সেই যুদ্ধের সময়কাল থেকে। এই কুমিল্লা শিব নারায়ণ দাসের প্রাণের কুমিল্লা। শেষ সময় পর্যন্ত কুমিল্লাবাসী শিব নারায়ণ দাসের পাশে ছিলেন। আমরা কৃতজ্ঞ।

শিব নারায়ণ দাসের ছেলে আদিত্য অর্নব বলেন, আজকে আমার বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে যারা এখানে এসেছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার বাবা সবসময় চাইতেন, দুঃখ ও দূর্দশামুক্ত হয়ে এই দেশ যাতে সামনে এগিয়ে যাই। আমার বাবা দেশের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতেন। এই কারণেই, আমার বাবা মৃত্যুর পূর্বেই ওনার শরীর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দান করেন। আমি আমার বাবার আদর্শ লালন করে বড় হতে চাই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম পতাকার অন্যতম নকশাকার জাসদ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাসের শেষ বিদায়

Update Time : ০৮:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ,কুমিল্লা

ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাসের শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় কুমিল্লা টাউনহল প্রাঙ্গনে শিব নারায়ণ দাসের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ও কুমিল্লার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

আওয়ামী লীগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। পরে, একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোবার স্কাউট, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, উদিচি কুমিল্লা, কুমিল্লা সরকারী মহিলা কলেজ, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি, কুমিল্লা মহানগর কৃষকলীগ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা, পূর্বাশা-মধুমিতা ও কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর কুমিল্লা, যুব ইউনিয়ন, কুমিল্লা ক্লাব, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন ন্যাপ-গ্যারিলা পার্টি, জাকের হোসেন ফাউন্ডেশন, মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, বন্ধু ফোরাম কুমিল্লা, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, উনি মহান মুক্তিযোদ্ধার সংগঠন ও আমার নেতা। এই জাতি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারিয়েছি। শিবুদার মাঝে রাজনীতি নিয়ে কোনো ক্লান্তি ছিলেন না। উনি আমাদেরকে হাতে পোস্টার বানিয়ে দিতেন। আমরা পুরো শহর সেই পোস্টার বিলিয়ে দিতাম। এমন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে কুমিল্লার মানুষ হারিয়েছে। যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাস থাকবে, ততদিন এই জাতি উনাকে স্মরণ করবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় শিবুদার সহযোগী ছিলাম। আমরা গর্বিত যে, শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।

সাহিত্যিক ও গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, তিনি একজন সৎ ও মিশুক মানুষ ছিলেন। এমন মানুষ বিরল। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে উনাকে বিদায় জানিয়েছি। এই জাতি উনাকে আজীবন স্মরণ রাখবে।

আবৃত্তিজোট কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, শিব নারায়ণ দাসের নকশা করা পতাকা বাংলার আকাশে প্রথম উড়েছিলো। সেই শিব নারায়ণ দাস কুমিল্লার সন্তান। এটা আমাদের কুমিল্লাবাসীর জন্য গৌরবের ও অহংকার। তার শেষ বিদায়ে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় সহিত তাকে বিদায় জানিয়েছি।

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উনি একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। উনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পতাকা শিব নারায়ণ দাসের হাতেই হয়েছিলো। উনি কখনো নিজের জন্য ভাবে নি। উনিই প্রথম কুমিল্লার টাউনহল মাঠে পাকিস্তানের পতাকা পুড়েছিলো। আমরা সবার পক্ষ দাবি জানাই, শিব নারায়ণ দাসকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হোক।

পরে, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিব নারায়ণ দাসের সহধর্মিনী বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতশ্রী চৌধুরী বলেন, আমি ৫৫ বছর ধরে তার সঙ্গে ছিলাম। সেই যুদ্ধের সময়কাল থেকে। এই কুমিল্লা শিব নারায়ণ দাসের প্রাণের কুমিল্লা। শেষ সময় পর্যন্ত কুমিল্লাবাসী শিব নারায়ণ দাসের পাশে ছিলেন। আমরা কৃতজ্ঞ।

শিব নারায়ণ দাসের ছেলে আদিত্য অর্নব বলেন, আজকে আমার বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে যারা এখানে এসেছেন সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার বাবা সবসময় চাইতেন, দুঃখ ও দূর্দশামুক্ত হয়ে এই দেশ যাতে সামনে এগিয়ে যাই। আমার বাবা দেশের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতেন। এই কারণেই, আমার বাবা মৃত্যুর পূর্বেই ওনার শরীর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দান করেন। আমি আমার বাবার আদর্শ লালন করে বড় হতে চাই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম পতাকার অন্যতম নকশাকার জাসদ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর।